বড়দিনের বিশেষ লেখা কোরআন-হাদীস এবং ইনজীল-এর আলোকে ‘বড়দিন’ এবং প্রাসঙ্গিক কথা এইচ. পিটার

0
439

বড়দিনের বিশেষ লেখা
কোরআন-হাদীস এবং ইনজীল-এর আলোকে ‘বড়দিন’ এবং প্রাসঙ্গিক কথা
এইচ. পিটার

প্রতি বছর ২৫শে ডিসেম্বর পালিত হয় ঈসায়ী তথা খ্রীষ্টানদের ‘বড়দিন’ উৎসব। সারা বিশে^ ঈসা মসীহের,অর্থাৎ যীশু খ্রীষ্টের অনুসারী খ্রীষ্টানগণ তাদের আরাধ্য প্রভু যীশু খ্রীষ্টের বাৎসরিক জন্ম উৎসব পালনকেই ‘বড়দিন’ বা ‘ঈযৎরংঃসধং’ বলেন। ‘বড়দিন’ যদি ঈসা মসীহের জন্মদিন পালনের আনন্দানুষ্ঠানই হয়, তাহলে ইসলামের অনুসারী মুসলমান ভাই-বোনদের কাছেও তো তা একটা আনন্দ-উৎসবের দিন হওয়া উচিৎ। কেননা ইসলামেও ‘ঈসা মসীহ’ মোটেও অপরিচিত অথবা সামান্য কেউ একজন মাত্র তো নন! কোরআনে আল্লাহ্ তাঁর সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন
“… তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে (অর্থাৎ পরকালে) সম্মানিত এবং (আল্লাহর) সান্নিধ্য প্রাপ্তগণের অন্যতম”।
সূরা (৩) আলে-ইমরান ঃ ৪৫ আয়াত।

প্রথমেই দেখা যাক, ‘ঈসা মসীহ’-এর এ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করবার বিষয়ে কোরআন কী জানাচ্ছে আমাদেরকে? খ্রীষ্টিয় বিশ^াস এবং ইসলামী ঈমান, এ উভয় মতানুসারেই ‘ঈসা মসীহ’ জন্মগ্রহণ করেছিলেন মরিয়ম নামের ই¯্রায়েল বংশীয় একজন কুমারী-কন্যার গর্ভে। ঐ মরিয়ম নাম্নী কুমারী-কন্যার গর্ভে ঈসা মসীহের আসবার পূর্বেই মহান খোদা তাঁর জন্মের অগ্রিম সুসংবাদটি জিবরাঈল (বা গাব্রিয়েল) নামক তাঁর একজন প্রধান ফিরিশ্তার মাধ্যমে মরিয়মকে জানিয়েছিলেন, এবং কোরআনের একাধিক সূরায় তা বিবৃত হয়েছে। জিব্রাঈল ফিরিশ্তা কুমারী কন্যা মরিয়মের নিকট এসে তাঁর গর্ভে ঈসা মসীহের জন্মের অগ্রিম সুসংবাদটি এভাবে জানিয়েছিলেন
 “হে মরিয়ম! আল্লাহ্ তোমাকে মনোনীত ও পবিত্র (অর্থাৎ গুনাহ-মুক্ত) করিয়াছেন এবং বিশ্বের নারীগণের মধ্যে তোমাকে মনোনীত করিয়াছেন।’ ‘হে মরিয়ম! নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাকে তাঁহার পক্ষ হইতে একটি কালেমার (অর্থাৎ বাক্য বা বাণীর) সুসংবাদ দিতেছেন। তাহার নাম মসীহ (অর্থ খ্রীষ্ট বা অভিষিক্ত), মরিয়ম-তনয় ঈসা (বা যীশু), সে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত এবং সান্নিধ্যপ্রাপ্তগণের অন্যতম হইবে। সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করে নাই, আমার সন্তান হইবে কীভাবে?’ তিনি বলিলেন, ‘এইভাবেই’, আল্লাহ্ যাহা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। তিনি যখন কিছু স্থির করেন তখন বলেন, ‘হও’ এবং উহা হইয়া যায়।”
Ñ সূরা (৩) আলে-ইমরান ঃ ৪২, ৪৫, এবং ৪৭ আয়াত।

কোরআনের সূরা মরিয়ম-এ ঈসা মসীহের জন্ম-সংবাদটি যেভাবে দেয়া হয়েছে, তা হল

“অতঃপর আমি তার (অর্থাৎ মরিয়মের) নিকট আমার রূহকে পাঠালাম। সে তার নিকট পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল। মরিয়ম বলিল, তুমি যদি আল্লাহ্কে ভয় কর, তবে আমি তোমা হতে দয়াময়ের স্মরণ নিচ্ছি। সে বলিল, ‘আমি তো কেবল তোমার প্রতিপালক প্রেরিত, তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করার জন্য। মরিয়ম বলল, ‘কেমন করে আমার পুত্র হবে যখন আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করেনি ও আমি ব্যভিচারিণীও নই? সে বলল, ‘এরূপই হবে।’ তোমার প্রতিপালক বলেছেন এ আমার জন্য সহজসাধ্য এবং আমি উহাকে এইজন্য সৃষ্টি করিব যেন সে হয় মানুষের জন্য এক নিদর্শন (অর্থ চিহ্ন, মুজিযা, বা অলৌকিক কাজ) ও আমার নিকট হইতে এক অনুগ্রহ (অর্থ আশীর্বাদ বা রহমত)। ইহা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার (অর্থাৎ এ ব্যাপারটি হঠাৎ করে ঘটে নি, কিন্তু বহু পূর্বেই আল্লাহ্ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন)।”

সূরা (১৯) মরিয়ম ঃ ১৭-২১ আয়াত।

উপরে কোরআন থেকে উদ্ধৃত আয়াতগুলো বিশ্লেষণ করলে আমরা যা পাই, তা হল Ñ
১) মরিয়ম না¤œী ই¯্রায়েলীয় ‘কুমারী কন্যার’ নিকট আল্লাহ্ তাঁর রূহকে পাঠিয়েছিলেন।
২) আল্লাহ্ বিশ্বের সকল নারীদের মধ্য থেকে একমাত্র ‘মরিয়ম’-কেই নির্বাচিত করলেন।
৩) আল্লাহ্ মরিয়মকে ‘পবিত্র’ অর্থাৎ ‘গুনাহ্-মুক্ত’ করলেন।
৪) মরিয়মের গর্ভেই ‘আল্লাহ্র কালেমা’ বা ‘আল্লাহ্র বাক্য’ মানব-পুত্র হয়ে জন্মগ্রহণ করবেন।
৫) ঐ মানব-পুত্রের নাম হবে ‘মসীহ’, মরিয়ম-পুত্র ‘ঈসা’।
৬) ‘আল্লাহ্র ঐ কালেমা হলেন একটি পবিত্র বা ‘গুনাহ্-মুক্ত পুত্র’।
৭) ঈসা মসীহ হলেন ‘মানুষের জন্য এক নিদর্শন’।
৮) ঈসা মসীহ হলেন ‘আল্লাহ্র নিকট হতে ‘মানুষের জন্য এক অনুগ্রহ’। এবং
৯) ঈসা মসীহের জন্মটি হঠাৎ করে নয়, কিন্তু পূর্ব থেকেই ‘আল্লাহ্র স্থির করা এক বিষয়।

