প্রস্তুতি পর্বও পিছিয়ে গেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার

0
69

প্রতিবছরের ১ জানুয়ারি শুরু হয়ে যায় মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার সেই আয়োজন পিছিয়ে গেছে ৯ দিন। নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে এই বাড়তি সময় পেলেও সে অনুযায়ী মেলার অবকাঠামো দাঁড়ায়নি এখনো। এখনো চলছে মেলার মাঠ উন্নয়নের কাজ।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাণিজ্য মেলার চত্বর ঘুরে গতকাল মঙ্গলবার এমন চিত্র দেখা গেছে। প্রথা অনুযায়ী গতকাল ১ জানুয়ারি থেকেই বাণিজ্য মেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল।  জাতীয় নির্বাচনের কারণে তা পিছিয়ে শুরু হচ্ছে আগামী ৯ জানুয়ারি। চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু বাড়তি হিসাবে পাওয়া এই সময়টা মেলা কর্তৃপক্ষ ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। ভেতরে কয়েকটি বড় প্যাভিলিয়নের কাজ দ্রুতগতিতে চললেও এখনো অনেক কাজই বাকি রয়ে গেছে।

জানা গেছে, মেলার এবারের আয়োজনে প্রবেশদ্বার নির্মাণ করা হবে দেশের উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে মেট্রো রেলের আদলে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত এর কোনো অবয়ব দেখা যায়নি। তবে মেলার দুই প্রান্তে সুন্দরবন ইকো পার্ক নির্মাণের কাজ চলতে দেখা গেছে।

প্রতিবছরের আয়োজনেই দেশের বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টিনন্দন কিছু প্যাভিলিয়ন থাকে। এবারও তেমন বেশ কিছু স্টল থাকবে। তবে ওই সব স্টলের দু-চারটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কারো প্যাভিলিয়নের অবয়ব গতকাল পর্যন্ত চোখে পড়েনি। যে কয়েকটি স্টল উন্নয়নের কাজ চোখে পড়েছে এগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইলেকট্রনিকস পণ্যের প্যাভিলিয়ন এলজি বাটার ফ্লাই, প্রাণ-আরএফএলের বেস্ট বাই, বেক্সি ফেব্রিক্স ও হোমটেক্সের প্যাভিলিয়ন।

জাতীয় নির্বাচনের কারণে রাজধানীর বেশির ভাগ নির্মাণ শ্রমিক গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। তা ছাড়া স্থানীয়ভাবে এত শ্রমিকের সংকুলান করাটা খুব কঠিন। তাই রাজধানীর আশপাশে যারা থাকে তাদের দিয়ে নিয়মিত কাজগুলো করানো হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে মেলার প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে।

বেক্সি ফেব্রিক্সের স্টলের নির্মাণকাজ করছিলেন গাজীপুরের রমিজ মিয়া। তিনি বললেন, ‘নির্বাচনের কারণে গত কয়েক দিন কাজ করি নাই। আজ সকালে আইছি। এই স্টলের কাজ তো প্রায় শেষ। ফ্লোর আর কিছু রঙের কাজ বাকি আছে। এগুলোও দুই-চাইর দিনের মধ্যে শেষ অইয়া যাইবো।’

ইপিবি সূত্রে জানা যায়, এবারের বাণিজ্য মেলায় স্টল ও প্যাভিলিয়ন মিলিয়ে দেশি-বিদেশি প্রায় সাড়ে পাঁচ শ প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মেলায় এ পর্যন্ত ৪৩টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। মেলায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে গতবারের চেয়ে এবার বিদেশিদের আগ্রহ অনেক বেশি।

মেলায় স্থান পাবে সংরক্ষিত নারী স্টল ২০টি, প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৬০টি, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৮টি, সাধারণ প্যাভিলিয়ন ১৮টি, সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়িন ২৯টি, প্রিমিয়ার স্টল ৬৭টি, রেস্টুরেন্ট তিনটি, সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন ৯টি, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন ছয়টি ও বিদেশি প্যাভিলিয়ন ২৬টি।

বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, চীন, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ভুটান, নেপাল, মরিশাস, ভিয়েতনাম, মালদ্বীপ, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, সোয়াজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও হংকং।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দেশের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান নিজেদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করে। দেশি-বিদেশি পণ্য প্রদর্শন, রপ্তানি বাজার অনুসন্ধান এবং দেশি-বিদেশি ক্রেতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিল্প ও ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারীরা একদিকে তাদের উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান, ডিজাইন, প্যাকেজিং ইত্যাদি প্রদর্শন ও বিপণন করতে পারেন। অন্যদিকে পারস্পরিক সংযোগ স্থাপনসহ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারেরও সুযোগ তৈরি হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here