ঈদের রান্না :জেসমিন জাহান

0
60

ঈদ আমাদের জীবনে বয়ে আনে অফুরান আনন্দধারা। এদিন এ বাড়ি, ও বাড়ি ঘুরে দাওয়াত খেয়েই কেটে যায়। বাসাতেও আসে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব। মজার মজার খাবার দিয়ে আতিথেয়তা করতে না পারলে তো মজাই থাকে না ঈদ আনন্দে। তাই, ঈদের দিন খাবার মেন্যুতে যোগ করুন সহজ ও সুস্বাদু কিছু রেসিপি।

ঈদের নাস্তা
সাদামাটা লাচ্ছা সেমাইকে অসাধারণ করে তুলতে পারে রেসিপির ভিন্নতায়। এবার জেনে নিন তেমন কয়েকটি রেসিপিÑ

দুধ-সেমাই
উপকরণ
সেমাই ১ প্যাকেট, দুধ ১ কাপ, পানি ৩ কাপ, ঘি ১/৪ কাপ, এলাচ ৪-৫টি. কিশমিশ ২০টির মতো, চিনি ১ কাপ।
রন্ধন পদ্ধতি
প্রথমেই ঘি দিয়ে সেমাই ভেজে নিন। এবার দুধ, পানি, চিনি, এলাচ, কিশমিশ দিয়ে ৩০ মিনিট চুলায় দমে রাখুন। তারপর সেমাই পাত্রে নিয়ে চেরি দিয়ে পরিবেশন করুন ঈদের খাবার তালিকায় সব ঘরেই অপরিহার্য নাস্তা দুধ-সেমাই।

লাচ্ছা সেমাই
উপকরণ
তরল দুধ ২ লিটার লাচ্ছা সেমাই ১ প্যাকেট গুঁড়ো দুধ ৫ টেবিল চামচ চিনি স্বাদ মত এলাচ দারুচিনি কয়েকটি লবণ এক চিমটি (চাইলে নাও দিতে পারেন। কিন্তু লবণে আসবে নিখুঁত স্বাদ) কিসমিস এক মুঠো বাদাম কুচি ইচ্ছা মতো ঘি দুই টেবিল চামচ দুধের সর বা মালাই- আধা কাপ (চাইলে বেশি দেয়া যায়)
প্রণালি
দুই লিটার দুধকে জ্বাল দিয়ে সোয়া এক লিটার করে ফেলুন। এলাচ দারুচিনি দিয়ে জ্বাল দিন। ওপরে ঘন সর জমবে, সেটাকে তুলে রাখুন আলাদা করে। এবার দুধে চিনি মেশান। এবং খানিকটা দুধ তুলে নিয়ে সেই দুধের মাঝেই গুঁড়ো দুধ গুলিয়ে নিন। গোলানো গুঁড়ো দুধ আবার আসল দুধের সাথে মিশিয়ে দিন। এক চিমটি লবণ দিন। ব্যাস, তৈরি আপনার সেমাইয়ের জন্য গুঁড়ো দুধ। এবার প্যানে ঘি গরম করুন। ঘিয়ের মাঝে লাচ্ছা সেমাই দিয়ে দিন। সাথে বাদাম ও কিসমিসও দিয়ে দিন। খুব অল্প আঁচে ভাজবেন, কেবল ঘিয়ের ফ্লেভারটা সেমাইতে যাওয়া চাই। হালকা লাল হলেই নামিয়ে ফেলুন। নেড়েচেড়ে খুব ভালো করে ভাজবেন। সেমাইটা বাটিতে সাজিয়ে নিন। এবার গরম দুধ সেমাইয়ের ওপরে ছড়িয়ে দিন। কিন্তু না, সবটুকু দুধ দেবেন না। ৪ ভাগের ৩ ভাগ দুধ দিন। এবং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। দেখবেন সেমাই সমস্ত দুধ টেনে নিয়ে ড্রাই হয়ে গিয়েছে। এবার তুলে রাখে দুধের সর ওপরে ছড়িয়ে দিন। এবং বাকি দুধটুকু দিন। একসাথে পুরো দুধ দিয়ে ফেললে সেমাই পুরোটাই টেনে নেবে।
ব্যাস, এবার চেখে দেখুন অনন্য স্বাদের এক লাচ্ছা সেমাই।
সেমাইয়ের মালাই ক্ষীর
উপকরণ
দুধ দেড় লিটার, চিনি পরিমাণ মতো, মালাই আধা কাপ, কাজু, কিসমিস, পেস্তা, কাঠবাদাম আধা কাপ। সেমাই এক কাপ, এলাচ, দারুচিনি-৬/৭, ঘি ২ টেবিল চামচ, জাফরান সামান্য পরিমাণ।
প্রস্তুত প্রণালি
প্রথমে বাদামগুলো খোসা ছাড়িয়ে মোটা কুচি করে নিন। এরপর দের লিটার দুধ জ্বাল দিয়ে অর্ধেকের কম পরিমাণ করে রাখুন। এবার প্যানে ঘি দিয়ে গরম করুন। এরপর এলাচ দারুচিনি দিয়ে একটু ভাজুন। এবার বাদাম কুচি, কিসমিস ও সেমাই দিয়ে দিন। মৃদু আঁচে হালকা ভাজুন। ঘ্রাণ ছাড়লেই ঘন দুধ দিয়ে দিন। নেড়ে নেড়ে রান্না করুন। সেমাই সিদ্ধ হয়ে আসার সাথে সাথে দুধ ঘন হয়ে আসবে। সেমাই সিদ্ধ হয়ে গেলে মালাই দিয়ে দিন। জাফরান দিন। এরপর ভালো করে মিশিয়ে চুলা বন্ধ করে ফেলুন। এবার ছোট ছোট বাটিতে এই ক্ষীর সাজান। এরপর ফ্রিজে রেখে জমতে দিন। জমলে বাদাম ও কিসমিস ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।