এবারে দেখুন, বাইবেল-এর সুসমাচার অংশে অর্থাৎ ইনজীল-এ প্রভু যীশু খ্রীষ্টের, বা ঈসা মসীহের জন্মের অগ্রিম সুসংবাদটি কিভাবে গাব্রিয়েল দূত (বা জিবরাঈল ফিরিশতা) মরিয়মের নিকট প্রদান করলেন!
 “পরে ষষ্ঠ মাসে গাব্রিয়েল দূত ঈশ্বরের (অর্থাৎ খোদার) নিকট হইতে গালীল দেশের নাসরৎ নামক নগরে একটি কুমারীর নিকটে প্রেরিত হইলেন, তিনি দায়ুদ-কুলের যোসেফ নামক পুরুষের প্রতি বাগদত্তা হইয়াছিলেন (অর্থাৎ বিয়ের কথা-বার্তা হয়েছে, কিন্তু তখনও তাদের বিয়ে হয়নি); সেই কুমারীর নাম মরিয়ম। দূত (বা ফিরিশতা) গৃহমধ্যে তাঁহার কাছে আসিয়া কহিলেন, অয়ি মহানুগৃহীতে, মঙ্গল হউক; প্রভু তোমার সহবর্ত্তী। কিন্তু তিনি সেই বাক্যে অতিশয় উদ্বিগ্ন হইলেন, আর মনে মনে আন্দোলন করিতে লাগিলেন, এ কেমন মঙ্গলবাদ? দূত তাঁহাকে কহিলেন, মরিয়ম, ভয় করিও না, কেননা তুমি ঈশ্বরের নিকটে অনুগ্রহ পাইয়াছ। আর দেখ, তুমি গর্ভবতী হইয়া পুত্র প্রসব করিবে, ও তাঁহার নাম যীশু (বা ঈসা) রাখিবে। তিনি মহান হইবেন, আর তাঁহাকে পরাৎপরের পুত্র (অর্থাৎ খোদার পুত্র) বলা যাইবে; আর প্রভু ঈশ্বর তাঁহার পিতা দায়ুদের সিংহাসন তাঁহাকে দিবেন; তিনি যাকোব-কুলের (অর্থাৎ ইয়াকূবের কুল বা ই¯্রায়েল বংশের) উপরে যুগে যুগে রাজত্ব করিবেন, ও তাঁহার রাজ্যের শেষ হইবে না। তখন মরিয়ম দূতকে কহিলেন, ইহা কিরূপে হইবে? আমি তো পুরুষকে জানি না। দূত উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, পবিত্র আত্মা (অর্থাৎ পাক রূহ্) তোমার উপরে আসিবেন, এবং পরাৎপরের (বা খোদার) শক্তি তোমার উপরে ছায়া করিবে; এই কারণ যে পবিত্র (বা নিষ্পাপ) সন্তান জন্মিবেন, তাঁহাকে ঈশ্বরের পুত্র (অর্থ খোদার পুত্র) বলা যাইবে।”
বাইবেল, লূক (ইনজীল) ১ ঃ ২৬-৩৫ পদ (বাআয়াত)।

এখানে একটুখানি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে Ñ উপরে উদ্ধৃত ঈসা মসীহের জন্মের অগ্রিম সুসংবাদের বিষয়টি ইনজীল ও কোরআনে মোটামুটিভাবে একই রকম বর্ণিত হলেও, কোন্ স্থানে, কিভাবে. এবং কোন্ পরিবেশে ঈসা মসীহের জন্ম, সে বিষয়ক বর্ণনাতে ইনজীল ও কোরআনের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তাই সে বিষয়ের উল্লেখ আর করা হল না। আগ্রহী পাঠক অনুগ্রহ করে কিতাব দু’টি থেকে তা পড়ে নিবেন।

যাহোক, লক্ষ্য করুন কোরআনের ৩ ঃ ৪৫ আয়াতটিতে বলা হয়েছে Ñ “মরিয়মকে আল্লাহর পক্ষ হইতে একটি কলেমা”, অর্থাৎ ‘আল্লাহ্ থেকে একটা বাক্য বা বাণীর সংবাদ তাকে দেয়া হয়েছে’। ভাষার প্রকাশ ভঙ্গি অনুসারে, ‘আল্লাহ্ থেকে একটা বাক্য’; এ কথাটি কোরআনে উল্লেখিত ঈসা মসীহেরই আর একটা নাম ‘আল্লাহ্র কালাম’ বা ‘আল্লাহ্র বাক্য’-কে উজ্জলতর করে তুলে ধরে [যোহন (ইনজীল) ১ ঃ ১ পদ বলছে, “আদিতে বাক্য ছিলেন, এবং বাক্য ঈশ^রের কাছে ছিলেন, এবং বাক্য ঈশ^র ছিলেন”]। কারণ ‘আল্লাহ্ থেকে একটা বাক্য’ প্রকৃতপক্ষে কোন ‘শব্দ’ বা ‘বাক্য’-কে নয় বরং একজন ব্যক্তিকেই বুঝায়। আর ‘আল্লাহ্র বাক্য’ হলেন স্বয়ং ঈসা মসীহ। যিনি মানব দেহ ধারণ করে মরিয়মের গর্ভে জন্ম নিয়ে এ পৃথিবীতে আসলেন। অধিকাংশ তফসীরকারক স্বীকার করেন এই ‘বাক্য’, একটা ‘কথা’ বা শোনা যায় এমন কোন একটি ‘শব্দমাত্র’ নয়, কিন্তু এ ‘বাক্য’ হলেন একজন ব্যক্তি।

ইসলামের একজন বিশিষ্ট তফসীরকারী ‘আল-তাবারী’ বলেন ঃ “আল্-কলেমাতু হল ঈসার অপর এক নাম।”
-ঔবংঁং; ঞধনধৎর, ওওও, ২৬৯.

-Jesus; Tabari, III, 269.

 

  • Al-Razi writes, æA just rular (Sultan adil) can be designated to be God’s shadow on earth and God’s light, because he is the cause of a shadow of rightousness and a light of goodness. Isa was thus, so that God’s wordsmight appear through him ……. therefore it is not unjustifiable to call him the æWord of God.”

Ñ Al-Razi VIII, 48.

