বেপরোয়া বাস কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ

0
561

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন মারা যান। এ ঘটনার রেষ কাটতে না কাটতেই বনানীতে বেপরোয়া বিআরটিসি বাসের চাপায় পা হারানো গৃহকর্মী রোজিনা আক্তারও রোববার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চলে যান না ফেরার দেশে।

অদক্ষ ড্রাইভার, ফিটনেসহীন বাসের কারণে এসব ঘটনা ঘটছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন। রোববার সকালে ট্রাফিক পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মফিজুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এ দুটি ঘটনাই নয়, আরো বেশকিছু ঘটনা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। এসব তদন্তে দেখা গেছে, রাজধানীর বাসগুলো রাস্তায় অঘোষিত প্রতিযোগিতায় নামে। এতে  প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। অনেকেই প্রাণ হারাচ্ছেন, আবার অনেকেই পঙ্গু হচ্ছেন এসব ঘটনায়। তবে রাজধানীতে চলাচলকারি বাসগুলো কীভাবে আরো নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় সেজন্য ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে ট্রাফিক পুলিশ। একই সঙ্গে পথচলায় জনগণকে আরো সতর্ক থাকতে হবে।’

ট্রাফিক পুলিশ বলছে, রাজধানীর বেশিরভাগ গণপরিবহনই ফিটনেসবিহীন। আবার চালক অত্যন্ত দক্ষ বা বয়স্ক নয়। তাছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থারও দুর্বলতা রয়েছে। এসব কারণেই মূলত দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। আবার মাঝে মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তারা সাজার পর বের হয়ে আবার একইভাবে রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছে। অদক্ষ, অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকেরা যেন কোনোভাবেই রাস্তায় গাড়ি বের করতে না পারে সেজন্য ট্রাফিক পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। আবার দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী মাসে এসব ব্যবস্থা নিয়ে রাস্তায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

ঢামেক হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, ২০ এপ্রিল রাতে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় উত্তরাগামী বিআরটিসির দোতলা বাসের চাপায় পড়ে রোজিনার ডান পা। পরে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়া হয়। রোববার সকাল ৭টা ২০মিনিটে চিকিৎসকের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে চলে যায় সে।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল সকালে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দুই বাসের রেষারেষিতে ডান হাত হারানো সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব।

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি এপ্রিল মাসে রাজধানীর ১১৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যেই ওই দু’জন ছাড়াও আরো ৩ ব্যক্তি মারা গেছেন। অনেকেই শরীরে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হারিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here