মনোনয়নপত্র জমা ৩০৫৬

0
15

দলীয় মনোনয়নবঞ্চিতদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল রাতে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, ৩০০ আসনে তিন হাজার ৫৬ জনের মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে অনলাইনের আবেদন হয়েছে ৩৯ জনের। এবার কোনো আসনে একক প্রার্থী নেই। সবচেয়ে কম চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মাগুরা-২ আসনে। আর সবচেয়ে বেশি ২৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ঢাকা-১৭ আসনে।

বিভাগ অনুযায়ী রংপুরে ৩৬১টি, রাজশাহীতে ৩৫৩টি, খুলনায় ৩৫১টি, বরিশালে ১৮২টি, ময়মনসিংহে ২৩৬টি, ঢাকায় ৭০৮টি, সিলেটে ১৭৭টি ও চট্টগ্রামে ৬৮৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। অনলাইনে জমা দেওয়া ৩৯টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে ফরম পূরণ করা হয়েছে ২৩টি। বাকি ১৬টিতে অপূর্ণাঙ্গ তথ্য রয়েছে বলে ইসি সচিব জানান। ফলে বাছাইয়ে এগুলো বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে এ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় শেষ হলো। এরপর আগামী ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন পার হলেই এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চূড়ান্ত হয়ে যাবে। বাছাইয়ের পরে যাঁর পক্ষে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের জন্য চূড়ান্ত চিঠি যাবে, তিনিই হবেন দলের মনোনীত প্রার্থী। অন্যরা এমনিতেই প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়বেন। ১০ ডিসেম্বর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক ও আইনানুগ প্রচারণা। এরপর ভোটগ্রহণ হবে ৩০ ডিসেম্বর।

প্রার্থী নিজে ও তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী এলাকায় উৎসবের আমেজ ছিল। গতকাল শেষ দিনে সকাল থেকে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন অনেক প্রার্থী। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন নিরাপত্তা জোরদার করে। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নির্বাচনে অংশ নিতে স্থানীয় সরকারের কয়েকজন জনপ্রতিনিধির পদত্যাগের ঘটনাও ঘটেছে। হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে পৌর মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন জি কে গউছ। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন।

ঢাকায় উৎসবমুখরতা : মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন গতকাল ঢাকার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভিড় ছিল। দুই শতাধিক প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। প্রার্থীদের বেশি সমর্থক নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রবেশে কড়াকাড়ি ছিল। শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের ভিড় ছিল। সাকাল ১১টার দিকে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী, তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জমজমাট হয়ে ওঠে।

ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার কে এম আলী আজম ঢাকা মহাগরীর ১৫টি আসনের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় পাঁচ থেকে সাতজনের বেশি কর্মী-সমর্থক সঙ্গে না আনতে ইসির পক্ষ থেকে বিধি-নিষেধ দেওয়া হলেও অনেকেই তা মানেননি। সকাল ৯টা থেকেই শুরু হয় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া। প্রথমে মনোনয়নপত্র জমা দেন ঢাকা-৪ আসনের যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব মো. কবির হোসেন। এরপর সকাল সোয়া ৯টার দিকে মনোনয়নপত্র জমা  দেন ঢাকা-১০ আসনের জন্য ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শামসুল আলম মিশুক। এরপর একে একে জমা দেন ঢাকা-১২ আসনের জন্য বিএনপি প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান, ঢাকা-৮ আসনের জন্য ন্যাশনাল কংগ্রেস বাংলাদেশের প্রার্থী কাজী মো. ছাবের আহাম্মাদ, ঢাকা-৯ আসনের জন্য একই দলের মাহফুজা আক্তার বিনা।

সকাল ১১টার দিকে ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সারা দেশে নির্বাচনের উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হওয়ার মতো কোনো কাজ সরকার করবে না। আমরা এখন নামকাওয়াস্তে এমপি। আমাদের ভূমিকা বা প্রভাব নির্বাচনকালীন সময়ে সে অর্থে থাকবে না।’ এর আগে ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব প্রতিনিধির মাধ্যমে ও একই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী আনোয়ারুজ্জামান নিজে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। বিএনপি এ আসনে নীরবকে মনোনয়ন দিয়েছে।

ঢাকা-১৮ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাহারা খাতুন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে তিনি ‘শতভাগ আশাবাদী’। এরপর ঢাকা-১৩ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাদেক খান ও বিএনপির আবদুস সালাম মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে সালামের সঙ্গে আতাউর রহমান ঢালীকেও মনোনয়নে প্রত্যয়ন দিয়ে রেখেছে বিএনপি। সাদেক খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত আন্দোলন-সংগ্রামে আমি রাজপথে ছিলাম। নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। জনগণ আজ নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।’ একই আসনে বিএনপি প্রার্থী দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। আমার নির্বাচনী এলাকা মোহাম্মদপুর, আদাবরে আমার আর কোনো কর্মীকে যেন গ্রেপ্তার করা না হয়।’

আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মধ্যে আরো মনোনয়নপত্র জমা দেন ঢাকা-১৪ আসনের আসলামুল হক, ঢাকা-১৬ আসনের ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ্, ঢাকা-১১-এর এ কে এম রহমতুল্লাহ্, ঢাকা-১৮ আসনের জন্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। জাতীয় পার্টি থেকে ঢাকা-৮ আসনের আরিফুর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী  ঢাকা-১০ আসনে শামসুল আলম মনোনয়নপত্র জমা দেন।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের মোট ১১টি আসনে ৮৬ জনের মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের আছেন ৯ জন। এর মধ্যে সদর ও ঈশ্বরগঞ্জ আসনে আওয়ামী লীগের কেউ মনোনয়ন জমা দেননি। বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২৪ জন। এই ৩৩ জন ছাড়া আরো ৫৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে আছেন ইসলামী আন্দোলন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের একাধিক প্রার্থী। আছেন জাকের পার্টি, জাসদ ও সিপিবির প্রার্থী। আওয়ামী লীগেরও কোনো কোনো নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তবে তাঁরা শেষ পর্যন্ত থাকবেন না বলেই জানা গেছে। যদি ঘোষিত প্রার্থী কোনো কারণে বাদ পড়েন—এ আশায় তাঁদের অনেকেই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বেগম রওশন এরশাদ মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ময়মনসিংহ সদর ও ত্রিশাল আসনে।

জামালপুর জেলায় মোট পাঁচটি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৫০ জন। এর মধ্যে সাতজন আওয়ামী লীগের। ১০ জন বিএনপির। বাকিরা জাতীয় পার্টি, সিপিবি, স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন দলের। নেত্রকোনা জেলায় মোট পাঁচটি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৩৮ জন। আওয়ামী লীগ থেকে পাঁচজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বিএনপি থেকে দাখিল করেছেন ১৪ জন। বাকিরা স্বতন্ত্র এবং বিভিন্ন দলের।

শেরপুর জেলার তিনটি আসনে ২০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। প্রতি আসনে আওয়ামী লীগ একজন করে মোট তিনজন প্রার্থী দিয়েছে। তবে প্রতিটি আসনেই বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। জানা গেছে, বিএনপির ৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বাকিরা জাতীয় পার্টি, সিপিবি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন দলের।

বরিশাল বিভাগ : বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলায় ২১টি আসনের মধ্যে বিভাগী শহরের ছয়টি আসনে ৫১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের চারজন, বিএনপির ১২ জন, জাতীয় পার্টির চারজন, জেপির একজন, জাসদ দুজন, ওয়ার্কার্স পার্টির দুজন, ইসলামী আন্দোলনের ছয়জন, বিকল্পধারার একজন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির একজন, খেলাফত মজলিসের দুজন, বিএনএফের একজন, এনপিপির দুজন, জাসদ (ইনু) ও জাসদের (আম্বিয়া) পক্ষে দুজন, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির একজন, গণফোরামের দুজন, ইসলামী ঐক্যজোটের একজন, জাকের পার্টির একজন এবং স্বতন্ত্র হিসেবে আটজন তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

বরগুনার দুটি আসন থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন সর্বমোট ২১ জন। পটুয়াখালীর চারটি আসনে ৩৬ জন প্রার্থী ও  ভোলার চারটি আসনে ২১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ঝালকাঠির দুটি আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ২১ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। পিরোজপুরের তিনটি আসনে ২৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২১ জন, বিএনপির ৪৩ জন, ইসলামী আন্দোলনের ১৯ জন, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) ১৩ জন, সিপিবির ছয়জন, বিএনএফের পাঁচজন, ইসলামী ঐক্যজোটের ছয়জন, এনপিপির সাতজন, ওয়ার্কার্স পার্টির চারজন, গণফোরামের চারজন, বাসদের দুজন, বিজেপির দুজন, জেপির চারজন, খেলাফত মজলিস তিনজন, জাসদ (ইনু) দুজন, জাকের পার্টি দুজন, এলপিপি, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ (আম্বিয়া), জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল, লেবার পার্টি, তরীকত ফেডারেশন ও স্বতন্ত্র ২৩ জন।