এর সরল অর্থ ইসলামী ঈমানে রাসূল মোহাম্মাদের উপর আল্লাহ্ থেকে যে কালেমা (বা আল্লাহ্র বাক্য) নাযিল হোল, তা পরিণত হোল ‘কোরআন’ নামীয় একখানা কিতাবে। কিন্তু খোদা (এড়ফ) থেকে যে কালেমা (তাঁর বাক্য বা বাণী) নাযিল হোল, কুমারী মরিয়মের ক্ষেত্রে তা রূপান্তরিত হোল মানুষের দেহধারী একজন ব্যক্তি ‘ঈসা মসীহ’-তে! অর্থাৎ ঈসা মসীহ স্বয়ং হলেন ‘খোদার বা আল্লাহর বাক্য’, তাঁর মুখ হতে বের হওয়া সব কথা হল ‘খোদারই কথা’! তাই তো ‘খোদার বাক্য’ মনুষ্য দেহ ধারণ করে এ পৃথিবীতে আসবার শত শত বৎসর পূর্বে একজন ‘মহান নবী যিশাইয়’ পাক্ রূহের শক্তিতে ই¯্রায়েল জাতির লোকদের কাছে ভবিষ্যৎ বাণীতে বলেছিলেন
“আর তোমার সন্তানেরা সকলে সদাপ্রভুর কাছে (অর্থাৎ খোদার কাছে) শিক্ষা পাইবে, আর তোমার সন্তানদের পরম শান্তি হইবে।”
বাইবেল, যিশাইয় (সহীফা) ৫৪ ঃ ১৩ পদ।

প্রাসঙ্গিকভাবেই, এখানে দু’খানা সহিহ্ হাদীসের উল্লেখ করা যায়; যে হাদীস বলছে Ñ ‘ঈসা মসীহ এবং তাঁর মা মরিয়ম-এর অঙ্গে ছিল না শয়তানের কোন স্পর্শ’। ইসলামে সবচেয়ে খাঁটি এবং সহিহ্ বলে স্বীকৃত হাদীস গ্রন্থ ‘বোখারী শরীফ’ সাক্ষ্য দেয় Ñ
 হাদীস ঃ “আবু হোরাইরা বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (সা.) বলেছেন, প্রতিটি আদম সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সাথে সাথে শয়তান তার অঙ্গুলী দ্বারা তার পাঁজরে এসে আঘাত করে থাকে (যাতে সে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে) কিন্তু ‘ঈসা ইবনে মরিয়ম’ (অর্থাৎ যীশু) তার ব্যতিক্রম। শয়তান তাঁকেও আঘাত করতে চেয়েছিল কিন্তু আল্ল¬াহর কুদরতে শয়তানের আঘাত ঈসার পাঁজরে না পড়ে পর্দার (কাপড়ের) উপর পড়েছিল।”
সহিহ বোখারী, ভ্যলুম ৪, বই ৫৪, হাদীস নং ৫০৬।

হাদীস ঃ “সাঈদ বিন আল-মুসাইআব্ থেকে বর্ণিত। আবু হোরাইরা বলেন, ‘নবী বলেছেন, ভুমিষ্ট হওয়ার সাথে সাথে শয়তান স্পর্শ করে না এমন কোন নবজাতক শিশুই জন্ম গ্রহণ করে না। এবং শয়তানের স্পর্শ করার কারণে নবজাতক শিশু তীব্র স্বওে চীৎকার কওে কেঁদে উঠে। তবে বিবি মরিয়ম ও তাঁর সন্তান হযরত ঈসা (আঃ)-কে শয়তান স্পর্শ করতে পারেনি।’ অতঃপর আবু হোরাইরা বলেন, যদি চাও তবে আবৃত্তি কর (কুরআনে মরিয়মের মায়ের প্রার্থনা) : হে আল্লাহ শয়তান হইতে তাহার (অর্থাৎ মরিয়মের) ও তাহার বংশধরদের জন্য তোমার আশ্রয় গ্রহণ করছি (সুরা (৩) মরিয়ম ৩৬ আয়াত)।”
  সহিহ বোখারী, ভ্যলুম ৬, বই ৬১, হাদীস নং ৭১।

উপরে উদ্ধৃত হাদীসে আমরা দেখি, শয়তান মরিয়ম এবং তাঁর পুত্র ঈসা মসীহ, এঁদের কাউকেই স্পর্শ করতে, বা গুনাহ্গার করতে পারেনি। কারণ, যেখানে শয়তানের স্পর্শ নেই, সেখানে গুনাহ্ও নেই। এর অর্থ, মরিয়ম গুনাহ্ নিয়ে জন্মালেও তাঁর গর্ভে খোদা তাঁর ‘বাক্য-রূপ পুত্র ঈসা মসীহ’কে দেয়ার পূর্বেই তিনি মরিয়মকে গুনাহ্-মুক্ত করেছিলেন। যেন গুনাহ্-মুক্ত নিষ্পাপ এক গর্ভেই ‘নিষ্পাপ খোদার বাক্য ঈসা মসীহ’ একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়ে এ পৃথিবীতে আসতে পারেন। সে সত্য শুধুমাত্র হাদীস নয়, কোরআনও দ্ব্যর্থহীনভাবে তা ঘোষণা করেছেন। কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, মরিয়মকে পূর্বেই খোদা মনোনীত এবং পবিত্র বা গুনাহ্-মুক্ত করেছিলেন (৩ ঃ ৪২ আয়াত)। সুতরাং এটা সুস্পষ্ট যে “নিষ্পাপ মাতা মরিয়মের গর্ভে জন্ম নিলেন তাঁর নিষ্পাপ পুত্র ঈসা মসীহ, যিনি ছিলেন খোদারই কালেমা বা বাক্য।”

আমরা ‘কোরআন’ এবং কোরআনের পূর্বে অবতীর্ণ ‘তাওরাত’এবং ‘ইন্জীল’ থেকে জানতে পারি, কারো এ পৃথিবীতে জন্মের অগ্রিম সু-সংবাদ খোদা মাত্র গুটিকয়েক ব্যক্তির ক্ষেত্রেই দিয়েছেন। এমনকি ঐ মহান কয়েকজন ব্যক্তির নামকরণও করেছিলেন স্বয়ং তিনি-ই। ঈসা মসীহ ব্যতীত অন্যান্য সেই মহান কয়েকজন ব্যক্তি হলেন, (১) নবী ইবরাহীম-এর কনিষ্ঠ পুত্র ইসহাক, (২) ইসহাকের পুত্র ইয়াকূব, এবং (৩) নবী যাকারিয়ার (বা সখরিয়েরর) পুত্র ইয়াহ্ইয়া (বা বাপ্তিস্মদাতা যোহন)। প্রশ্ন আসতে পারে, কেন খোদা ঐ বিশেষ তিনজনকে এতখানি গুরুত্ব দিয়েছেন? প্রথম কারণ, তাদের তিনজনই কোন না কোনভাবে ঈসা মসীহের সাথে সংযুক্ত ছিলেন। নীচে সে বিষয়ে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হল ঃ

