সৌরজগতে নবম গ্রহের সন্ধানের দাবী

0
137

সৌরজগতে পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি ভরের একটি সম্ভাব্য নতুন গ্রহের সন্ধান পাওয়ার দাবী করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। গবেষকরা সম্ভাব্য ঐ গ্রহটির নাম দিয়েছেন ‘প্ল্যানেট নাইন’। ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির (নাসা) বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঐ গ্রহটি নেপচুন গ্রহ থেকে শত-শত কোটি মাইল দূরের একটি কক্ষপথে পরিভ্রমণ করছে। কম্পিউটার মডেল থেকে তারা এই তথ্য দিচ্ছেন ।
মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষায়, তারা খুব শক্তিশালী প্রমাণাদি পেয়েছেন যার দ্বারা বলা যায় যে এই সৌরজগতে একটি নবম গ্রহ রয়েছে। এবং বামন গ্রহ প্লুটো থেকেও এর অবস্থান অনেক অনেক দূরে।
ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বা ক্যালটেকের একটি গবেষক দল এসব তথ্য তুলে ধরছে। তবে তারা বলছে, গ্রহটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করার মতো কোন সরাসরি পর্যবেক্ষণ এখনো পর্যন্ত করা হয়নি। তবে সৌরজগতের দূরবর্তী বিভিন্ন বস্তুর চলাচল বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। যদি প্রমাণ হয় তবে ঐ গ্রহটি হবে পৃথিবীর চাইতেও ১০ গুণ বড়।
যদিও কম্পিউটার মডেলের ওপর ভিত্তি করে এখনো পর্যন্ত এই দাবী করা হচ্ছে, তবে এই গবেষণার একজন প্রধান বিজ্ঞানী, কনস্টানটিন বেটিজেন বলেন এই গ্রহের অস্তিত্বের বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী। ‘‘গত ২০ বছরে সৌরজগতের বাইরে গ্রহের অনুসন্ধানে আমরা বেশ সফল হয়েছি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে সাধারণ যে গ্রহগুলো রয়েছে সেগুলো আমাদের পাওয়া বস্তুর মতোই, যার ভর প্রায় ১০ টি পৃথিবীর সমান। এটি বেশ উত্তেজনার।”
গবেষকদের হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে সূর্যের থেকে সবচেয়ে দূরে থাকা গ্রহ নেপচুনের চেয়েও ২০ গুণ দুরের কক্ষপথ দিয়ে চলাচল করছে নতুন এই গ্রহটি। সৌরজগতের অষ্টম গ্রহ নেপচুনের দূরত্বও সূর্য থেকে প্রায় সাড়ে চার’শ কোটি কিলোমিটার দুরে।
সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহ প্রায় বৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করলেও, সম্ভাব্য এই গ্রহটি প্রদক্ষিণ করছে অনেক বেশি উপবৃত্তাকার পথে এবং সূর্যকে একবার পুরো প্রদক্ষিণ করতে এর সময় লাগে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার বছর।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সৌরজগতের শেষ প্রান্তে অবস্থিত কুইপার বেল্টের ৬টি মহাজাগতিক বস্তু, নেপচুন থেকে বাইরের দিকে বিস্তৃত বরফের একটি অংশ সব কিছুই একটি নির্দিষ্ট দিকের কক্ষপথ লক্ষ্য করে এগোচ্ছে।
সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার জন্য যে কক্ষপথে ঘোরে গ্রহগুলো, সেই কক্ষপথ থেকে প্রায় ৩০ ডিগ্রি নিচে ঝুঁকে রয়েছে ওই কক্ষপথটি। নবম গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ এতটাই, গত কয়েক হাজার বছরে আমাদের সৌরমণ্ডলের গ্রহগুলো কিছুটা ঝুঁকিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
বেটাইজিন আরও বলছেন, কুইপার বেল্ট থেকে যে মহাজাগতিক বস্তুগুলো ছিটকে বেরচ্ছে বাইরে, সেগুলো নবম গ্রহের টানে ধ্বংস হয়ে গিয়ে ফের ছিটকে এসে নেপচুনের মাঝে অঞ্চলে মহাজাগতিক দূষণ ছড়াচ্ছে। তবে নবম গ্রহের সব তথ্যপ্রমাণই এখনও পরোক্ষ স্তরে আছে।
নতুন এই বস্তু বা গ্রহটি কোথায় হতে পারে সেসম্পর্কে ক্যালটেকের বিজ্ঞানীদের এখনো পর্যন্ত অস্পষ্ট একটি ধারণা রয়েছে। তবে এটি অনেকটা নিশ্চিত যে এখন ঐ গ্রহটিকে খুঁজে বের করার জন্য নতুন করে চেষ্টা শুরু হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here