চট্টগ্রাম বিভাগ :  নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম বিভািগে  ৬৮৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জানালেও কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি জানান, এ বিভাগের ৫৮টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য মিলে ৬৮৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তাঁদের বেশির ভাগই গতকাল শেষ দিনে নিজ নিজ এলাকায় রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। জাতীয় সংসদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে পার্বত্য জেলা বান্দরবান পর্যন্ত ৫৮টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ১৮০ জন; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনে ৭১ জন; কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ৯টির তথ্য পাওয়া গেছে, কুমিল্লা-১ ও ২ ছাড়া অন্য ৯টিতে ৬২ জন; লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনে ৪৬ জন; চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে ৫৮ জন; নোয়াখালীর ছয়টি আসনে ৭১ জন; ফেনীর তিনটি আসনে ৩৩ জন; কক্সবাজারের চারটি আসনে ৩৪ জন; খাগড়াছড়ির একটি আসনে ১১ জন; রাঙামাটির একটি আসনে ১২ জন; বান্দরবানের একটি আসনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এসব প্রার্থীর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রয়েছেন চট্টগ্রামে তিনজন, কুমিল্লায় একজন এবং  কক্সবাজারে একজন।

রাজশাহী বিভাগ :  রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী জেলার জমা পড়েছে ৫৩টি, জয়পুরহাটে ১৬টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৩টি, নওগাঁয় ৪৩টি, পাবনায় ৩৮টি, নাটোরে ৩৫টি ও সিরাজগঞ্জে ৫১টি।

জমা পড়া মনোনয়নপত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপির ৬২টি, আওয়ামী লীগের ৩৫টি এবং জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী  হিসেবে ছয়টি, দুজন নারীসহ অন্য কয়েকটি দল ও অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন।

রংপুর বিভাগ : রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৩টি আসনে আওয়ামী লীগের ৩২ জন, বিএনপির ৬৩ জন, জাতীয় পার্টির ৩২ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৫৪ জন, জাসদের সাতজন, সিপিবির আটজন, এনপিপির ১৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২২ জন, জাগপার দুজন, জাকের পার্টির ১০ জন, জামায়াতের আটজন, মুসলিম লীগের তিনজন, বাসদের ৯ জন, বিএনএফের চারজন, বাম গণতান্ত্রিক জোটের দুজন,  ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের তিনজন, বিকল্পধারার দুজন, পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের একজন, খেলাফত মজলিস একজন, তরীকত ফেডারেশন একজন, জেপির তিনজন, গণফোরামের পাঁচজন, ওয়ার্কার্স পার্টির পাঁচজন, ঐক্যফ্রন্টের চারজন, ন্যাপ দুজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের একজন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের দুজন, গণফ্রন্ট দুজন, নাগরিক ঐক্য একজন, গণতন্ত্রী পার্টি একজন, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি একজন ও ইসলামী ঐক্যজোটের একজন। এ ছাড়া কোনো কোনো আসনে একই দলের একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

সিলেট বিভাগ : সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে ১৭৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ১৭৮ জনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৭ জন, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট ৩৪ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাঁচজন, জাতীয় পার্টি পাঁচজনসহ বিভিন্ন বাম ও  ইসলামী দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। সিলেট বিভাগে নারী প্রার্থীর সংখ্যা তিনজন। আর জামায়াতের প্রার্থীর সংখ্যা তিনজন।

সিলেটের ছয় আসনে ৬৬ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের পাঁচজন, বিএনপির ১৩ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের পাঁচজন, জাতীয় পার্টির তিনজন, দুই বাসদের দুজন, খেলাফত মজলিসের দুজন, জামায়াতের দুজন, গণফোরামের একজন ও বিএনএফের একজন রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ইসলামী দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরো ৩২ জন মনোনয়ন দাখিল করেন।

মৌলভীবাজার জেলার চার আসনে ২৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে তিনজন আওয়ামী লীগ, বিএনপির ছয়জন, বিকল্পধারার একজন, গণফোরামের একজন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চারজন, ইসলামী ফ্রন্টের দুজন, জাতীয় পার্টির একজন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির একজন, খেলাফত মজলিসের দুজন রয়েছেন। এ ছাড়া আরো তিনজন স্বতন্ত্র  হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন; এর একজন জামায়াতের নেতা।

সুনামগঞ্জে পাঁচটি আসনে ৫১ প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পাঁচজন, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট মিলে ১০ জন, এলডিপি একজন, জাসদ একজন, মুসলিম লীগ দুজন, গণতন্ত্রী পার্টি একজন, সিপিবি একজন, জাতীয় পার্টি একজন এবং স্বতন্ত্র ও অন্য দল মিলে ২৯ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

হবিগঞ্জে চার আসনে ৩৭ প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে চারজন, বিএনপি থেকে পাঁচজন, স্বতন্ত্র তিনজন এবং অন্যান্য দল থেকে আরো ২৫ জন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here