১। ইবরাহীম-এর কনিষ্ঠ পুত্র ইসহাক ঃ
ইসহাকের জন্মের অগ্রিম সু-সংবাদের বিষয়টি বাইবেল, এবং কোরআন, উভয় গ্রন্থেই রয়েছে, Ñ [বাইবেল, আদিপুস্তক (তাওরাত) ১৮ ঃ ১০-১৫ পদ], এবং কোরআন-এর সূরা ১১ হূদ ঃ ৬৯-৭৪ আয়াত, সূরা ১৫ হিজর ঃ ৫১-৫৫ আয়াত, সূরা ৫১ যারিয়াত ঃ ২৪-৩০ আয়াত, এবং সূরা ৩৭ সাফফাত ঃ ১০০-১১৩ আয়াতসমূহ।
ইসহাককে কুরবানি দিতে নেয়াটা ছিল, খ্রীষ্টেরই কুরবানির পূর্ব প্রতিচ্ছবি মাত্র। ইসহাকের কুরবানির ক্ষেত্রে কী ঘটেছিল সে বিষয়ে তাওরাত এবং কোরআন বলে Ñ ইবরাহীম ইসহাককে কুরবানি দিতে তরবারী উঠালে খোদার প্রতি তিনি যে বাধ্য তা দেখবার পরে, খোদা ইসহাককে কুরবানি দিতে নিষেধ করেন এবং ইসহাকের বিনিময়ে খোদা স্বয়ং কুরবানির জন্য ইবরাহীমকে একটি মেষ (বা দুম্বা) জুগিয়ে দেন [বাইবেল, আদিপুস্তক (তাওরাত) ২২ ঃ ১-১৪ পদ, এবং কোরআন, সূরা ৩৭ সাফফাত ঃ ১০০-১১৩ আয়াত, এবং ‘ইসলামী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ কর্তৃক অনুবাদকৃত বাংলা কোরআন, তেত্রিশতম সংস্করণ, -এর ১৪৪৭ নং টীকা পড়ুন]।

উল্লেখিত বাইবেল ১৩ ও ১৪ পদে বলা হয়েছে Ñ “তখন অব্রাহাম চক্ষু তুলিয়া চাহিলেন, আর দেখ, তাঁহার পশ্চাৎদিকে একটা মেষ, তাহার শৃঙ্গ ঝোপে বদ্ধ; পরে আব্রাহাম গিয়া সেই মেষটি লইয়া আপন পুত্রের পরিবর্তে হোমার্থ বলিদান (অর্থাৎ খোদার উদ্দেশ্যে কুরবানি) করিলেন। আর অব্রাহাম সেই স্থানের নাম যিহোবা-যিরি (খোদা যোগাইবেন) রাখিলেন।”

উল্লেখিত কোরআনের ৩৭ ঃ ১০৭ আয়াতেও বলা হয়েছে Ñ“আমি তাহাকে মুক্ত করিলাম এক কুরবানির * বিনিময়ে।” এ আয়াতের ১৪৪৭ নং টীকায় বলা হয়েছে (* “উহা ছিল একটি দুম্বা, যাহা বেহেশত হইতে পাঠাইয়া দেওয়া হইয়াছিল)”।
আর ইনজীলে ঈসা মসীহকে তো ‘মেষ-শাবক’ই বলা হয়েছে। ঈসা মসীহের অগ্রদূত নবী ইয়াহইয়া (বাপ্তিস্মদাতা যোহন) ঈসা মসীহকে ‘মেষশাবক’ বলেই তো চিহ্নিত করলেন
“পরদিন তিনি যীশুকে আপনার নিকটে আসিতে দেখিলেন, আর কহিলেন, ঐ দেখ, ঈশ^রের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপভার লইয়া যান।”
Ñ বাইবেল, যোহন (ইনজীল) ১ ঃ ২৯ পদ।

ঈসা মসীসের শত শত বছর পূর্বে এ পৃথিবীতে আসা একজন মহান নবী যিশাইয় ঈসা মসীহের মৃত্যু কেমন করে হবে, অর্থাৎ মানবজাতির পাপের নিমিত্ত কিভাবে তিনি কুরবানি হবেন, সে বিষয়ের করুণ বর্ণনা দিতে গিয়েও তিনি ঈসা মসীহকে ‘মেষ’-এর সাথেই তুলনা করে বলেছেন Ñ

“তিনি উপদ্রুত হইলেন, তবু দুঃখভোগ স্বীকার করিলেন,
তিনি মুখ খুলিলেন না;
মেষশাবক যেমন হত হইবার জন্য নীত হয়,
মেষী যেমন লোমচ্ছেদকের সন্মুখে নীরব হয়,
সেইরূপ তিনি মুখ খুলিলেন না।”
বাইবেল, যিশাইয় (সহীফা) ৫৩ ঃ ৭ পদ।

কারণ ঈসা মসীহকে খোদা এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন কুরবানির এক মেষ শাবক করেই তো! যেন তিনি নিজেকে নিষ্পাপ-নিষ্কলঙ্ক এক কুরবানি হিসেবে খোদার নিকট উৎসর্গ করেন, এবং সেই নিষ্পাপ কুরবানির মাধ্যমে মানবজাতি যেন পাপ থেকে, শয়তানের শৃঙ্খল থেকে চিরতরে মুক্ত হতে পারে। সুতরাং ইসহাককে কুরবানি করতে নেয়াটা ছিল ঈসা মসীহের কুরবানি হওয়ারই পূর্ব প্রতিচ্ছবি। সে কারণে ঈসা মসীহের ক্রুশে কুরবানির কথা বলতে গেলে, ইসাহাককে কুরবানি দিতে নেয়ার ঘটনার কথাটাই মনে পড়ে যায়।

২। যাকোবের বংশের মাধ্যমে আশীর্বাদ ঃ
যাকোব-এর অপর নাম ‘ই¯্রায়েল’ যে নামটি খোদা স্বয়ং তাকে দিয়েছিলেন। [বাইবেল, আদিপুস্তক (তাওরাত) ৩২ ঃ ২৪-৩০ পদ], এবং কোরআন-এর ২ ঃ ৪০ আয়াত, এ আয়াতেরই টীকা নং ২৯ দেখুন, যে টীকায় বলা হয়েছে, “হযরত ইসহাক (আঃ)-এর পুত্র ইয়াকূব (আঃ), তাঁহার আর এক নাম ইস্রাঈল, তাঁহারই বংশধর বনী ইস্রাঈল নামে পরিচিত।”

