বড়দিনের প্রেরণা

0
75

বড়দিন অবশ্যই আনুষ্ঠানিকতা থেকে আরো বেশি কিছুবড়দিন অবশ্যই আনুষ্ঠানিকতা থেকে আরো বেশি কিছুইঞ্জিল শরীফ, লূক ১ : ৩০-৪৯
ভূমিকা : ইফিষীয় ৫ : ১৮ মাতাল হয়ো না, তাতে চরিত্র নষ্ট হয়। তারচেয়ে বরং পবিত্র আত্মাতে পূর্ণ হতে থাকো। ১. বড়দিনের প্রেরণা নিয়ে আমরা অনেক কথা বলতে পারি। ক) যেমন খ্রীষ্টমাস ট্রিতে লাইট দিয়ে সাজানো, অথবা খ্রীষ্টমাস ট্রি ক্রয় করে সাজিয়ে রাখা। বড়দিনের আনন্দ পাবার জন্য তা অনলাইনে অর্ডার করলে ঘরের দরজায় পৌঁছে যাবে। খ)  অফিসে প্রাক্-বড়দিনের অনুষ্ঠান করা। বড়দিনের ছুটির আগে বড়দিনের প্রেরণা দানের জন্য এরকম অনুষ্ঠান করা হয়ে থাকে। গ) সান্তা ক্লজ সেজে ছোট-বড় সকলকে আনন্দ দেয়া। বাড়ি বাড়ি বড়দিনের গান গেয়ে সকলকে বড়দিনের প্রেরণা দান করা। আরো অনেকভাবে বড়দিনের আনন্দ আমরা উপভোগ করতে সচেষ্ট থাকি।
২. আমরা বড়দিন সম্পর্কে সকলে জানি। কিন্তু আমার জানতে ইচ্ছে করে, আমরা যা যা করে বড়দিনের প্রেরণা পেতে চাই তা কি সত্যিকার অর্থে আমরা উপলব্ধি করতে পারি! বড়দিনের (হযরত ঈসা মসীহের জন্মদিন) প্রেরণার বাণী ইঞ্জিল শরীফ লূক ১:৩০-৪৯ আয়াত১. এটি পবিত্র : ফেরেস্তা বললেন, “পবিত্র আত্মা তোমার ওপর আসবেন এবং মহান খোদার শক্তির ছায়া তোমার ওপরে পড়বে। এজন্য যে পবিত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করবেন তাঁকে খোদার পুত্র বলা হবে” (লূক ১:৩৫)।
ক) হযরত ঈসা মসীহের অনুসারীগণ শুধুমাত্র বুঝতে পারে যে, বড়দিনের প্রেরণা হলো খোদার বহুমূল্য পবিত্র আত্মা বা পাক রূহ। যা ঈসায়ীদের মধ্যে, ঈসায়ীদের কাছে বসবাস করেন।   বড়দিনে অন্য যেকোনো আত্মা বা প্রেরণা তা শয়তান বা মন্দতা থেকে আসে।  অনেকে মনে করে থাকে বড়দিনের প্রেরণা তা মনোভাবে বা আপনার ঘরের যেকোনো সাজ-পোশাকে। খ) বড়দিনের প্রেরণা নিম্নোল্লেখিত উপায়ে পবিত্র/ খাঁটি/পরিষ্কার :১) এর উদ্দেশ্য খাঁটি।   বড়দিন এই কারণে খোদা প্রস্তুত করেননি যে তা অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।   আপনি একবার অনুভব করুন সারা বছরের ক্রয়-বিক্রয়ের অর্ধেক বড়দিনকে উপলক্ষ করে পৃথিবীতে হয়ে থাকে।   মানবসমাজে জাগতিক আনন্দ-উল্লাস করার জন্য বড়দিনের আগমন ঘটেনি।   কিন্তু মানবসমাজের মুক্তি, পবিত্রতা, পাপীদের দোযখে যাবার পথ থেকে পরিত্রান বা নাজাত দানের জন্য বড়দিনের আগমন। বড়দিনের এই পবিত্রতার জন্য খোদার ধন্যবাদ করি। আমাদের অনেকের কাছে, আমাদের জীবনে বড়দিন হলো একমাত্র পবিত্র বিষয়। ২) স্বভাবের মধ্যে খাঁটি। সেখানে অশ্লীলতা এবং উপহাসের কোনো স্থান নেই। কিছু লোকের কাছে বড়দিন মানে হলো হৈ হুল্লা করা, মদ পান করা, বাহারী সাজে ব্যস্ত থাকা। তাই ১৬৪৪ সালে ইংরেজদের সংসদে বড়দিনের