দেশজুড়ে শৈত্য প্রবাহ – বিবর্তন ডেস্ক

0
452

বিবর্তন ডেস্ক
কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে প্রায় সারা দেশ। টাঙ্গাইল, শ্রীমঙ্গল, রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চল সমূহের উপর দিয়ে তীব্র শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারী ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ডের পর সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে চলা তীব্র শৈত্য প্রবাহের মধ্যে সোমবার রাতে তেঁতুলিয়ায় দেশের সব রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। মঙ্গলবার সেখানকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বেড়ে ৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। তবে এদিন সকাল থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে, ৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, একই সময়ে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আগের ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস; তবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রয়েছে আগের মতোই ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
উত্তরাঞ্চলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে প্রতিদিন নামছে তাপমাত্রা। গত বুধবার পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া, কুড়িগ্রামের রাজারহাটসহ কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। উত্তরের হিমালয় থেকে নেমে আসা ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া কাহিল করে ছেড়েছে জনজীবন। টাঙ্গাইল, শ্রীমঙ্গল, রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর, নীলফামারী ও চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়েও মাঝারি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে প্রকৃতি-পরিবেশ। রাজধানী ঢাকায়ও এখন পাওয়া যাচ্ছে শীতের আমেজ। উত্তরের জেলাগুলোতে কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ঘর থেকে বের হতে বেশ কষ্ট পাচ্ছে। অনেকে টাকার অভাবে কিনতে পারছেন না শীতবস্ত্র। গরম কাপড়ের অভাবে করুণ দশা অনেকের। বিশেষ করে ছিন্নমুল-হতদরিদ্র মানুষের অবস্থা শোচনীয়। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে তারা। সবচেয়ে বেশী প্রভাব পড়েছে বৃদ্ধ ও শিশুদের মধ্যে।
আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) জানান, ‘‘রাজধানীসহ সারাদেশেই শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে। কারণ উত্তরের হাওয়ার বেগ বেড়েছে। আরও দুদিন তাপমাত্রা একইরকম থাকতে পারে। উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বরিশাল বিভাগ এবং ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপলগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সীতাকুন্ড, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা, ফেনী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, সৈয়দপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারী ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ’’ তিনি আরও জানান, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে চলে গেলে তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৮ ডিগ্রীর নিচে গেলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ ও ৬ ডিগ্রির নিচে গেলে তীব্র শৈত্য প্রবাহ বলে উল্লেখ করা হয়।
এ আবহাওয়াবিদ আরো বলেন, শীতের তীব্রতা থাকবে। আর জানুয়ারির শেষে আবার শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারী ধরনের কুয়াশাও অব্যাহত থাকতে পারে।
সরকারিভাবে জেলা, উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি, বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু কিছু এলাকায় গরম কাপড় বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অতি সামান্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here