ইয়াকূব ছিলেন প্রথম ই¯্রায়েল এবং ইয়াকূব থেকেই ‘ই¯্রায়েল বংশের’ শুরু। খোদা তার নিকট প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে Ñ “তোমাতে ও তোমার বংশে পৃথিবীস্থ যাবতীয় গোষ্ঠী আশীর্বাদ (বা অনুগ্রহ) প্রাপ্ত হইবে” [বাইবেল, আদিপুস্তক (তাওরাত) ২৮ ঃ ১৪ পদ]। অর্থাৎ ‘ঈসা মসীহ’ ইয়াকূবের এই ‘ই¯্রায়েল বংশে’ জন্মগ্রহণ করবার শত শত বছর পূর্বেই কিন্তু খোদা তার নিকট ঐ প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, “তোমার বংশে পৃথিবীস্থ যাবতীয় গোষ্ঠী আশীর্বাদ প্রাপ্ত হইবে”।
পাঠক, আর একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার আপনি শুধুমাত্র বাইবেল নয়, কিন্তু কোরআন থেকেও দেখতে পারেন; খোদা হযরত ইব্রাহীমের “কনিষ্ঠ পুত্র ‘ইসহাক’ এবং সেই কনিষ্ঠ পুত্রের পুত্র ‘ইয়াকূব”, এ দু’জনের নামই উল্লেখ করেছেন বারে বারে। কোরআন থেকে দেখুন Ñ

  •  “আর আমি তাহাকে (অর্থাৎ ইবরাহীমকে) দান করিয়াছিলাম ইসহাক ও ইয়াকূব” (সূরা (৬) আল আন-আম ৮৪ আয়াত), “অতঃপর আমি তাহাকে (অর্থাৎ ইবরাহীমকে) ইসহাকের ও ইসহাকের পরবর্তী ইয়াকূবের সুসংবাদ দিলাম” (সূরা (১১) হূদ ৭১ আয়াত)।
    “উহারা (অর্থাৎ ফিরিশতাগণ) বলিল, ‘ভয় করিও না, আমরা তোমাকে (অর্থাৎ ইবরাহীমকে) এক জ্ঞানী পুত্রের (অর্থাৎ ইসহাকের) শুভ সংবাদ দিতেছি” (সূরা (১৫) হিজর ৫৩ আয়াত)।
     “তখন আমি তাহাকে (অর্থাৎ ইবরাহীমকে) দান করিলাম ইসহাক ও ইয়াকূব” (সূরা (১৯) মারইয়াম ৪৯ আয়াত)।
     “আমি ইবরাহীমকে দান করিয়াছিলাম ইসহাক এবং পৌত্ররূপে ইয়াকূব” (সূরা (২১) আম্বিয়া ৭২ আয়াত)।
     “আমি ইবরাহীমকে দান করিলাম ইসহাক ও ইয়াকূব এবং তাঁহার বংশধরদের জন্য স্থির করিলাম নুবূওয়াত ও কিতাব” (সূরা (২৯) আল আনকাবুত ২৭ আয়াত)।
     “অতঃপর আমি তাহাকে (অর্থাৎ ইবরাহীমকে) এক স্থিরবুদ্ধি পুত্রের (অর্থাৎ ইসহাকের) সুসংবাদ দিলাম” (সূরা (৩৭) আস-সাফফাত ১০১ আয়াত)।
     “আমি তাহাকে (অর্থাৎ ইবরাহীমকে) সুসংবাদ দিয়াছিলাম ইসহাকের, সে ছিল এক নবী, সৎ কর্মপরায়নদের অন্যতম, আমি তাহাকে বরকত দান করিয়াছিলাম এবং ইসহাককেও” (সূরা (৩৭) আস-সাফফাত ১১২-১১৩ আয়াত)।
     “স্মরণ কর আমার বান্দা ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়াকূবের কথা, উহারা ছিল শক্তিশালী ও সুক্ষ্মদর্শী” (সূরা (৩৮) ছোয়াদ ৪৫ আয়াত), ইত্যাদি।

পাঠক লক্ষ্য করেছেন কি, কোরআন থেকে যে এতগুলো আয়তের উদ্ধৃতি দেয়া হল, সব জায়গাতে আল্লাহ্ শুধুমাত্র ‘ইসহাক’ এবং ‘ইয়াকূব’ এ দু’জনের নাম-ই কেবল উল্লেখ করেছেন। এর কারণও কিন্তু আল্লাহ্ তাঁর কোরআনে সুস্পষ্টভাবে বলেও দিয়েছেন, এবং তা হল
“আমি ইবরাহীমকে দান করিলাম ইসহাক ও ইয়াকূব এবং তাঁহার বংশধরদের জন্য স্থির করিলাম নুবূওয়াত ও কিতাব এবং আমি তাহাকে দুনিয়ায় পুরস্কৃত করিয়াছিলাম; আখিরাতেও সে নিশ্চয়ই সৎকর্মপরায়নদের অন্যতম হইবে।”
 সূরা (২৯) আল আনকাবূত ২৭ আয়াত।
আল্লাহ্ কিন্তু এ আয়াতে স্পষ্ট ঘোষণা দিচ্ছেন “ইসহাক ও ইয়াকূব এবং তাঁহার বংশধরদের জন্য স্থির করিলাম নুবূওয়াত ও কিতাব।” এর পরিস্কার অর্থ “ইসহাক ও ইয়াকূব এবং তাঁহার বংশধরদের বাহিরে কোন নুবূওয়াত এবং কিতাব নেই”। ঈসা মসীহ এসেছিলেন ইয়াকূবেরই ঐ ই¯্রায়েল বংশে। সুতরাং ঈসা মসীহের ব্যাপারে কথা বলতে গেলে ইয়াকূব অতি বড় সহায়ক এক ব্যাক্তিত্ব হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে উপস্থিত হন।

৩। ঈসা মসীহের অগ্রদূত নবী ইয়াহ্ইয়া বা বাপ্তিস্মদাতা যোহন ঃ
ইনজীল কিতাব অনুসারে নবী ইয়াহ্ইয়া বা বাপ্তিস্মদাতা যোহন ছিলেন অতি মহান এবং সর্বশেষ নবী; যিনি ঈসা মসীহের চেয়ে বয়সে মাত্র ছয় মাসের মত বড় ছিলেন। একই সময়কালে তাঁরা দু’জন এ পৃথিবীতে ছিলেন। এমনকি নবী ইয়াহ্ইয়া ঈসা মসীহকে বাপ্তিস্মও দিয়েছিলেন বা তাঁকে তরীকা-বন্দি করেছিলেন। তিনি ঈসা মসীহের বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, তাঁর অগ্রদূত হিসেবে তাঁর বিষয় প্রচার করেছিলেন। ঈসা মসীহ নবী ইয়াহ্ইয়ার বিষয়ে ইনজীলে বলেছেন Ñ
“আমি তোমাদিগকে সত্য বলিতেছি, স্ত্রীলোকের গর্ভজাত সকলের মধ্যে যোহন বাপ্তাইজক (অর্থাৎ নবী ইয়াহ্ইয়া) হইতে মহান কেহই উৎপন্ন হয় নাই, তথাপি স্বর্গ-রাজ্যে (বা বেহেশ্তে) অতি ক্ষুদ্র যে ব্যক্তি, সে তাহা হইতে মহান। আর যোহন বাপ্তাইজকের কাল হইতে এখন পর্যন্ত স্বর্গ-রাজ্য ভীষণভাবে আক্রান্ত হইতেছে, এবং শক্তিধর লোকেরা সবলে তাহা অধিকার করিতেছে। কেননা সমস্ত ভাববাদী ও ব্যবস্থা (অর্থাৎ নবী ও শরীয়াত) যোহন পর্যন্ত ভাববাণী বলিয়াছে।”
বাইবেল, মথি (ইনজীল) ১১ ঃ ১১-১৩ পদ।