দিন এই সব করার বিরুদ্ধে আইন পাশ করা হয়েছিল। এভাবে এর পবিত্রতা রক্ষা করতে উদ্যোগ নিতে হয়েছিল। গ) অংশগ্রহণের মধ্যে পবিত্রতা : বড়দিন উদ্যাপনে লোকদের দিকে লক্ষ করেছেন? ১) একজন কুমারী যুবতী মেয়ে যাঁর নাম মরিয়ম ২) একজন খোদাভীরু মানুষ যাঁর নাম ইউসুফ ৩) একজন সন্দেহভাজন, কিন্তু বিশ^স্ত বৃদ্ধমানুষ যাঁর নাম হযরত জাকারিয়া  ৪) একজন খোদাভীরু বৃদ্ধা মহিলা যাঁর নাম ইলীশাবেত ৫) একজন ধার্মিক ও খোদাভক্ত লোক যাঁর নাম নবী শিমিয়োন ৬) একজন খোদাভীরু বৃদ্ধা মহিলা যাঁর নাম নবী হান্না৭) আর তেমন কেউ ছিলেন না, শুধুমাত্র কিছু মেষপালক (রাখাল) এবং কয়েকজন পূর্ব দেশের প-িত। ঘ) বড়দিনে যে গান গাওয়া হয় তা যদি লক্ষ করেন তাহলে দেখবেন তাতে Ñ গানগুলো পবিত্রতা, শুদ্ধতা এবং অন্ধকারের আলোর কথা প্রকাশ করে। আবার কোথাও কোথাও এমন আধুনিক গান পরিবেশন করা হয় যেখানে হযরত ঈসা মসীহের জন্মদিনের পবিত্রতা প্রকাশ পায় না। ঙ) বড়দিনের প্রেরণায় আমাদের প্রথম চিন্তা করতে হবে এটি একটি পবিত্র দিন। আমাদের ঘরে, হৃদয়ে খোদার পবিত্রতার বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে।  তর্ক, ঝগড়া, উন্মত্ততা, অপরাধ করা, লোন নিয়ে পরিশোধ না করা, নিজের কত আছে অন্যকে দেখিয়ে একধরনের আত্মতৃপ্তি হওয়া, এবং এরকম আরো অনেক কিছু থেকে নিজেদের বিরত রাখা।  বিষণ না থাকা, খারাপ স্মৃতি ভুলে যাওয়া, হতাশা বা ব্যর্থতা মনের মধ্যে স্থান না দেয়া ইত্যাদি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে।  আমরা যদি নাজাত বা পরিত্রাণ পেয়ে থাকি তাহলে ঐসব কিছু পবিত্রতার সাথে মানায় না। “তার পরিবর্তে খোদাকে তোমাদের মনকে নুতন করে গড়ে তুলতে দাও, আর খোদার দেয়া নুতন ‘আমি’কে নুতন কাপড়ের মতোই পরো। সত্যের নির্দোষিতা ও পবিত্রতা দিয়ে এই নুতন ‘আমি’কে খোদার মতো করে সৃষ্টি করা হয়েছে” (ইফিষীয় ৪ : ২৩-২৪ আয়াত)।  যেহেতু আমরা হযরত ঈসা মসীহের মাধ্যমে নাজাত বা পরিত্রাণ লাভ করেছি তাই তাদের জীবন ও ঘরকে পবিত্র রাখা উচিত।
২. এই দিনটি ক্ষমতাশালী (লূক ১:৩০-৩৭) খোদার কাছে অসম্ভব বলে কোনো কিছুই নেই। ক) বড়দিনের প্রেরণা সৃষ্টির শুরুতেই সৃষ্ট। খ) বড়দিনের প্রেরণা হলো সমন্বয়ের প্রেরণা  যা ঘটেছিল সব কিছু বেহেস্তে ঘটেছিল, এবং এর নিয়তি পবিত্র আত্মার পরিচালনায় প্রত্যেক ঈসায়ীদের মাঝে বিরাজিত। গ) বড়দিনের প্রেরণা ক্ষমতাশালী কারণ :  কুমারী মেয়ে সন্তান জন্ম দিলেন  এটিই হলো ক্ষমতা !  তাঁর বাগদত্তা স্বামী তাঁর গর্ভধারণের সংবাদ জানার পরও তিনি তাঁকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছেন- যা সাধারণত কোনো পুরুষ সহজে রাজি হয় না।   