ডিম সেমাই
উপকরণ
সেমাই ৪ কাপ, ঘি আধা কাপ, এলাচ ৩টি, পানি ২ কাপ, ডিম ২টা, ধনে পাতা ২ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো।
প্রণালি
প্রথমে ডিম ফেটিয়ে লবণ মিশিয়ে একটি কাপে রাখুন। সেমাই ভেজে নিয়ে অন্য একটি পাত্রে রাখুন। এরপর অন্য পাত্রে গরম পানিতে এলাচ লবণ দিয়ে ঘিয়ে ভাজা সেমাই সিদ্ধ করে পানি শুকিয়ে আসলে ডিম দিয়ে নাড়–ন। ডিম জমাট বাঁধলে সেমাইর ওপর ধনে পাতা ছিটিয়ে দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

ক্ষীর-খোরমা
উপকরণ
দুধ ৫ কাপ, পানি ১৩ কাপ, সাগু ২ টেবিল-চামচ, সেমাই ৩ টেবিল-চামচ, চিনি ২ কাপ, কিশমিশ আধা কাপ, জর্দার রং পরিমাণমতো, কাঠবাদাম আধা কাপ, পেস্তা-বাদাম কুচি আধা কাপ, খোরমা কুচি আধা কাপ, কেওড়ার জল ২ টেবিল-চামচ, জাফরান আধা চা-চামচ।
পদ্ধতি
একটি সসপ্যানে ১৩ কাপ পানির মধ্যে ৫ কাপ গুঁড়ো দুধ দিয়ে কিছুক্ষণ দমে রাখুন। এবার সেমাই একটু ভেজে বাদামি রং হলে তাতে ১ টেবিল-চামচ ঘি দিন। গরম পানিতে সাগু ধুয়ে নেবেন। খোরমা ২-৩ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে টুকরো করে কেটে নিতে হবে। এরপর দুধে চিনি দিয়ে যখন গলে যাবে, তখন সেমাই, সাগু, খোরমা কুচি, পেস্তা-বাদাম কুচি, কাঠবাদাম কুচি দিয়ে আবার মাঝারি আঁচে দমে রাখুন। এরপর ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন।