তবে, একটা বিষয় এখানে উল্লেখ না করলেই নয়, এবং তা হল কোরআন কী কী সাক্ষ্য দিচ্ছে নবী ইয়াহ্ইয়ার বিষয়ে? কোরআন ঐ মহান নবীর বিষয়ে বলছে
“যখন যাকারিয়া (বা সখরিয়) কক্ষে সালাতে দাঁড়াইয়া ছিলেন তখন ফিরিশতাগণ তাহাকে সম্বোধন করিয়া বলিল, ‘আল্লাহ তোমাকে ইয়াহ্ইয়ার (অর্থাৎ বাপ্তিস্মদাতা যোহন-এর) সুসংবাদ দিতেছেন, সে হইবে আল্লাহর বাণীর সমর্থক, নেতা, স্ত্রী বিরাগী এবং পুণ্যবানদের মধ্যে একজন নবী।”
সূরা (৩) আলে-ইমরান ঃ ৩৯ আয়াত।
“তিনি বলিলেন, ‘হে যাকারিয়া! আমি তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিতেছি, তাহার নাম হইবে ইয়াহ্ইয়া। এই নামে পূর্বে আমি কাহারও নামকরণ করি নাই।’ সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! কেমন করিয়া আমার পুত্র হইবে যখন আমার স্ত্রী বন্ধ্যা ও আমি বার্ধক্যের শেষ সীমায় উপনীত!’ তিনি বলিলেন, ‘এইরূপই হইবে।’ তোমার প্রতিপালক বলিলেন, ‘ইহা আমার জন্য সহজসাধ্য। আমি তো পূর্বে তোমাকে সৃষ্টি করিয়াছি যখন তুমি কিছুই ছিলে না।’
সূরা (১৯) মরিয়ম ঃ ৭-৯ আয়াত।
“হে ইয়াহ্ইয়া! এই কিতাব দৃঢ়তার সহিত গ্রহণ কর।’ আমি তাহাকে শৈশবেই দান করিয়াছিলাম জ্ঞান, এবং আমার নিকট হইতে হৃদয়ের কোমলতা ও পবিত্রতা। সে ছিল মুত্তাকী, পিতা-মাতার অনুগত এবং সে ছিল না উদ্ধত ও অবাধ্য। তাহার প্রতি শান্তি যেদিন সে জন্মলাভ করে, যেদিন তাহার মৃত্যু হইবে এবং যেদিন সে জীবিত অবস্থায় উত্থিত হইবে।”
 সূরা (১৯) মরিয়ম ঃ ১২-১৫ আয়াত।

কোরআন-এ আল্লাহর বাণীসমূহে, স্বয়ং আল্লাহ্র নবী ইয়াহ্ইয়ার উপরে যে সব গুনাবলী আরোপ করেছেন, সেগুলো হলÑ
(১) বৃদ্ধ যাকারিয়ার বন্ধ্যা ও বৃদ্ধা স্ত্রীর গর্ভে অলৌকিকভাবে নবী ইয়াহইয়ার জন্ম।
(২) আল্লাহ্ নবী ইয়াহইয়ার পিতাকে তাঁর জন্মের অগ্রিম সুসংবাদ জানিয়েছেন।
(৩) ইবরাহীম-পুত্র ইসহাকের মতই, ইয়াহ্ইয়ার জন্মে আল্লাহ্ সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন।
(৪) আল্লাহ্ নিজেই তাঁর নামটি রেখেছেন ইয়াহ্ইয়া, এবং বলেছেন, এই নামে পূর্বে আমি কাহারও নামকরণ করি নাই।’
(৫) আল্লাহ্ শৈশবেই তাঁকে দান করেছিলেন জ্ঞান।
(৬) আল্লাহ্র নিকট থেকেই তিনি পেয়েছিলেন হৃদয়ের কোমলতা ও পবিত্রতা।
(৭) তিনি ছিলেন আল্লাহতে বিশ্বাসী।
(৮) তিনি ছিলেন পিতা-মাতার অনুগত।
(৯) তিনি ছিলেন নম্র ও বাধ্য অর্থাৎ ছিলেন না তিনি উদ্ধত ও অবাধ্য।
(১০) তিনি ছিলেন একজন নেতা।
(১১) তিনি ছিলেন একজন চিরকুমার বা চির-অবিবাহিত পুরুষ।
(১২) তিনি ছিলেন পুণ্যবানদের মধ্যে একজন।
(১৩) তিনি ছিলেন ‘আল্লাহর বাণী বা কলেমা’র অর্থাৎ ‘ঈসা মসীহ’-এর সমর্থক।
(১৪) তাঁর জন্মে, মৃত্যুতে এবং যেদিন তিনি জীবিত অবস্থায় উত্থিত হবেন, তাতে রয়েছে শান্তি।

পাঠক, কোরআনসহ সব আসমানী কিতাবসমূহ খুঁজে দেখতে পারেন, এতসব গুণাবলী দিয়ে আল্লাহ্ এ পৃথিবীতে দ্বিতীয় আর কোন নবী বা রাসূলকেই পাঠাননি (উল্লেখ্য, সহীফাসমূহ এবং ইনজীলও দীক্ষগুরু যোহন, ইসলামী পরিভাষায় যিনি ‘নবী ইয়াহইয়া’ নামে পরিচিত, তার বিষয়ে একই রকম সাক্ষ্য দেয়)। কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে, কোরআনে এ নবীর জন্মের অগ্রিম ঐ সু-সংবাদটুকু এবং আল্লাহ্ তাঁকে কি সব গুণাবলী দিয়ে এ পৃথিবীতে পাঠালেন, তা ব্যতীত তাঁর বিষয়ে আর বিস্তারিত কোন কিছু বলা হয়নি!
সহীফা বা নবীদের কিতাবসমূহ এবং ইনজীল বলে যে খোদা নবী ইয়াহইয়াকে ‘ঈসা মসীহের অগ্রদূত’ হিসেবেই এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন। কিতাব থেকে দেখুন Ñ বাইবেল, যিশাইয় (সহীফা) ৪০ ঃ ৩-৪ পদ, মালাখি (সহীফা) ৩ ঃ ১ পদ এবং মথি (ইন্জীল) ৩ ঃ ১ Ñ ১২ পদ, মথি (ইন্জীল) ১১ ঃ ২-১০ পদ, লূক (ইনজীল) ৩ ঃ ১-২২ ইত্যাদি। আর কোরআনে নবী ইয়াহইয়া সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তা তো একটু পূর্বেই উদ্ধৃত করা হয়েছে। সুতরাং ঈসা মসীহের ব্যাপারে কথা বলতে গেলে নবী ইয়াহইয়াও অতি বড় সহায়ক এক ব্যক্তিত্ব।