প-িতগণকে বেথলেহেমের দিকে পথ দেখিয়ে আকাশের একটি তারা পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আর সেই তারাটি ঠিক যে জায়গায় শিশু ঈসা জন্ম নিলেন সেখানে গিয়ে স্থির হলো।   এই দিনটি আমাদেরকে সমস্ত প্রতিকূল পরিবেশে পথ চলতে পরিচালনা দিয়ে থাকে। গ) বড়দিন প্রেরণা দেয় সর্তক থাকতে : বড়দিনের ঘটনা বা হযরত ঈসা মসীহের জন্মের বৃত্তান্ত বিস্তারিত ভাবে ইঞ্জিল শরীফে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং তা অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে।  তিনি নিজেকে গৌরবান্বিত করতে নয় কিন্তু খোদাকে গৌরবান্বিত করতে এসেছিলেন (লূক ২: ১৪ আয়াত)। মানবজাতির জন্য যে খোদার পরিকল্পনা তা বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, এর মধ্যে কোন রকম ঘাটতি নেই।  খোদার পবিত্র আত্মা আপনার প্রতি সর্তক। তিনি নম্র এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  যদি আপনি বড়দিনের সত্যিকারের প্রেরণায় নিজেকে পূর্ণ রাখেন তাহলে আপনি এর ক্ষমতা দেখতে পাবেন। আপনার জীবনে খোদার ক্ষমতা স্পষ্ট উপলব্ধি করতে পারবেন।
৩. বড়দিন উপর থেকে এসেছে (লূক ১:৩৭ ও ইয়াকুব ১:১৭ আয়াত) : “আর তা আসে খোদার কাছ থেকে, যিনি সমস্ত আলোর পিতা। চঞ্চল ছায়ার মতো করে তিনি পরিবর্তিত হয়ে যান না।”
ক) বড়দিন পৃথিবীর কোন মানুষের তৈরি এমন কিছু নয়। খ) যদি আপনি বড়দিনের প্রেরণা খুঁজে পান দামী খাবারে, পোশাকে, পানীয় পানে তাহলে আপনি ভুল বড়দিনের প্রেরণায় আছেন এবং আপনার জীবনে জরুরী ভাবে ঈসা মসীহকে প্রয়োজন। “আমরা পৃথিবীর আত্মাকে পাইনি, বরং খোদার কাছ থেকে তাঁর আত্মাকে পেয়েছি, যেন খোদা আমাদের যে সব দান দিয়েছেন তা বুঝতে পারি” (১ করিন্থীয় ২:১২ আয়াত)। গ) আপনি দেখবেন :Ñ শুধুমাত্র খোদার কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই। এই পৃথিবী শুধু সরকারি বা পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতার দিকে তাকিয়ে থাকে। তারা হযরত ঈসা মসীহের প্রয়োজন অনুভব করে না।  শুধুমাত্র খোদাতে অনন্তকালীন আনন্দ বিরাজমান।  আপনি যা যা ভালো এবং সঠিক দান পেতে চান তা শুধুমাত্র খোদার কাছ থেকে আসে। চ) জগতের যে আনন্দ তা ক্ষণস্থায়ী, একদিন শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু খোদাতে যে আনন্দ তা কখনও শেষ হবে না।
৪. বড়দিন হলো সহজ/সাধাসিধা ঘটনা : ক) “শোনো, তুমি গর্ভবতী হবে আর তোমার একটি ছেলে হবে। তুমি তার নাম ঈসা রাখবে। তিনি মহান হবেন। …মরিয়ম বললেন, ‘আমি প্রভুর সেবিকা, আপনার কথা মতোই আমার উপর সবকিছু হউক।’ এরপরে ফেরেস্তা মরিয়মের কাছ থেকে চলে গেলেন।” (লূক ১:৩১, ৩৮)।  খ) এটিই। খোদা সত্যিকার অর্থে মরিয়ম থেকে তাই চেয়েছিলেন। আপনি কি উপলব্ধি করতে পারছেন:  তাঁকে পূর্ব থেকে কোনো প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি কিন্তু তিনি খোদার ইচ্ছা সহজে মেনে নিলেন।   তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে যাননি, ভয় পাননি কোথায় তাঁর পুত্র। সেজন্য তিনি নিজেকে লজ্জিত করেন নি।   তিনি তাঁর জীবনে এই ঘটনাকে সচারাচর সহজ ঘটনা হিসেবে জীবনে গ্রহণ করেছেন। গ) কিন্তু জগতের সুখ বা আনন্দ বেশ জটিল  বিশেষভাবে বড়দিনে  আমরা অনেক সময় সব কিছু নিখুঁত বা নির্ভেজাল পেতে চাই  আমরা ভালো সবকিছুতে হাসিমুখে থাকি।   আমরা সবকিছুতে নিজের চাহিদা মতো পেতে চাই তাতে সন্তুষ্টি।   আমরা বেশ সুন্দর বড়দিনের কার্ড লিখতে চাই।   আমরা চিন্তা করি অনেক লোক আমাকে ভালোবাসবে ও আমার কাজে আনন্দ করবে। ঘ) বড়দিনে হতে পারে সহজ কিছু বিষয় : এই দিন শিশুদের যতœ নেয়া  পরিবারের সাথে সময় দেয়া  হযরত ঈসা মসীহের জন্য উপহার প্রদান  খোদার গৌরবের জন্য গান করা। ঙ) সহজ ভাবে বড়দিন পালনে কিছু পরামর্শ  আসুন অনুতাপ করি এবং বড়দিন হোক সঠিক কাজ করার প্রেরণা।    বড়দিনের উপাসনা করতে ম-লী বা জামাতে যান।  মসীহের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে পরিত্রাণ বা নাজাত গ্রহণ করুন। এটিই সহজ উপায়! অনেক ব্যস্ততায় নিজেকে না রেখে বরং প্রতিদিন কিতাব পাঠে সময় দিন।  পরিবারের সাথে বড়দিনের ঘটনা পাঠ করুন।  প্রভুর জন্য সাধ্যমতো দান করুন।  প্রভুর প্রশংসার গান করুন আপনার পরিবার ও প্রতিবেশীকে ভালোবাসুন খোদাকে বিশ^াস করুন  তাঁর উপর গভীরভাবে আস্থা রাখুন।  ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞ হোন  সমস্ত বিষয়ের জন্য, সবকিছুর জন্য খোদাকে ধন্যবাদ দিন
৫. বড়দিন হলো পূর্ণ সন্তুষ্টি (লূক ১ : ৩৯-৪৪ আয়াত)ক) ইলীশাবেত যখন শুনলেন তাঁর চাচাতো বোন মরিয়ম সন্তান সম্ভাবা তখন তিনি খুবই আনন্দিত হলেন। খ) যখন মরিয়ম ইলীশাবেতের বাড়িতে আসলেন, তখন ইলীশাবেত পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হলেন। লক্ষ্য করুন ইলীশাবেত কিছু সময়ের জন্যও ভীতু হোননি (লূক ১:২৪ আয়াত)   তাঁর এবং তাঁর চাচাতো বোন মরিয়মের জীবনে যে খোদার হাত রয়েছে সে বিষয়ে তিনি খুবই সচেতন ছিলেন।   খোদার পবিত্র আত্মাই তাঁর সব কিছু বলে দিচ্ছেন, অন্য কেউ তা জানেন না।   এটিকে বলা হয় আধ্যাত্মিক জ্ঞান  পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হওয়া। ইফিষীয় ৫:১৮ আয়াত।গ) তিনি আনন্দে পূর্ণ ছিলেন  যা কিছু ঘটছে তা মনে হতে পারে রূপকথা কিন্তু সত্য।   ঘ) এটি-ই হলো পবিত্র আত্মা, বড়দিনের প্রেরণা যা একজন ব্যক্তি তার জীবনে তাকে (পবিত্র আত্মা) আবিস্কার করতে পারেন। পবিত্র আত্মার কাজকে পরিহার না করে বরং আমরা তার কাছ থেকে দান চাইতে পারি এবং তার দেয়া কাজকে সমাপ্ত করবো।   খোদা কত কঠিন কাজ দিলেন তাতে কিছু আসে যায় না। সেই কাজটি করতে কত সময় লাগবে তাও কোন ব্যাপার নয়। পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হয়ে, খোদার উপস্থিতিতে ঈসায়ীরা সেই কাজটি সম্পন্ন করবেন।
