স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রেরণার এক অনন্য উৎস- নাজিম উদদীন

0
421

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র  বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রেরণার এক অনন্য উৎস

নাজিম উদদীন
বাংলার মুক্তিসংগ্রামে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ছিল ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’-এর প্রধান অস্ত্র। সশস্ত্র লড়াইয়ের বিভিন্ন রণাঙ্গনে বাঙ্কারে বাঙ্কারে কিংবা যে কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে কী অগ্রগতি ও সফলতা অর্জিত হচ্ছে, তা সকলকে অবগত করে পারস্পরিক যোগসূত্রের দৃঢ়বন্ধনকে অটুট রাখা এবং বিশ্বের তাবৎ মানুষকে পাকিস্তানের বির”দ্ধে আমাদের লড়াই, কি করে লড়ছে সাধারণ মানুষ ঐ দুর্র্ধষ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অন্ধ ভাড়াটিয়া সদস্যগুলোর বির”দ্ধে, মুক্তিফৌজ গঠন করে দেশবাসী সাধারণ মানুষের অভাবিতপূর্ণ বিপুল ঐক্যের এই প্রতিরোধ যে শাসন নয় কেবল শোষণের বির”দ্ধে দমন-পীড়ন সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অধিকার হরণের বির”দ্ধে, সেটাই জানাত মুক্তিসেনা দল নিজেদের জীবন যুদ্ধে।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র একটি অস্থায়ী বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবার পর এর নাম বদলে বাংলাদেশ বেতার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশে ঢাকা থেকে সম্প্রচার শুর” করে বাংলাদেশ বেতার যা এতকাল রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল।। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধা ও দেশবাসীর মনোবলকে উদ্দীপ্ত করতে ‘‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’’ অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছিল। যুদ্ধের সময়ে প্রতিদিন মানুষ অধীর আগ্রহে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান শোনার জন্য অপেক্ষা করত। “জয় বাংলা, বাংলার জয়” গানটি এ বেতার কেন্দ্রের সূচনা সঙ্গীত হিসাবে প্রচারিত হতো।
১৯৭১ এর ২৫ মার্চ মধ্য রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে ঢাকা শহরের কয়েক হাজার নিরস্ত্র বাঙালি নিধন করে এবং একই সাথে শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পূর্বে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা এবং একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা প্রদান করে যান। বার্তাটি ঢাকা ইপিআর ওয়ারলেস স্টেশান থেকে সিলিমপুর ওয়ারলেস স্টেশানের ইঞ্জিনিয়ার গোলাম রব্বানী ডাকুয়ার হাত দিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছে ২৫ শে মার্চ মধ্যরাতেই। তার পরেই পাকিস্তানীরা ইপিআর ওয়ারলেস ধ্বংস করে দেয়। বিস্তারিত বিবরণ লেখা আছে সাহিত্যিক মাহবুব উল আলমের ‘‘বাঙ্গালীর মুক্তিযুদ্ধের ইতিবৃত্ত’’ বইটিতে। ভোর হবার আগেই বার্তাটির শত শত কপি তৈরি হয়ে যায় একটা সাইক্লোষ্টাইল মেশিনের সাহায্যে। চট্টগ্রামের অনেক জায়গায় মধ্য রাত থেকেই মাইকে বার্তাটি প্রচার করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে ২৬ মার্চ দুপুর বেলা চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান চট্টগ্রামের কালুরঘাট ট্রান্সমিশান কেন্দ্র হতে প্রথমবারের মত স্বাধীনতার ঘোষণা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ঐ বার্তা পাঠ করেন।