আর একটি বিষয় লক্ষ্য করুন জিবরাঈল ফিরিশ্তার মাধ্যমে আল্লাহ্ কোরআনের সূরা (১৯) মরিয়ম ১৭-২১ আয়াত-এ মরিয়মকে সুস্পষ্ট করেই জানালেন যে, ঈসা মসীহ হঠাৎ করে এ পৃথিবীতে আসেন নি, অর্থাৎ তিনি যে ঈসা মসীহকে পাঠাবেন, তা ছিল খোদা কর্তৃক পূর্বেই স্থির করা এক পরিকল্পনা। অধিকন্তু ফিরিশতা আরও জানালেন, ঈসা মসীহ হলেন খোদার নিকট থেকে মানব জাতির জন্য “এক অনুগ্রহ” (অর্থাৎ আশীর্বাদ বা রহমত) এবং তাঁর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য ‘এক নিদর্শন’ (অর্থ মুজিযা বা অলৌকিক কাজ)।

উল্লেখ্য, আল্লাহ্ তাঁর কোরআনে অনেক কিছুকেই তিনি তাঁর ‘নিদর্শন’ বলেছেন। আপনি সম্পূর্ণ কোরআনখানা তিলওয়াত বা পাঠ করলে দেখতে পাবেন আল্লাহ্ তাঁর ‘নিদর্শন’ বলতে আসমান, পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র, শুষ্ক ভূমি, পশু, যানবাহন, আকাশের চন্দ্র-সূর্য, তারা, আবার কোথাও বা মুজিযা বা খোদার অলৌকিক কাজকেও তিনি তাঁর নিদর্শন বুঝিয়েছেন। কিন্তু, জীব বা মানুষের মধ্য থেকে আল্লাহ্ একমাত্র ঈসা মসীহ-কে কোরআনের তিনটি আয়াতে, এবং তাঁর মা মরিয়মকে একটি আয়াতে তাঁর ‘নিদর্শন’ বলে ঘোষণা করেছেন, তা হলো
“সে বলিল (অর্থাৎ ফিরিশতা মরিয়মকে বলিল), ‘এইরূপই হইবে।’ তোমার প্রতিপালক (অর্থাৎ আল্লাহ্) বলিয়াছেন, ‘ইহা আমার জন্য সহজসাধ্য এবং আমি উহাকে (অর্থাৎ ঈসা মসীহকে) এইজন্য সৃষ্টি করিব যেন সে হয় মানুষের জন্য এক নিদর্শন ও আমার নিকট হইতে এক অনুগ্রহ। ইহা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার।”
সূরা (১৯) মরিয়ম ২১ আয়াত।
(আল্লাহ্ বলছেন) “ঈসা তো কিয়ামতের নিশ্চিত নিদর্শন (বা চিহ্ন); সুতরাং তোমরা কিয়ামতে সন্দেহ করিও না এবং আমাকে অনুসরণ কর। ইহাই সরল পথ।”
সূরা (৪৩) যুখরুফ ৬১ আয়াত।
(আল্লাহ্ বলছেন) “এবং স্মরণ কর সেই নারীকে (অর্থাৎ মরিয়মকে), যে নিজ সতীত্বকে রক্ষা করিয়াছিল, অতঃপর তাহার মধ্যে আমি আমার রূহ্ ফুঁকিয়া দিয়াছিলাম এবং তাহাকে ও তাহার পুত্রকে করিয়াছিলাম বিশ্ববাসীর জন্য এক নিদর্শন।”
সূরা (২১) আম্বিয়া ৯১ আয়াত।

এরপরে খোদা কোরআনে নবী মোহাম্মাদ (সাঃ) তথা তাঁর অনুসারিদের উদ্দেশ্যে আরও ঘোষণা করেছেন
“এবং যহারা আল্লাহর নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করিয়াছে তুমি কখনও তাহাদের অন্তর্ভুক্ত হইও না  তাহা হইলে তুমিও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।”
সূরা (১০) ইউনুস ৯৪ আয়াত।
এ আয়াতটি পাঠ করবার পরে আপনার কী মনে হয়? আল্লাহ্ কি কোন প্রাণহীন বস্তুকে প্রত্যাখ্যান করবার কথা বলেছেন, না-কি তিনি কোন প্রাণবান সজীব প্রাণী বা মানুষকে প্রত্যাখ্যান করবার কথা বলছেন? আমরা ইনজীল এবং কোরআন, এই উভয় কিতাব থেকেই দেখেছি, ঈসা মসীহের এ পৃথিবীতে জন্ম স্বাভাবিকভাবে হয়নি, বরং মানুষের জ্ঞানের বাইরে এক মুজিযা বা অলৌকিকভাবে খোদা তাঁকে এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন। আমরা জাগতিক জ্ঞানে জানি বা বুঝি যে একজন পুরুষের সাথে মিলনের ফলেই একজন নারী গর্ভবতী হয়ে একটা সন্তান প্রসব করে, এবং সন্তানটি ঐ পুরুষের বংশ-পরিচয়েই পরিচিতি পায়। কিন্তু ঈসা মসীহের জন্মের ব্যাপারে কিন্তু সে রকমটি ঘটেনি। আমাদের জানা গতানুগতিক পথে তিনি জন্ম নিয়ে পৃথিবীতে আসেন নি। আমরা ইনজীল এবং কোরআন, উভয় কিতাবেই দেখতে পাই যে, খোদার বিশেষ ব্যাবস্থায়, কোন পুরুষের কোন ভূমিকা ব্যতীত এক অলৌকিক উপায়েই ‘ঈসা মসীহ’ (অর্থাৎ যীশু খ্রীষ্ট) নামের মানুষটি এ পৃথিবীতে এসেছিলেন মরিয়ম না¤œী এক কুমারী কন্যার গর্ভে জন্ম নিয়ে! কোরআন বলছে, তিনি নারী-বংশ-জাত বলে পরিচয়ও পাইলেন, ‘মরিয়ম-পুত্র ঈসা মসীহ’ বলে; এবং এই ঈসা মসীহ-ই হলেন ‘খোদার নিদর্শন’।

