কাক খোকন দাস গত সংখ্যার পর

1
402

এই পরিস্থিতিতে কী সমীচীন কী সমীচীন নয় দ্বিধাগ্রস্ত সমবেত সকলে নিয়ামত ফকিরের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এই প্রত্যাশায় যে, নিয়ামত ফকির সমুচিত কিছু একটা বলবে। কিন্তু নিয়ামত ফকির যে কাণ্ডটা করে সেটা কেবল নিয়ামত ফকিরের পক্ষেই করা সম্ভব; এতোক্ষণ দুই হাঁটুর মধ্যে মাথা গুঁজে বসেছিল। হাঁটু থেকে মাথা তুলে কোটরাগত চোখজোড়া যতো দূর সম্ভব বিস্ফোরিত করে সমবেতদের একবার দেখে নেয়। সহসা কী মনে করে সোজা উঠে দাঁড়ায়, এরপর লুঙ্গি উঁচু করে সবার মাঝখান দিয়ে হনহনিয়ে বেরিয়ে যায়। নিয়ামতের আচরণে অনেকেই ক্ষুণœ হয়, কোম্পানির লোকগুলো হয় বিব্রত। নিয়ামত ফকিরের এইভাবে প্রস্থান অতিশয় বাড়াবাড়ি; কাক ধরে বিক্রি করার প্রস্তাবে তারা দ্বিধাšি^ত, তাই বলে লুঙ্গি তুলে চলে যাওয়া কোনভাবেই শোভন হয়নি। অবশ্য এই জন্যই নিয়ামত ফকির নিয়ামত ফকির, কখন কী বলবে কী করবে তার কোন ঠিকঠিকানা নেই।
এরপর সমবেতদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় রতন ছেলেটার দিকে; রতন ছেলেটা বিশিষ্ট কেউ নয়, তবে বিশিষ্ট হয়ে উঠছিল প্রায়। একটা মাল্টিল্যাভেল কোম্পানিতে ঢুকে ভাগ্যবদলের সিঁড়ি বেয়ে অনেক দূর উঠলেও শেষতক হোঁচট খেয়ে একেবারে নিচে পড়ে যায়; বলতে গেলে খাদে পড়ে যায়। শার্ট-প্যান্ট-টাই পরে কেতাদুরস্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায় আর কালো মলাটের ডাইরিতে কিসব লিখে যায় মনের খেয়ালে। তবু লোকজন রতনকে সমীহ করে, রতন কোন একদিন আবার জ¦লে উঠবে বলে বিশ^াস করে। কেননা রতন বাড়িতে ঘর পাকা করবে বলে ইট এনে স্তূপ করে রেখেছিল সেটা তো মিথ্যা নয়, কখনোসখনো দোকানে বসলে পকেট ঝেড়ে যে খরচ করতো সেটাও অ¯^ীকার করা যায় না। কিন্তু রতন কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় না।
পরদিন সকালে মগবুলের দোকানে চায়ে চুমুক দিতে দিতে অমূল্যকে উদ্দেশ করে হযরত আলী বলে, ‘অমূল্যদা চলেন কাউয়া বেচি; যে দিনকাল পড়ছে সত্যি সত্যি কাউয়াই বেচন লাইগবো।’
সকালবেলা চা-পরোটা খেতে নূরুর বাপ, সোলাইমান, কুদ্দুস, পরিমলের বাপ আরো অনেকে এসেছে মগবুলের দোকানে। আগের দিন সন্ধ্যায় বিদেশি চেহারার কোম্পানির লোকটার কথা শোনার পর বিষয়টা নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছে সে। তার বিবেচনায় ব্যবসাটা মন্দ নয়, কোন পুঁজি লাগবে না, বিক্রি নিয়ে ঝক্কি-ঝামেলা নেই। ক্রেতা তৈরি কেবল ধরোÑ বেচো আর পকেটে টাকা ভরো। বাধা একটাই, লোকে কী বলবে। আসলে আলতো করে কথাটা মজলিশে ছেড়ে দিয়ে দশজন কিভাবে বিষয়টা দেখছে একটু বাজিয়ে নিতে চায় হযরত।
এর মধ্যে কখন যে নিয়ামত ফকির দোকানে ঢুকে কোনের দিকে চুপচাপ বসে আছে তা হযরত খেয়ালই করেনি; না হলে সে কথাটা তুলতোই না। এই শালার ব্যাটা শালা নিয়ামত আগাগোড়া একটা বজ্জাত, সবকিছুতেই একটা বাগড়া দেয়ার ¯^ভাব। পাগলটাগল কিছু না, একটা সাক্ষাৎ শয়তান। সব ব্যাপারে তোর নাক গলাতে হবে কেন?