এর মধ্যেই বেলাল মোহাম্মদ এবং আবুল কাশেম সন্দীপসহ তৎকালীন চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের কয়েকজন বেতারকর্মী সিদ্ধান্ত নেন যে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনগণকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে তারা বেতারের মাধ্যমে কিছু প্রচার করবেন। এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তারা চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রকে কাজে লাগানোর চিন্তা করেন এবং তার নতুন নাম দেন স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র। তবে তারাও নিরাপত্তার কারণে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রকে কাজে না-লাগিয়ে শহর থেকে কিছু দূরে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে চলে যান এবং ২৬ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে প্রথম প্রচার করেন স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র থেকে বলছি। সে সময়েই এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাটি আবার পাঠ করেন। প্রায় ১ ঘণ্টা অনুষ্ঠান করার পর তারা পরদিন সকাল ৭টায় পরবর্তী অনুষ্ঠান প্রচারের ঘোষণা দিয়ে সেদিনের পর্ব শেষ করেন।
২৮ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রথম অধিবেশনে বিমান হামলায় করণীয় সম্পর্কে নির্দেশমালা প্রচারিত হয় এবং দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রথম একটি কথিকা পাঠ করা হয়। ৩০ মার্চ প্রভাতী অধিবেশনে প্রথম বারের মত জয় বাংলা, বাংলার জয় গানটি প্রচারিত হয়। ৩০ মার্চ দুপুরের অধিবেশন শেষ হবার পর প্রায় ২টা ১০ মিনিটের দিকে বেতার কেন্দ্রে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বিমান হামলা করে যার ফলে এ বেতার কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ বিমান হামলায় কেউ হতাহত না হলেও বেতার কেন্দ্র এবং সম্প্রচার যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে সেখান থেকে সম্প্রচার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠাতা দশজন সদস্য দুটি দলে বিভক্ত হয়ে আগরতলা ও ত্রিপুরার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েন।
৩১ মার্চ সকালে কয়েকজন বেতারকর্মী বেতার কেন্দ্রে অবস্থিত একটি এক কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ছোট সম্প্রচার যন্ত্র উদ্ধার করেন। এই সম্প্রচার যন্ত্র সাথে করে নিয়ে তারা ঐদিনই পটিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং ১ এপ্রিল পটিয়ায় পৌঁছেন। এরপর মূল দলটি ৩ এপ্রিল সম্প্রচার যন্ত্রটি পটিয়ায় রেখে তারা রামগড়ের দিকে রওনা হয়। রামগড়ে পৌঁছে তারা ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স তত্ত্বাবধানে ভারতীয় সীমান্তে অবস্থিত ভারত প্রদত্ত একটি শর্ট ওয়েভ (২০০ ওয়াট শর্টওয়েভ) ট্রান্সমিটার থেকে আবার অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেন। তারপর ৪ এপ্রিল তাদের একটি দল এক কিলোওয়াট সম্প্রচার যন্ত্রটি আনার জন্য পটিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং অপর দল বাগফায় চলে যান। তারা বাগফা হতে ৪-৮ এপ্রিল পর্যন্ত একটি ৪০০ ওয়াট সম্প্রচার যন্ত্র দিয়ে সম্প্রচার চালাতে থাকেন। এরপর ৮ এপ্রিল আবার তারা আগরতলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং বিভিন্ন স্থান হয়ে ১১ এপ্রিল আগরতলায় পৌঁছান। অন্যদিকে দ্বিতীয় দলটি তখন ১ কিলোওয়াট ট্রান্সমিটারটি নিয়ে ১০ এপ্রিলে বাগফা-বেলোনিয়া সড়কের পাশে বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ১০ মাইল দূরে স্থাপন করেন এবং ১২ এপ্রিল তারা সেখান থেকে অনুষ্ঠানও সম্প্রচার করেছিলেন। এ সময় অনুষ্ঠান রেকর্ড করে সম্প্রচার কেন্দ্র থেকে শর্ট ওয়েভে প্রচার করা হতো।
