আজ সে সফল

0
45

আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে হয়েছেন সফল পাশাপাশি সমাজকেও করেছেন আলোকিত! এমন সফল ব্যক্তিদের একজনের সাথে আজ আমরা পরিচিত হবো।

মো মজিবুর রহমান খান,  জন্ম ১৯৬১ সালে দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত খাঁন বংশে।  পিতা মৃত আ: লতিফ খান ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক,  মাতা মৃত মোসা:  সখিনা বেগম ছিলেন একজন গৃহিনী।  তাদের চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে মজিবুর রহমান তৃতীয়।  বড় ভাই মৃত মো শাহজাহান খান ছিলেন পাট গবেষনার ১ম  শ্রেনীর কর্মকর্তা, মেঝো ভাই আব্দুল ওহাব খান পটুয়াখালী বিঙ্গান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরীরত,  ছোটো ভাই আব্দুল হালিম খান সরকারি জনতা কলেজে কৃষি শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক।

ছোটোবেলা থেকেই মজিবুর রহমান  অত্যন্ত চঙ্চল ও মেধাবী ছাত্র হিসাবে সুক্ষ্যতি ছিল।   এসএসসি ও এইচসিতে ১ম বিভাগে উত্তীর্ন হবার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞান বিষয়ে ভর্তী হন।   পরবর্তিতে পটুয়াখালী কৃষি কলেজে ভর্তী হবার সুযোগ পেলে সেখান থেকেই কৃষি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন।   এরপর ইপসা (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে) এম এস প্রোগ্রামে ভর্তী হন।   পারিবারিক কারনে এমএস শেষ না করেই চলে আসেন এবং ২০০৮ সালে পটুয়াখালী বিঙ্গান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ থেকে এমএস ডিগ্রী অর্জন করেন (সিজিপিএ ৩.৮৯ সহ ১শ্রেনীতে ১ম স্থান)।

গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে ১৯৮৮ সালে জনতা ডিগ্রী কলেজে(জাতীয়করনের পর বর্তমানে সরকারি জনতা কলেজ) কৃষি শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন।   কৃষি বিষয়ে গবেষনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতীক স্বীকৃত  গবেষনা পত্রে তার একাধিক গবেষনাপত্র ও রয়েছে।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ -২০১৬ এ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনি সেরা শিক্ষক নির্বাচিত হন এবং পদক প্রাপ্ত হন।  এছাড়াও  দুমকি উপজেলার “দূর্নিতী প্রতিরোধ কমিটির” সফল ভাবে সহ-সভাপতি ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় ২০১৫ সালে গুনীজন সম্মাননা -১৫ প্রাপ্ত হন।
দুমকি উপজেলার রূপকার জনাব এম কেরামত আলী সাহেব এর (সাবেক মন্ত্রী ও মন্ত্র পরিষদ সচিবের) আস্থাভাজন হওয়ায় দুমকির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সাথে তার অবদান অনস্বীকার্য।   এছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করেছেন।

ব্যক্তিজীবনেও অত্যন্ত সুখি মানুষ তিনি, তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে।   বড় মেয়ে লাইব্রেরি সাইন্সে এমএ শেষ করে বর্তমানে জনতা কলেজে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কর্মরত,  মেঝো মেয়ে বর্তমানে এমএ অধ্যয়নরত।   একমাত্র ছেলে পটুয়াখালী বিঙ্গান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন ও এমএস শেষ করে বর্তমানে এম এম ইস্পাহানী লি. এ বৈঙ্গানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।   ছোটো মেয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ এ এমবিবিএস ৪র্থ বর্ষে অধ্যয়নরত।   স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে অত্যন্ত সুখি জীবন জাপন করছেন তিনি।

বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে তিনি সবসময়ই প্রথম সারিতে থাকার চেষ্টা করেন।   শিক্ষকতা পেশায় থাকার মাধ্যমে হাজারো দরিদ্র মেধাবী তরুনদের নিজ সন্তানদের মতো ভালোবেসেছেন, সামনে আগানোর পথ তৈরী করে দিয়েছেন।   যাদের অনেকেই আজ সমাজে প্রতিষ্ঠত হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন।  এলাকার মানুষও তাকে শ্রদ্ধা করেন।   বিভিন্ন সমস্যায় ও গ্রাম্য শালিস-মিমাংসায় ন্যায়পরায়ণতার দরুন সবাই তাকে একজন সাদা মনের মানুষ হিসেবেই জানেন।    ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে আলো ছড়ানো মানুষগুলো বেচে থাকুক, এদের হাত ধরে এগিয়ে যাক সমাজ।
সংগৃহীত
আপনাদের যদি কোন  ব্যাক্তির  সফল হওয়ার গল্প জেনে থাকেন উক্ত গল্প  আমাদের  লিখে পাঠান
info@somoyerbibortan.com ঠিকানাই
আমরা প্রচার করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here