ভালো ফলন ও দামে খুশি কুল চাষি

0
31

ভালো দাম পেয়ে খুশি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার কুল চাষিরা। কারণ এবছর অনুকূল আবহাওয়ায় কুলের আকার আকৃতি ও স্বাদ বেড়েছে। মোকামে চাহিদা বেড়েছে। তাছাড়া সাথি ফসল জাতি লাউ ও লিচুর আবাদ ‘লাভের ওপর শাকের আটি’ হয়েছে চাষিদের। উপজেলায় থাই, আপেল, নারিকেল কুল, বাউকুল ও চায়না জাতের কুলের চাষ হয়েছে। এসব কুলকে ঘিরে নাজিরপুর কানু মোল্লার বটতলা, মোল্লাবাজার, নাজিরপুর বাজার, চাঁচকৈড় বাজারে বসেছে পাইকারী মোকাম। দেশের অভ্যন্তরিণ জেলা থেকে পাইকার ও ফড়িয়ারা দর-দাম করে কুলে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন জুড়ে কুলের আবাদের জন্য খ্যাতি রয়েছে। বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখাগেছে, গাছে গাছে থোকায় থোকায় কুল ঝুলে রয়েছে। কৃষক বাগান থেকে কুল সংগ্রহ করছেন মোকামে নেওয়ার জন্য। অনেকে আবার প্রাক-পস্তুতি হিসেবে বাগান পরিষ্কার করছেন। বাগান জুড়ে উৎসবের আমেজ চাষিদের। নাজিরপুরের মোল্লাবাজার এলাকার পুরস্কার প্রাপ্ত কৃষক আব্দুষ সালাম জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে থাই-আপেল কুলের আবাদ করেছেন। বিগত বছরের চেয়ে এবছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কুলের আকার-আকৃতি বেড়ে কুলের ওজন বৃদ্ধি হয়েছে। দুই বিঘা জমিতে দুই লাখ টাকার ওপরে বিক্রি হবে। তাছাড়া সাথি ফসল হিসেবে জাতি-লাউ করেছি। উৎপাদিত লাউ বিক্রি হবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এতে শ্রমিক খরচ উঠে যাবে। তাঁর মতে, কুল চাষিরা এবার পোয়াবারে অবস্থা।
মামুদপুর এলাকার কুল চাষি জয়নাল আবেদীন জানান, তিনি আপেল কুল, নারিকেল কুল, বাউকুল ও চায়নাজাতের মিলে ৫বিঘা জমিতে কুলের আবাদ করেছেন। বাগান থেকে পাইকাররা ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে কুল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকা, রাজশাহী ও চাপাইনবাগঞ্জ জেলার ফড়িয়া-মহাজনরা এসব কুল নিয়ে যাচ্ছেন। উৎপাদন খরচ বাদে ৪-৫ লাখ টাকা তার লাভ হবে। কৃষক লিটন আহম্মেদ, মোতালেব হোসেন ও আলম সরদার বলেন, বিগত কয়েক বছর কুলের আবাদে লাভ হয়নি। উৎপাদন কম হওয়ায়, আকার-আকৃতিতে বড় না হওয়ায় কুল চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন তাদেরমত অনেক চাষি। এবার অনুকূল আবহাওয়ায় উল্টোচিত্র। আকার-আকৃতির সাথে উৎপাদন বৃদ্ধির পেয়ে কুল চাষিদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। বিঘা প্রতি উৎপাদন খরচ ২৫ হাজার টাকা হলেও ফলন বৃদ্ধি ও দাম ভালো পাওয়ায় বিগত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছেন তারা। তাছাড়া এবছর নতুন নতুন কুলের বাগান বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন, অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ফলন বৃদ্ধির সাথে সাথে কুলের আকার-আকৃতি ও স্বাদ বেড়েছে। ফলে কুল চাষিদের মুখে খুশির ঝিলিক ফুটে উঠেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে নিয়ম করে বালাইনাশকসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ায় এবছর কুলে পোকার আক্রমণ নেই বলেই চলে। এবছর উপজেলা জুড়ে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে কুলের আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে সাড়ে ৮ হেক্টর বেশি।
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here