ফিরনি
উপকরণ
চাল ১ কাপ, চিনি ১ কাপ, দুধ ১ কাপ, পানি ৪ কাপ, জর্দার রং সামান্য পরিমাণ, কেওড়ার জল ১ চা-চামচ, কিশমিশ সিকি কাপ।
রন্ধন পদ্ধতি
চাল, দুধ ও পানি এক সঙ্গে ৩০ মিনিট দমে রাখুন। জর্দার রং ও চিনি মিশিয়ে আরও ৩০ মিনিট দমে রাখতে হবে। সবশেষে বাদাম ও কিশমিশ দিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

ভুনাখিচুড়ি
উপকরণ
পোলাওয়ের চাল ৪ কাপ, মুগ-ডাল ২ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১ চা-চামচ, শুকনামরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ, আদা বাটা ১ চা-চামচ, রসুন বাটা ১ চা-চামচ, কাঁচামরিচ ৬-৭টি, লবণ পরিমাণমতো, তেল পরিমাণমতো, এলাচ, দারুচিনি, লঙ, তেজপাতা ২টি করে, ধনিয়াগুঁড়া পরিমাণমতো, পানি ১২ কাপ।
পদ্ধতি
প্রথমে পাত্রে তেল গরম করে নিয়ে তাতে গরম মসলা, হলুদ ও মরিচ গুঁড়া, আদা ও রসুন বাটা, ডাল ও চাল দিয়ে ভালোমতো ভাজতে হবে। এবার লবণ, কাঁচামরিচ ও পানি দিয়ে ঢেকে দিন। চাল ফুটে উঠলে চুলার আগুন কমিয়ে ২৫ মিনিট দমে রাখুন। আর এভাবেই তৈরি হয়ে গেল মজাদার ভুনাখিচুড়ি।

পোলাও
উপকরণ
চিনিগুঁড়া পোলাওয়ের চাল ২ কাপ, দুধ আধা কাপ, চিনি এক টেবিল চামচ, ঘি আধা কাপ, কেশর এক চিমটি, এলাচ ও দারুচিনি ৪টি করে, পানি ৩ কাপ, লবণ পরিমাণমতো।
পদ্ধতি
পোলাওয়ের চাল ১০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পানি থেকে তুলে পাত্রে ঘি, এলাচ, দারুচিনি, লবণ ও চিনি দিয়ে কষাতে থাকুন। পানি ফুটলে চাল ছেড়ে দিন। চালের পানি সমান হলে এতে দুধ দিয়ে কেশরগুলো ছড়িয়ে দিন। ১৫ মিনিট পর্যন্ত দমে বসিয়ে জমিয়ে পরিবেশন করুন ঈদের রসনা বিলাসের মধ্যে অন্যতম খাবার পোলাও।

মোরগ মাসাল্লাম
উপকরণ
মোরগ একটি, রসুন এক চা-চামচ, দই আধা কাপ, আদা এক চা-চামচ, লবণ পরিমাণমতো, বাটার আধা কাপ, তেল আধা কাপ, পেঁয়াজ ১ কাপ, নারিকেল দেড় চা-চামচ, পোস্তদানা ২ টেবিল-চামচ, গরম মসলা ৪-৫টি।
পদ্ধতি
সব উপকরণ একসঙ্গে ম্যারিনেইট করে বা মাখিয়ে একঘণ্টা রাখুন। তারপর মসলা থেকে তুলে ডুবোতেলে মোরগ ভালো করে ভাজুন। আধা কাপ তেলের মধ্যে আধা কাপ বাটার, গরম মসলা (যেমন এলাচ, দারুচিনি, পেঁয়াজ বাটা, আদা-রসুন বাটা, নারিকেল বাটা, পোস্তদানা বাটা) একসঙ্গে কষান। তারপর এর সঙ্গে দই ও লবণ দিয়ে ভালো করে আবার কষাতে থাকুন। কষানো হয়ে গেলে মোরগের পেটে মসলাগুলো দিন। পাত্রটি ঢেকে চুলায় বসান। কিছুক্ষণ পরে একটু গোলাপজল ও এলাচ দিন। কয়েকবার উল্টিয়ে দিতে হবে। রং লালাভ হলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