৬. বড়দিন প্রতিনিয়ত পূর্ণ হবার সময় (লূক ১ : ৪৫) এটি পবিত্র আত্মার একটি বড় কাজক) পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত সমস্ত কিছু একসঙ্গে মঙ্গলের জন্য কাজ করাই হলো পবিত্র আত্মার দায়িত্ব  (রোমীয় ৮ : ২৮)। যেমন – আপনার কর্মস্থলে আপনার উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও সমস্যা কোনো দুর্ঘটনা নয়  আপনার পাশের প্রতিবেশী বা পরিচিতজনের সাথে সমস্যা কোনো দুর্ঘটনা নয়  এই মুহূর্তে আপনার যা যা প্রয়োজন তা কোনো দুর্ঘটনা নয়। খ) প্রতিটি বিষয়, পৃথকভাবে বেদনাদায়কগ) কিন্তু যখন পবিত্র আত্মার মাধ্যমে সবগুলো একসাথে কাজ করে তখন আশ্চর্য কিছু ঘটে! প্রত্যেক সময় তা হয়, যদি আপনি তা গ্রহণ করেন। ঘ) এখানে, তিনি খোদার প্রতিজ্ঞাকে পূর্ণ করার জন্য কাজ করছিলেন।   একজন কুমারী হিসাবে মরিয়মকে গর্ভবতী হবার জন্য তিনি বলেছিলেন। প্রতিশ্রুত মসীহ ও পরিত্রাতা (মুক্তিদাতা) বিশে^র জন্য আগমন হযরত ইয়াহিয়া নবীর মাধ্যমে ইস্রায়েল জাতিকে প্রস্তুত হতে বলেছেন, যেন তারা হযরত ঈসাকে প্রভু বলে গ্রহণ করতে পারে। ঘ) যখন বড়দিনের প্রেরণা আপনার জীবন এবং আপনার বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে, তখন খোদার ইচ্ছা আপনার জীবনে পূর্ণ হয় এবং জীবন আনন্দময় হয়! আপনার ঈসায়ী জীবনে কোন আনন্দ নেই, কারণ আপনি পবিত্র আত্মার অধীনে নেই।
৭. বড়দিন জীবন পরিবর্তনের দিন (লূক ১ : ৪৬-৪৯)ক) শুধু কোনো উপহার দিয়ে নয়, জীবন ও কাজ দিয়ে প্রভুকে গৌরবান্বিত করুন। “মানুষ তাঁর সম্বন্ধে জানার পরেও খোদা হিসাবে তাঁর গৌরবও করেনি, তাঁকে কৃতজ্ঞতাও জানায়নি। তাদের চিন্তাশক্তি অসার হয়ে গেছে এবং তাদের বুদ্ধিহীন অন্তর অন্ধকারে পূর্ণ হয়েছে। …খোদার সত্যকে ফেলে তারা মিথ্যাকে গ্রহণ করেছে। সৃষ্টিকর্তাকে বাদ দিয়ে তারা তাঁর সৃষ্ট জিনিসের পূজা করেছে, কিন্তু সমস্ত গৌরব চিরকাল সেই সৃষ্টিকর্তারই। আমেন।”  (রোমীয় ১ : ২১, ২৫)। প্রভুতে আনন্দ থাকতে হবে। খ) পরিত্রাণ বা নাজাতের কারণে তা হবে Ñ কারণ খোদার সেই মেষশাবক (ঈসা মসীহের) আমাদের সমস্ত পাপ দূর করেছেন।গ) খোদা একজন অপরিচিত মেয়েকে গ্রহণ করলেন এবং বিশ^াসে তার জীবন রূপান্তরিত হয়ে গেলো। ঘ) ভাই ও বোনেরা, আপনি কি চান না : Ñ পরিত্রাণ বা নাজাত পান? Ñ খোদার দ্বারা ব্যবহৃত হতে? Ñ এমন আনন্দ পেতে, যা অন্য ঈসায়ীদের সাথে সংযুক্ত থেকে অথবা প্রার্থনায় খোদার উপস্থিতিতে?  Ñ আপনি কি আজই খোদার দেয়া সেই আনন্দ গ্রহণ করে আনন্দে জীবনকে পরিচালিত করবেন?