সুতরাং গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন তো! আপনি ‘ঈসা মসীহ’ নামীয় খোদার ঐ নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করেন নি তো? (ঈসা মসীহ বলছেন) “আর আমি আসিয়াছি আমার সন্মুখে তাওরাতের যাহা রহিয়াছে উহার সমর্থকরূপে ও তোমাদের জন্য যাহা নিষিদ্ধ ছিল উহার কতকগুলিকে বৈধ করিতে। এবং আমি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে তোমাদের নিকট নিদর্শন লইয়া আসিয়াছি। সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর, আর আমাকে অনুসরণ কর।”
সূরা (৩) আলে-ইমরান ঃ ৫০ আয়াত।
“ঈসা যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ আসিল তখন সে বলিয়াছিল, ‘আমি তো তোমাদের নিকট আসিয়াছি প্রজ্ঞাসহ এবং তোমরা যে কতক বিষয়ে মতভেদ করিতেছ, তাহা স্পষ্ট করিয়া দিবার জন্য। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর।”
সূরা (৪৩) যুখরুফ ঃ ৬৩ আয়াত।
ইনজীল কিতাবে ঈসা মসীহ বলেছেন
“যারা আমাকে হে প্রভু, হে প্রভু বলে, তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে (বা বেহেশতে) প্রবেশ করিতে পাইবে, এমন নয়, কিন্তু যে ব্যক্তি আমার স্বর্গস্থ পিতার (অর্থাৎ খোদার) ইচ্ছা পালন করে, সেই পাইবে।”
বাইবেল, মথি (ইনজীল) ঃ ৭ ঃ ২১ পদ।

আমরা উপরে দেখলাম, কোরআনেরই দু’টি আয়াতে ঈসা মসীহ আমাদেরকে বলছেন তাঁকে অনুসরণ করতে। কোরআনের ঐ আয়াত সমূহের নির্দেশ পালন না করে আমি/আপনি যদি তা প্রত্যাখ্যান করি, তাহলে কী হবে, আল্লাহ্ তা-ও কিন্তু কোরআন-এ আপনাকে জানিয়ে দিয়েছেন Ñ
“যাহারা আমার আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করে তাহাদিগকে অগ্নিতে দগ্ধ করিবই; যখনই তাহাদের চামড়া দগ্ধ হইবে তখনই তাহার স্থলে নতুন চর্ম সৃষ্টি করিব, যাহাতে তাহারা শাস্তি ভোগ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।”
সূরা (৪) নিসা ৫৬ আয়াত।
তবে ঈসা মসীহকে অনুসরণ করলে আমাদের কি লাভ হবে, খোদা তা-ও কিন্তু কোরআনেই জানিয়ে দিয়েছেনÑ
“স্মরণ কর, যখন আল্লাহ্ বলিলেন, ‘হে ঈসা! আমি তোমার কাল পূর্ণ করিতেছি এবং আমার নিকট তোমাকে তুলিয়া লইতেছি এবং যাহারা কুফরী করিয়াছে তাহাদের মধ্য হইতে তোমাকে পবিত্র করিতেছি। আর তোমার (অর্থাৎ ঈসা মসীহের) অনুসারিগণকে কিয়ামত পর্যন্ত কাফিরদের উপর প্রাধান্য দিতেছি, অতঃপর আমার কাছে তোমাদের প্রত্যাবর্তন।’ তারপর যে বিষয়ে তোমাদের মতান্তর ঘটিতেছে আমি উহা মীমাংসা করিয়া দিব।”
¬  সূরা (৩) আলে-ইমরান ৫৫ আয়াত।
ঐ আয়াতের পরিস্কার অর্থ  যারা ঈসা মসীহকে অনুসরণ করবে, আল্লাহ্ তাদেরকে কাফিরদের উপরে প্রাধান্য দিবেন এবং আল্লাহর কাছে তাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত। ঈসা মসীহের অনুসারিদের প্রতি এ এক পরম নিশ্চয়তার বাণী নয় কি! লক্ষ্য করুন ‘ইন্জীল-এর অনুসারিগণ’কে কী নির্দেশ দিচ্ছেন আল্লাহ্! তিনি বলছেন
“ইন্জীল অনুসারিগণ যেন আল্লাহ্ উহাতে (অর্থাৎ ইনজীল-এ) যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তদনুসারে বিধান দেয়। আল্লাহ্ যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তদনুসারে যাহারা বিধান দেয় না, তাহারাই ফাসিক।” (‘ফাসিক’ শব্দের অর্থ, অবাধ্য, সত্যত্যাগী, পাপী, দুষ্কৃতকারী…….. ইত্যাদি)।
Ñ সূরা (৫) মায়িদা ৪৭ আয়াত।
এবং ঐ ইনজীল কিতাবে আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তনের যে বিধান রয়েছে তা হল, তাঁর নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হলে ঈসা মসীহকে অনুসরণের মাধ্যমেই যেতে হবে। ঈসা মসীহ বলছেন
“আমিই পথ ও সত্য ও জীবন। আমা দিয়া না আসিলে (অর্থাৎ ঈসা মসীহকে অনুসরণ না করলে) কেহ পিতার নিকটে আইসে না (অর্থাৎ কেহ খোদার কাছে যেতে পারে না)।”
যোহন (ইনজীল) ১৪ ঃ ৬ পদ।
স্মরনে আছে তো! আল্লাহ্ও কিন্তু কোরআনের সূরা (৩) আলে ইমরান ৫৫ আয়াতে ঈসা মসীহকে সে কথা-ই জানিয়েছিলেন, “আর তোমার অনুসারিগণকে কিয়ামত পর্যন্ত কাফিরদের উপর প্রাধান্য দিতেছি, অতঃপর আমার কাছে তোমাদের প্রত্যাবর্তন!”

সেই ‘ঈসা মসীহ অর্থাৎ প্রভু যীশু খ্রীষ্ট’, যাঁকে ঈসায়ীগণ অনুসরণ করেন, তারা তাঁর এ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণের দিনটাকে স্মরণ এবং পালন করে থাকেন ২৫ শে ডিসেম্বর। দীর্ঘকালীন প্রস্তুতির শেষে মহা আনন্দে, শ্রদ্ধায়, ভক্তিতে, ভালবাসায়, প্রার্থনা আর ইবাদতের মাধ্যমে তারা পালন করেন তাদের নাজাতদাতা বা মুক্তিদাতার জন্ম বার্ষিকীটি। এ দিনটিতে তারা “শুভ বড়দিন”, বা ুগবৎৎু ঈযৎরংঃসধং” বলে পরস্পরকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকেন ॥
সবার প্রতি রইলো “শুভ বড়দিন এর প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
তথ্য সূত্র ঃ
১। আল-কুরআনুল করীম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, তেত্রিশতম সংস্করণ।
২। ঝধযরয অষ-ইঁশযধৎর, ঊফরঃবফ নু ঞযব ঠরংঃধ.
৩। খোদাবন্দ ঈসা মসীহের বৈচিত্র্যময় জীবন ও কাজ, বাচিব (ইঅঈওই) ট্রাষ্ট কর্তৃক প্রকাশিত।
৪। পবিত্র বাইবেল, বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি ঢাকা।
বি. দ্র . উদ্ধৃত পদ বা আয়াতসমুহে () এর মাঝে দেয়া ব্যাখ্যামূলক কথাগুলো লেখকের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here