খাসির রেজালা
উপকরণ
খাসির মাংস ১ কেজি, টক দই ১ কাপ, পোস্তদানা বাটা ১ টেবিল-চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ, জয়ফল-জয়ত্রী ১ চা-চামচ, ঘি আধা কাপ, কিশমিশ বাটা ২ টেবিল-চামচ, পেঁয়াজ বাটা আধা কাপ, মরিচ বাটা ১ টেবিল-চামচ, চিনি ৪ টেবিল-চামচ, আদা বাটা ১ টেবিল-চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল-চামচ।

রন্ধনপদ্ধতি
প্রথমে খাসির মাংসের টুকরাগুলো কেটে ভালো করে ধুয়ে তারপর মুছে নিন। যেন একটুও পানি না থাকে। এবার খাসির মাংসে আদা বাটা, পেঁয়াজ বাটা, রসুন বাটা, টক দই, মরিচ বাটা, পোস্তদানা বাটা দিয়ে মাখিয়ে কাটা চামচ দিয়ে কেটে নিন। তারপর চুলায় পাত্র বসিয়ে ঘি দিন। ঘি গরম হলে কিশমিশ ও জয়ফল-জয়ত্রী বাটা অল্প পানি দিয়ে কষিয়ে মাখানো মসলাসহ মাংস দিন। কম আঁচে উল্টে দিয়ে মাঝে মাঝে নাড়ুন। সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত ঢেকে রান্না করুন। সবশেষ চিনি ও বেরেস্তা দিয়ে গায়ে মসলাসহ নামিয়ে পরিবেশন করুন জিভে জল আনা খাসির রেজালা।

কাচ্চি বিরিয়ানি
উপকরণ
খাসির হাড় ছাড়া মাংসের ছোট টুকরা আধা কেজি, পোলাওয়ের চাল ১ কেজি, আলু টুকরা ২ কাপ, কিশমিশ ৩ টেবিল-চামচ, এলাচ পাউডার আধা চা-চামচ, দারুচিনি গুঁড়া আধা চা-চামচ, ঘন কেওড়াজল ২ টেবিল-চামচ, কাঁচামরিচ ৮-১০টি, কাজুবাদাম আধা কাপ, পেঁয়াজ কুঁচি ১ কাপ, বাটার অয়েল দেড় কাপ, রসুন বাটা ১ চা-চামচ, পেঁয়াজ বাটা ১ টেবিল-চামচ, ফুলকপি ২ কাপ, তেজপাতা ২টি, গোলাপজল ২ টেবিল-চামচ, গরম পানি ৮ কাপ, গুঁড়া দুধ আধা কাপ, পেস্তাবাদাম আধা কাপ, আদা গুঁড়া ১ টেবিল-চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ, টকদই ১ কাপ।
পদ্ধতি
খাসির মাংসের টুকরোগুলো প্রথমে ১ চা-চামচ আদা গুঁড়া, আধা চা-চামচ রসুন পেস্ট, আধা কাপ টকদই ও লবণ দিয়ে সেদ্ধ করুন। আলুগুলো লবণ দিয়ে আধা সেদ্ধ করে নিন। চাল ধুয়ে পানি ঝড়ান। ৪ টেবিল চামচ বাটার অয়েল গরম করে কিশমিশ ও কাজু ভেজে সেদ্ধ মাংসতে দিয়ে দিন। সেদ্ধ আলুগুলোও ভেজে নিতে হবে।
বাকি বাটার অয়েল গরম করে পেঁয়াজ ভেজে কিছুটা উঠিয়ে রাখুন। এখন ওই বাটার অয়েলেই সব মসলা কষিয়ে খাসির মাংস দিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে তাতে চাল দিন। এ সময় গরম মসলা ও তেজপাতা দিতে হবে। এরপর দুধ দিয়ে ৪-৫ মিনিট ভেজে পানি দিতে হবে। স্বাদমতো লবণ ও আলুগুলোও দিন। পানি কমে এলেই দই, চিনি দিয়ে মটরশুটি বা বাকি সবজিগুলো দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট দমে রাখতে হবে। তারপর সার্ভিং ডিসে ঢেলে পেঁয়াজ, কিশমিশ, কাজু ও পেস্তাবাদাম দিয়ে পরিবেশ করুন মুখরোচক কাচ্চি বিরিয়ানি।