অমূল্য কিছু একটা বলতে যাবে এ সময় জামাই মফিজ বলে ওঠে, ‘বিদেশিদের মাথায় আল্লায় কত বুদ্ধি দি”ে, কাউয়ার মাংস দিয়ে হেতেরা মেডিসিন বানাইবো, পরে সেই মেডিসিনই আমগো কাছে চড়া দামে বেইচবো।’
সোলাইমান বলে,‘ কাকা, মনে হয় বিদেশিরা কাউয়ার স্যুপ খাইবো।’
সোলাইমানের কথা শুনে খেপে যায় জামাই মফিজ, রাগের চোটে তোতলাতে তোতলাতে সে বলে,‘ দেখলা জিনিসটারে ক্যামনে হালকা করে দিল। সবকিছু নিয়ে তামাশা করা ঠিক না, আমি কইতেছি কি আর এই পোলা কয় কি..।’
‘পোলাপানের কথায় কান দিও না জামাই, তুমি কী বইলতেছ সেটা বল।’ Ñ অনিলের এমন কথায় মফিজের রাগ কমে এলেও কথার খেই আর খুঁজে পায় না।
‘থাক আর কি বলবো, মান্যগণ্য না থাকলে কথা বলে কী লাভ।’
অন্য আর একজন কী যেন বলতে যাচ্ছিল এমন সময় হঠাৎ শরীরটাকে যতোটা সম্ভব পিছনের দিকে বাঁকিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নিয়ামত বলে, ‘তোমগো ফাঁদে পড়ার ইচ্ছা হইছে ফাঁদে পড়, আমার কী। আমার কথা কী শুনবা, শুনবা না।’ এই বলে একদলা থুতু ফেলে অভ্যাসবশত লুঙ্গি তুলতে তুলতে হনহনিয়ে বেরিয়ে যায় নিয়ামত ফকির।
পরের শনিবার বিকেলে সাদা চকচকে একটা গাড়ি এসে থামে মগবুলের দোকানের সামনে। এই গাড়ি আগমনের কারণ আগেই জানা ছিল; তাই মগবুলের দোকানে অনেকে অপেক্ষায় ছিল; আশপাশে যারা ছিল তারাও ভিড় করতে থাকে। ড্রাইভার দরজা খুলে দিতেই হালকাপাতলা ফরসা দুটো লোক বেরিয়ে আসে, সঙ্গে বেঁটে করে একটা লোক। একেবারে সামনে পাশাপাশি রাখা দুটো হাতলওয়ালা প্লাস্টিকের চেয়ারে লোক দুটা বসে সবার জন্য চায়ের অর্ডার দেয়, তাদের খোঁজখবর নেয়, গ্রামের হালচাল জানতে চায় কিন্তু একবারও কাকের প্রসঙ্গ তোলে না। এতে ভিতরে ভিতরে অসস্থিরতা বাড়তে থাকে। আরো কিছু সময় দেশি-বিদেশি নানা প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা শেষে কোম্পানির লোক দুটো চেয়ার ছেড়ে গাড়িতে ওঠার জন্য উদ্যত হয়। এ সময় ঘটনাটা ঘটে আকস্মিকভাবে; রতন একজোড়া কাক নিয়ে কোত্থেকে এসে হাজির। লম্বামতো লোকটা কাকজোড়া প্রায় ছো মেরে নিয়ে গাড়িতে রাখা খাঁচায় পুরে দিয়ে রতনের হাতে দুটো কড়কড়ে পাঁচশ টাকার নোট গুঁজে দিয়ে ‘থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ, তোমাকে দিয়ে হবে’ বলতে বলতে গাড়ির গহŸরে ঢুকে পড়লে ধুলা উড়িয়ে গাড়িটা ছুটতে থাকে।
এ সময় রতনের রঙিন টাইটা বাতাসে উড়তে থাকে। রতনকে নিয়ে যাদের আত্মবিশ^াস একেবারে তলানিতে ঠেকেছে তারাও নড়েচড়ে বসেÑ না, ছেলেটা আবার ঘুরে দাঁড়াবে, এই ছেলে দমে যাওয়ার ছেলে না।
হযরত আলী ভাবে, যে কাজটা নিয়ে ভেবে ভেবে অস্থির সে কাজটা কত সহজেই রতন করে দেখাল; সে ঈর্ষা করে রতনকে।