এর মধ্যে ১০ এপ্রিল অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১১ এপ্রিল অল ইন্ডিয়া রেডিও’র শিলিগুড়ি কেন্দ্রকে ‘‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ’’ হিসাবে উল্লেখ করে সেখান থেকে ভাষণ প্রদান করেন এবং এরপরেও বেশ কিছুদিন ঐ কেন্দ্র হতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণসহ আরো নানাবিধ অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়।
এরপর ১৬ এপ্রিল জনগণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্দেশিত ঘোষণা ও আদেশপত্র পাঠ করা হয়। এরপর সেখানে কয়েকদিন অনিয়মিতভাবে সম্প্রচার চলেছে।
আনুষ্ঠানিক যাত্রা
১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের পর মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও বেতারকেন্দ্রের কর্মীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারকে একটি শক্তিশালী ট্রান্সমিটার (৫০ কিলোওয়াট মিডিয়াম ওয়েভ) প্রদান করে। এসময় সকল বেতারকর্মীদের ধীরে ধীরে মুজিবনগরে নিয়ে আসা হতে থাকে। ঢাকা থেকেও ঢাকা বেতারের শিল্পী-কুশলীরাও আসতে থাকেন। প্রথম অধিবেশনের দিন ধার্য করা হয় কবি নজর”ল ইসলামের জন্মবার্ষিকী ১১ জ্যৈষ্ঠ তথা ২৫ মে তারিখ। কলকাতার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের ৫৭/৮নং দোতলা বাড়িটিতে রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য মন্ত্রীদের আবাসের কক্ষের সাথের একটি কক্ষে উক্ত ট্রান্সমিটার দিয়ে সম্প্রচার শুর” হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীরা অন্য বাড়িতে উঠে যাওয়ার পর সেই ৫৭/৮ নম্বর বাড়িটিই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্থায়ী কার্যালয়রূপে গড়ে ওঠে। এরপর থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান নিয়মিতভাবে সম্প্রচারিত হতে থাকে। এই কেন্দ্র দুটি ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কিছু নিয়মিত অনুষ্ঠান হলো পবিত্র কোরআনের বাণী, চরমপত্র, মুক্তিযুদ্ধের গান, যুদ্ধক্ষেত্রের খবরাখবর, রণাঙ্গনের সাফল্যকাহিনী, সংবাদ বুলেটিন, ধর্মীয় কথিকা, বজ্রকণ্ঠ, নাটক, সাহিত্য আসর এবং রক্তের আখরে লিখি। সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল অনুষ্ঠান এম আর আখতার মুকুল উপস্থাপিত চরমপত্র। এখানে তিনি পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অসংলগ্ন অবস্থানকে পুরনো ঢাকার আঞ্চলিক ভাষার সংলাপে তুলে ধরতেন। চরমপত্রের পরিকল্পনা করেন আবদুল মান্নান। আরেকটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান জল্লাদের দরবার পরিচালনা করতেন কল্যাণ মিত্র। অনুষ্ঠানটিতে ইয়াহিয়া খানকে “কেল্লা ফতে খান হিসেবে” ব্যঙ্গাত্মকভাবে ফুটিয়ে তোলা হত। “বজ্র কণ্ঠ” অনুষ্ঠানে শেখ মুজিবর রহমানের ভাষণের অংশবিশেষ সম্প্রচার করা হত। বেতার কেন্দ্রে তর”ণ শিল্পীরা দেশাত্মবোধক ও অনুপ্রেরণাদায়ক গান করতেন। সম্প্রচারের জন্য এসময় অনেক গান ও কবিতা লেখা হয়। কেন্দ্রের গায়কেরা পশ্চিম বঙ্গের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে যুদ্ধকালীন সময়ে তহবিল সংগ্রহ করেন। এছাড়াও বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলা, ইংরেজি ও উর্দুতে সংবাদ সম্প্রচার করা হত।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে নিজ শক্তি এবং মেধায় পরিচালিত হয়েছে। ভারত আমাদের ট্রান্সমিটার ও একটি রেকর্ডিং মেশিন দিয়েছিল। সেই দিয়েই শুর”। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর সিলেটের বেতার কর্মী, শিল্পী-কলাকুশলীরা এটি পরিচালনা করতেন। এ ছাড়া দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ সাংবাদিক ও শিক্ষক-শিক্ষাবিদ তথা লেখক-বুদ্ধিজীবীরা সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের গান ও কথিকা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, চরমপত্র, জল্লাদের দরবার, অগ্নিশিখা, পিন্ডির প্রলাপ পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতেসহ নানা বিষয়ভিত্তিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হতো। এতে অভিজ্ঞ সাংবাদিক ফয়েজ আহমদ, আবদুল তোয়াব খান, মোহাম্মদ উল্লাহ চৌধুরী, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, এমআর আখতার মুকুল, কামাল লোহানী, রণজিৎ পাল চৌধুরী, সলিমুল্লা, সাদেকীন, আমীর হোসেন প্রমুখ প্রধানত বিশ্লেষণাত্মক প্রচারধর্ম কথিকা লিখতেন এবং সেগুলো প্রচারিত হতো। বুদ্ধিজীবী শিক্ষাবিদদের মধ্যে শ্রদ্ধেয় শওকত ওসমান, সৈয়দ আলী আহসান, গাজীউল হক, জহীর রায়হান, আনিসুজ্জামান, এআর মল্লিক ছিলেন এবং রাজনৈতিক নেতা ও সংসদ সদস্যরাও ছিলেন।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে সংবাদ বিভাগ ছিল সর্বত্র গুর”ত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমেই মুক্তিসেনাদের সফলতা, শত্র”র পরাজয় জনগণকে সাহস দেয়া আর মুক্তিসেনাদের মনোবল দৃঢ় রাখার নানা উপাদান প্রকাশিত হতো। সংবাদ বিভাগের দায়িত্বে ছিলাম আমি (কামাল লোহানী)। সহকর্মী শব্দসৈনিক হিসেবে ছিলেন জালালউদ্দিন আহমদ, মৃণালকৃষ্ণ সেন, রণজিৎ পাল চৌধুরী, সুব্রত বড়ুয়া, এ মাসুম, আলমগীর কবীর, আলী যাকের, পারভিন হোসেন, নাসরিন আহমদ, সৈয়দ হাসান ইমাম, আলী রেজা চৌধুরী, নূর”ল ইসলাম সরকার, বাবুল আখতার, এরা নিয়মিত বাংলা ও ইংরেজি বুলেটিন তৈরি ও পাঠ করতেন। এমনকি কথিকা, জীবন্তিকাতেও অংশ নিতেন। মানুষকে শত্র”র মোকাবিলা ফ্রন্টে অটল অবিচল থাকতে সহায়তা করেছিল স্বাধীন বাংলা বেতার।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অনুপ্রেরণার অন্যতম মূল একটা উৎস ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে রচিত গণসঙ্গীত৻ গণ জাগরণের এই সঙ্গীত রচনা ও পরিবেশনায় সেসময় অসামান্য অবদান যাঁরা রেখেছিলেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন বাংলাদেশের বহু সঙ্গীত রচয়িতা, সুরকার-গীতিকার ও শিল্পী৻ সেই সময়ের আবেগ আর উদ্দীপনার ঢেউ তখন স্পর্শ করেছিল প্রতিবেশি পশ্চিমবাংলার বহু মানুষকেও৻ বিশেষ করে পশ্চিমবাংলার সঙ্গীতজগতকেও ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ৻ রচিত হয়েছিল স্মরণীয় কিছু গান৻
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উদ্দীপ্ত রেখেছিল যেসব দেশাত্মবোধক গান, সেইসব গানের বাণী আর সুরে যেমন ছিল সাহসের কথা, যুদ্ধ জয়ের সম্ভাবনার মন্ত্র, তেমনি ছিল দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য আকুতি। এসব গান সমানভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ রেখেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের এবং পাশাপাশি অবর”দ্ধ জনগণকে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সেই উত্তাল দিনগুলোতে প্রেরণার উৎস হিসাবে একটা গুর”ত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র৻
[স্বাধীন বাংলা বেতার ছিল মুক্তিযুদ্ধের অপরিহার্য – কামাল লোহানী, উইকিপিডিয়া বাংলা, বিবিসি বাংলা অবলম্বনে রচিত]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here