আপনি কতটা ডায়বেটিস ঝুকিতে

0
106

 

হেলথ ডেস্ক
রক্তে গ্লুকোজ বা সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তাকে ডায়বেটিস রোগ বলে। পৃথিবীতে মানব মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম। বিশ্ব ¯^াস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীতে বর্তমানে ডায়াবেটিস এ অক্রান্ত রোগীর হার শতকরা ৮ ভাগ। এটা ২০৩০ সাল নাগাদ শতকরা ১০ ভাগে পৌঁছে যেতে পারে। বাংলাদেশে প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে ১ জন ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত। সাধারণত পরিবারের কোন সদস্যের এ রোগ থাকলে বংশানুক্রমিকভাবে অন্য সদস্যরাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া বিশৃংখল জীবন যাপন, অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, পরিশ্রম বিমুখতা, অনিয়ন্ত্রিত ও অ¯^াস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এই রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে বড়িয়ে দেয়।চলুন ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো জেনে নেই-
ডায়াবেটিসের লক্ষণ:
১। বারবার প্র¯্রাব করা, বিশেষ করে প্র¯্রাবের কারণে রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া।
২। অতিরিক্ত পানির তৃষ্ণা পাওয়া ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া।
৩। ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া।
৪। কোন কারণ ছাড়াই হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া।
৫। সামান্য পরিশ্রমেই ক্লান্তি ও অবসাদ বোধ হওয়া।
৬। কোন কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া ও মনোসংযোগে চিড় ধরা।
৭। হাতে অথবা পায়ে অসাড়তা অনুভব করা বা শির শির করা।
৮। চোখে ঝাপসা দেখা।
৯। বারবার সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়া।
১০। শরীরের যেকোন ক্ষত শুকাতে দেরী হওয়া।
১১। মাঝে মাঝেই বমি বা পেট ব্যাথা হওয়া যা অনেক সময় খাদ্যনালীর রোগ মনে করে ভুল হতে পারে।
উল্লেখিত উপসর্গগুলোর মধ্যে যে কোন এক বা একাধিক উপসর্গ দেখা দিলে বিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। যথাসময়ে সঠিক পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ সনাক্ত করে যথাপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

শিশুদের ডায়রিয়া
ডায়রিয়া বাচ্চাদের খুব পরিচিত একটা রোগ। এই সময় রোগটির প্রকোপও বেশি। ডায়রিয়া মূলত খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ। অর্থাৎ খাবার ও পানির মাধ্যমে জীবাণু শরীরের ভেতর প্রবেশ করে। ডায়রিয়া সাধারণত তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। ডায়রিয়ার সবচেয়ে বড় জটিলতা হচ্ছে পানিশূন্যতা। পানিশূন্যতা হলে শিশু দুর্বল হয়ে পড়ে, এমনকি শিশু মারাও যেতে পারে। ডায়রিয়া সাধারণত তিন ধরনের। যেমন:
১. একিউট ওয়াটারি ডায়রিয়া (অপঁঃব ডধঃবৎু উরধৎৎড়যবধ): পাতলা পায়খানা যদি ১৪ দিনের কম স্থায়ী হয় এবং পায়খানার সাথে কোন রক্ত না যায়।
২. পারসিসটেন্ট ডায়রিয়া (চবৎংরংঃবহঃ উরধৎৎড়যবধ): পাতলা পায়খানা ১৪ দিনের বেশি স্থায়ী হলে।
৩. ডিসেন্ট্রি (উুংবহঃবৎু): রক্তমিশ্রিত পায়খানা।
চলুন জেনে নেয়া যাক একিউট ওয়াটারি ডায়রিয়া (অপঁঃব ধিঃবৎু উরধৎৎযবধ) বা সাধারণ পাতলা পায়খানার লক্ষণ ও হলে কি করণীয়।
কোন শিশুর দিনে ৩ বারের অধিক পাতলা পায়খানা হলে এবং পায়খানার সাথে কোন রক্তমিশ্রিত না থাকলে তা সাধারণ পাতলা পায়খানা হিসাবে ধরে নিতে হবে। এর কারন প্রধানত রোটা ভাইরাস, ঊ. পড়ষর বা ঠরনৎরড় পযড়ষবৎধব ব্যাকটেরিয়া। এ সময় পাতলা পায়খানার সাথে শিশুর হালকা জ্বর ও বমি থাকতে পারে।
বিপদজনক লক্ষণ:
ডায়রিয়ার কিছু বিপদজনক লক্ষণ আছে যা সবার জানা প্রয়োজন। এর কোন একটা লক্ষণ দেখামাত্র চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে। লক্ষণগুলো হচ্ছে-
১. শিশুর নিস্তেজ হয়ে পড়া, ২. চোখ বসে যাওয়া, ৩. বুকের দুধ টেনে খেতে না পারা, ৪. অন্য কোন তরল খাবার না খাওয়া বা খুব কম পরিমানে খাওয়া, ৫. বারবার বমি করা।
করণীয়:
১. ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুর শরীর থেকে পানি বের হয়ে যাওয়ায় পানিশূন্য হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। ফলে শিশুকে বারবার তরল খাবার যেমন: ডাবের পানি, চিড়ার পানি, ভাতের মাড়, টক দই ও লবণ-গুড়ের শরবত ইত্যাদি বেশি করে খেতে দিতে হবে।
২. তরল খাবারের পাশাপাশি খাওয়ার স্যালাইন দিতে হবে। শিশুর ওরস্যালাইন এর পরিমান হচ্ছে, প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর ২৪ মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য ৫০-১০০ মিলি, ২-১০ বছর বয়সী শিশুর জন্য ১০০-২০০ মিলি এবং ১০ বছর এর অধিক বয়সীদের জন্য চাহিদা অনুযায়ী।
৩. যারা বুকের দুধ খায় তাদেরকে বারবার বুকের দুধ দিতে হবে।
৪. শিশু যদি বমি করে তাহলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার খাওয়াতে হবে।
৫. তাজা ফলের রস দিলে পটাশিয়াম এর ঘাটতি পূরণ হবে।
৬. ডায়রিয়া ভাল হয়ে গেলেও পরবর্তী ২ সপ্তাহ শিশুকে এরকমভাবে বাড়তি খাবার প্রতিদিন দিতে হবে।
৭. চিকিৎসক এর পরামর্শ ব্যতীত কোন অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোন ওষুধ শিশুকে খাওয়ানো যাবে না (যেটা অনেক বাবা মা করে থাকেন)।
মনে রাখতে হবে, ডায়রিয়াজনিত পানিশূন্যতার কারনে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুর হার এখনো অনেক বেশি। কিছু সামাজিক কুসংস্কারের কারনে আক্রান্ত শিশুকে সঠিক ভাবে পরিচর্যা করা হয় না বলেই আমাদের দেশের চিত্রটা এমন। কিন্তু সঠিক জ্ঞান থাকলে ঘরে থেকেই ডায়রিয়া জনিত পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here