চিকেন আখনি পোলাও
উপকরণ
পোলাওয়ের চাল ১ কেজি, মুরগীর মাংস ২ কেজি, গোটা জিরা ১ টেবিল চামচ, সাদা এলাচ ৮/১০টি, বড়ো এলাচ ২টি, তেজপাতা ৪টি, দারুচিনি ৫/৬ টুকরা, লবঙ্গ ৭/৮টি, সামান্য পরিমাণ জয়ত্রী, পেঁয়াজ কুচি এক কাপ, কাঁচামরিচ ৮/১০টি, আদা ও রসুন বাটা ৩ টেবিল চামচ, গোল মরিচের গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদ মতো, ফুড কালার সামান্য পরিমাণ, পরিমাণ অনুযায়ী পানি, পুদিনাপাতা ১০/১৫টি, তেল ৬ টেবিল চামচ।

প্রণালী
প্রথম ধাপ: প্রথমে একটি পাত্রে মোটামুটি ৩ লিটার পরিমাণ পানি নিয়ে চুলোতে বসাতে হবে। এরপর একে একে গোটা জিরা, সাদা এলাচ, বড়ো এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, তেজপাতা, জয়ত্রী, গোলমরিচ এবং একটি পেঁয়াজ মাঝ বরাবর কেটে পানিতে দিয়ে পানি মাঝারী আঁচে ফুটিয়ে নিতে হবে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে। এরপর এই ফুটানো পানি ছেঁকে নিয়ে গোটা মসলা আলাদা করে ফেলতে হবে এবং পানি ঢেকে রাখতে হবে যাতে করে পানি গরম থাকে।
দ্বিতীয় ধাপ: এবার একটি পাত্র চুলায় বসিয়ে এতে তেল দিয়ে দিতে হবে। এরপর পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা বাদামী করে ভাজা হয়ে গেলে একে একে আদা, রসুন বাটা, গোল মরিচের গুঁড়া, কাঁচামরিচ দিয়ে একটু কসিয়ে নিয়ে তাতে মাংস দিয়ে দিতে হবে। কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে পরিমাণ মতো লবণ দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে এবং চুলার আঁচ অবশ্যই মাঝারি রাখতে হবে। মাঝে মাঝে ঢাকনা খুলে নেড়ে দিতে হবে। ১০ মিনিট পর ঢাকনা খুলে দেখা যাবে মোটামুটি পানি বেরিয়েছে। এই পানি শুকিয়ে ফেলার প্রয়োজন নেই। এই অবস্থায় ধুয়ে রাখা এবং পানি ঝরিয়ে রাখা পোলাওয়ের চাল এবং লবণ দিতে হবে। এবার মশলা দিয়ে ফুটিয়ে রাখা পানি দিয়ে দিতে হবে। মনে রাখবেন পানির পরিমাণ সবসময় চালের দ্বিগুণ হবে। পানি ফুটে উঠে একটু কমে এলে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে- চুলার তাপ যেন অবশ্যই মাঝারি থাকে। ১০ মিনিট পর ঢাকনা খুলে দেখে একটু নেড়ে দিতে হবে। এই অবস্থায় ৪-৬টি গোটা কাঁচামরিচ ও পুদিনাপাতা এবং সামান্য পরিমাণ হলুদ রঙের ফুড কালার নেড়ে-চেড়ে ঢেকে রাখতে হবে আরও ৫-৭ মিনিট। এরপর অতিথি আপ্যায়নে ঈদ আনন্দে মোহনীয় পরিবেশে ঢাকনা খুলে একটি সুন্দর সার্ভিং ডিশে পরিবেশন করুন মজাদার চিকেন আখনি পোলাও।