উপসংহার : বড়দিনের প্রেরণা। আপনি কি সত্যি বড়দিনের প্রেরণা জীবনে গ্রহণ করতে আগ্রহী? তাহলে আসুন আমরা একটু সময় নিয়ে বড়দিন সম্পর্কে চিন্তা করি। ১. পবিত্রতা Ñ আমাদের চিন্তা-ভাবন, পদক্ষেপকে পরিষ্কার করি। জীবনকে পরিচ্ছন্ন করি। খোদাকে সম্মান করি। ২. ক্ষমতা Ñ অবাস্তব বা কোনো কল্পকাহিনী নয় Ñ আপনার জীবনে প্রতিদিন যা ঘটছে তাতে লক্ষ্য করলে খোদার আশ্চর্য কাজ দেখতে পাবেন। মনে রাখুন, খোদার কাছে অসম্ভব বলে কিছুই নেই। ৩. উপর থেকে কোন কিছু আসা Ñ পৃথিবী থেকে না। হযরত ঈসা মসীহের আদর্শ ও সৌন্দর্য রক্ষায় জগতের বড়দিনের আনন্দ (মদ্যপান, সাজপোশাক, ঋণ ) ইত্যাদি থেকে নিজেদের দূরে রাখতে হবে। ৪. সহজ/সাধাসিধা :  আমার মনে হয় বড়দিনে আমাদের সবচেয়ে সহজ জিনিস দরকার। আর্থিকখাতে স্বচ্ছতা, পরিবারের সাথে বড়দিনের আনন্দ ভাগ করে নেয়া, একসাথে জামাতে বা ম-লীতে যাওয়া, বড়দিনের আদর্শের গান পরিবেশন, কিতাব পাঠ এবং অন্যেরা যেন নাজাত বা পরিত্রাণ পায় সেজন্য কাজ করা। ৫. পূর্ণ সন্তুষ্টি : আপনি বড়দিনে পূর্ণ সন্তুষ্টি হতে পারবেন না Ñ যদি সত্যিকার অর্থে বড়দিনে খোদার যে দান হযরত ঈসা মসীহ তাকে জীবনে গ্রহণ না করেন। মসীহ ব্যতিত পূর্ণ সন্তুষ্টি যে কত আনন্দদায়ক তা বুঝা যাবে না। আসুন মসীহকে আপনার মুক্তিদাতা হিসেবে জীবনে গ্রহণ করে বড়দিনের আনন্দে পূর্ণ হোন। ৬. প্রতিনিয়ত পূর্ণ হবার সময় : খোদার ইচ্ছা এবং কাজকে আমাদের পূর্ণ করতে হবে। এটি কোন একদিনের কাজ নয়, বরং প্রতিনিয়ত তা আমাদের করে যেতে হবে। ৭. জীবন পরিবর্তনের দিন : আপনার জীবন হযরত ঈসা মসীহের দ্বারা হয়তো পরিবর্তন হয়েছে অথবা পরিবর্তন করতে হবে। বড়দিনের প্রেরণায় আমাদের জীবন পরিবর্তনের গুরুত্ব সর্বাধিক। বড়দিনের আগে যেমন ছিলাম, বড়দিনের পরেও যদি একই রকম থাকি তাহলে আমাদের জীবনে বড়দিনের অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here