বলতে গেলে সবার চোখ খুলে দেয় রতন। পরবর্তী দুই সপ্তাহে পুরো গ্রাম কাকশূন্য হয়ে পড়েলে গ্রামের লোকজনের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এ সময় কে যেন বলেলো, পাশ^বর্তী বৈরাগীর বাজার, চিলোনিয়া, মাতুভূঞা, তুলাতুলি, বাঁকের বাজারে কবুতর, হাঁস, মুরগির পাশাপাশি কাক বিক্রি হচ্ছে। তবে সমস্যা একটাই, দাম চড়া। কিন্তু কোম্পানির লোকজন যেখানে আরো চড়া দাম দিতে প্রস্তুত সেখানে দাম বেশি নিয়ে ভাবার সময় কোথায়? তবে মুশকিল হচ্ছে, এইসব বাজারে ওঠা কাকও দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যায়, চড়া দামে কাক কিনে আরো চড়া দামে কোম্পানির কাছে বিক্রি করায় সবার পকেটে কাঁচা টাকা। টাকা টাকা টাকা; পুরো গ্রামের বাতাসে এখন টাকার গন্ধ। কাঁচা টাকার যে এমন একটা নেশা থাকতে পারে লোকগুলো এর আগে কখনোই বুঝেনি। গ্রামসুদ্ধ মানুষগুলোকে টাকার নেশায় পেয়ে বসেছে। সবার চোখে মুখে হাসির ঝিলিক। সবচেয়ে বেশি খুশি মগবুল, সে কাক নিয়ে ভাবে না, সে ভাবে মানুষ নিয়ে; লোকজনের পকেটে যে দুচারটা কাঁচা পয়সা এসেছে এর প্রভাব দেখতে পায় ক্যাশ মিলানোর সময়। এই মরা কার্তিকে গ্রামের লোকজনের ভাগ্য সুপ্রসন্ন, তারা চেয়ারম্যানের দীর্ঘায়ু কামনা করে, আর নিয়ামত ফকিরকে অভিশাপ দেয়।
আশপাশের বাজারগুলোতে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে সবাই কিন্তু কোন বাজারেই কাকের নাম-গন্ধ নেই। কেউ কেউ আরো দূরের বাজার যেমন, ফাজিলের ঘাট, জয়লঙ্কর, সেবারহাট, সেনবাগ এইসব বাজারেও গোপনে খুঁজে আসে। কিন্তু কাকের সন্ধান মেলে না। এদিকে কোম্পানির লোকজন কয়েক দফা ফিরে যায় শূন্য হাতে, দাম আরো কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়ার প্রস্তাবেও কাকের জোগান দিতে না পারায় ছটফট করে ভিতরে ভিতরে।
এরও কিছু দিন পর আশপাশের বাজারগুলোতে কাক উঠছে ঠিকই, তা উঠছে একটা দুইটা করে। দাম অত্যধিক চড়া; এতোদিনের মুনাফার সবটা ঢেলে দিয়েও কাক স্পর্শ করা যাচ্ছে না। কেউ কেউ বাক্সপেটরায় লুকিয়ে রাখা বউয়ের সামান্য গয়নায় হাত বাড়ায়, বউ অবশ্য এতে বাধা দেয় না। মাত্র কয়েকটা দিনেরই ব্যাপার; চোখের সামনে বিরাট একটা সম্ভাবনা দৃশ্যমান, বাধা দেবে কিভাবে? কেউ কেউ হালের গরু বেচে দিয়েছে অতি গোপনে; শুধু বসিয়ে বসিয়ে খাইয়ে কী লাভ? হাতে কাঁচা টাকা থাকলে আরো দ্বিগুণ তাগড়া গরু কিনতে কতোক্ষণ।
এর মধ্যে আরো কয়েক দফা কোম্পানির গাড়ি এসে ঘুরে গেছে শূন্য হাতে। মজুদদারীর ব্যাপারটা লোকগুলো ইতিমধ্যে ভালোই রপ্ত করেছে, আরো বেশি দামের আশায় কেউ আর কাক হাতছাড়া করছে না। সবার ঘরে ঘরে কাক। কাকের কর্কশ গলা কোকিলের গলার চাইতেও মধুর মনে হতে থাকে কারো কারো কাছে। কাকের দিকে তাকিয়ে পুচ্ছধারী ময়ূরের সৌন্দর্য দেখতে পায় তারা। এক দুই সপ্তাহ যেতে না যেতে তাদের মাথায় এলো কাক বেচতে না পরলে পকেটে কাঁচা টাকা আসবে কিভাবে? তারা আবার কাক বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়; কিন্তু কোম্পানির লোকজন আর আসে না। লোকগুলো অধীর অপেক্ষায় থাকে, সামান্য একটা মটরগাড়ির শব্দে গ্রামসুদ্ধ লোকজন কান খাড়া করে থাকে এই বুঝি গাড়ি এলো। কিন্তু না, গাড়ি আর আসে না। অনেক প্রতীক্ষার পর তারা বুঝলো কোম্পানির গাড়ি আর আসবে না; তবু তারা অপেক্ষা করে গাড়ির জন্য।
এদিকে ঘরে ঘরে কাকের খাদ্যের জোগান দিতে গিয়ে নিজেদের খাবারে টান পড়েছে; কাকের খাবারও ঠিকমতো জুটছে না। ক্ষুধায় কাকগুলোর হয়ে উঠেছে বেপরোয়া, একরোখা; তীব্র চিৎকার-কা কা কা কা কা। পারলে কাকগুলো ঠুকরে চোখ তুলে নেয়, অন্যদিকে কাকের চিৎকারে দিশেহারা ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষও উত্তেজিত, তারা পারলে শক্ত হাতে গলা চেপে ধরে।
গ্রামসুদ্ধ লোকজনের জীবন যখন ঘোরতর অনিশ্চয়তা, বিভ্রান্তি ও উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল সে সময় খবরটা আসে বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো। কেউ একজন তাদেরকে খবরটা দেয় যে, নিয়ামত ফকির গুম হয়ে গেছে। ‘গুম’ শব্দটা অনেক ছোট হলেও তাদের কাছে আঘাত ছিল অনেক বড়। এই সময় তারা গভীরভাবে বিশ^াস করে যে, গোটা গ্রাম একটা অশুভ শক্তির খপ্পরে পড়ে গেছে, এখান থেকে বের হওয়া অতো সহজ হবে না; বড় ধরনের মাশুল গুনতে হবে। ভয়ে প্রতিটা লোকের চোখ-মুখ এমন শুকিয়ে যায় যেন এক একজন জেল খাটা কয়েদি।
এই রকম একটা ভয়ার্ত পরিবেশে অনেকে কাক ছেড়ে দিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। কয়েক দিনের মধ্যে দেখাদেখি সবাই কাক ছেড়ে দেয়, কাকগুলো মুক্তির ¯^াদ পেয়ে তীব্র চিৎকার করতে করতে কোন দিকে যেন চলে যায়। এদিকে সবাই কাক ছেড়ে দিলেও রতন ছাড়ে না। লোকজন অনুনয়ের ¯^রে বলে, ‘রতন, কাকগুলো ছেড়ে দে বাপ, গাড়ি আসবে না। না খেয়ে খেয়ে কাকগুলো মরে যাবে। কাক মরলে পাপ হবে, গ্রামের অমঙ্গল হবে, তখন তুইও মরে যাবি। সোলাইমান ফকির কিভাবে হারিয়ে গেল তুই জানিস না?’
রতন কারো কথায় কান দেয় না, সে গাড়ির অপেক্ষায় থাকে আর উপরে ওঠার ¯^প্ন দেখে।
সেদিন ভোরে গ্রামবাসীর ঘুম ভাঙে শতসহ¯্র কাকের তীব্র চিৎকারে; কাকের এমন চিৎকার তারা কোন দিনই শোনেনি, তাই তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। এই গ্রামের ওপর দিয়ে একটা বিশ্রী রকমের ঝড় বয়ে যাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার, তার ধরন যে চেহারারই হোক না কেন এই বিষয়ে মোটামুটি সবাই একমত ছিল। সেরকম কিছু একটা যে এতো তাড়াতাড়ি ঘটবে সেটা ছিল তাদের হিসাবের বাইরে। কাকগুলো জোট বেঁধেছে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য। ক্রোধান্ধ কাকগুলো ঠুকরে ঠুকরে শরীরের চাক চাক মাংস তুলে নেবে, ধারালো নখরে উপড়ে নেবে চোখ। ভয়ে চোখ-মুখ শুকিয়ে যাওয়া লোকগুলো ঘর থেকে বেরিয়ে দেখে ভূঞাদের ছাড়াবাড়ির পেছনে যে অশ^ত্থ গাছটা বিরাট বিরাট হাত-পা ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার ওপরে ঝাঁকে ঝাঁকে কাক চক্কর খাচ্ছে, আর বিকট চিৎকার করে যাচ্ছে-কা-কা-কা-। দিকবিদিক-জ্ঞানশূন্য হয়ে লোকগুলো সেদিকেই দৌড়াতে থাকে কিসের যেন টানে।
রতন পড়ে আছে উপুড় হয়ে, অশ^ত্থ গাছের নিছেÑ পরনে কালো প্যান্ট, হালকা আকাশি রঙের শার্ট, কালো চকচকে স্যু, ডোরাকাটা টাইটা বুকের একপাশ দিয়ে বেরিয়ে আছে জবাই করা পশুর নিথর জিহŸার মতো। শক্ত করে খাঁচা ধরে আছে রতন; তবে খাঁচার কাকগুলো তার মতোই নিথর।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here