খাসির শাহী রেজালা
উপকরণ
খাসির মাংস ১ কেজি, টক দই ১ কাপ, ঘি অথবা তেল পরিমাণ মতো, লবণ পরিমাণ মতো, পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ কাপ, পোস্ত বাটা ২ টেবিল চামচ, মিষ্টি দই ১ কাপ, আদা ও রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, ধনে গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, সাদা এলাচ ৫/৬টি, লবঙ্গ ৮টি, জয়ত্রী গুঁড়া অর্ধেক চা-চামচ, গোল মরিচ ৬/৮ টি, দারচিনি ৫ টুকরা, জয়ফল অর্ধেক চা-চামচ, কাজু বাদাম ও পেস্তা বাদাম ৪ টেবিল চামচ, দুধ ১ কাপ, কিসমিস ১০/১২টি, আলুবোখারা ৬টি।

প্রস্তুত প্রণালী
প্রথমে মিষ্টি দই এর সাথে কাজু বাদাম ও পেস্তা বাদাম দিয়ে ব্লেন্ডারে খুব ভালোভাবে ব্লেন্ড করে পেস্ট করে নিতে হবে। এরপর একটি পাত্রে মাংস নিয়ে তাতে একে একে টক দই, লবণ, মরিচ গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, এলাচ, দারুচিনি, গোলমরিচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা, আদা রসুন বাটা, পোস্ত বাটা, তেজপাতা, লবঙ্গ, জয়ত্রী, এবং জয়ফল গুঁড়া দিয়ে খুব ভালোভাবে হাত দিয়ে মাখিয়ে মাখিয়ে ম্যারিনেট করতে হবে। এবার ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে ৩০ মিনিট। পরে চুলায় পাত্র বসিয়ে পরিমাণ মতো তেল বা ঘি দিয়ে হালকা গরম হলে এতে ম্যারিনেট করে রাখা মাংস ঢেলে দিতে হবে। মাঝারি আঁচে রান্না করতে হবে এবং অনবরত নাড়তে হবে। কিছুক্ষণ পর ঢেকে দিতে হবে এবং মাঝেমাঝে ঢাকনা খুলে নেড়ে দিতে হবে। এভাবে প্রায় ২০ মিনিট রান্না করতে হবে। এই অবস্থায় ঢাকনা খুলে দেখা যাবে তেল ভেসে উঠেছে। এখন ১ কাপ দুধ দিতে হবে। আলাদাভাবে কোন পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ধীরে ধীরে মাংস সেদ্ধ হয়ে আসবে এবং ঝোল বেশ ঘন হয়ে আসবে। এরপর ৬টি আলুবোখারা দিয়ে দিতে হবে। খুব অল্প আঁচে রান্না করতে হবে। এই পর্যায়ে দই এবং বাদামের পেস্ট দিয়ে দিতে হবে। আরও ১০ মিনিট রান্নার পর দুই চামচ চিনি এবং কিসমিস দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। চুলা বন্ধ করে কিছুসময় রেখে দিতে হবে। এরপর পছন্দমত সাজিয়ে পরিবার-পরিজন-অতিথি আপ্যায়নে পরিবেশন করুন মজাদার খাসির শাহী রেজালা।

দুটি ভিন্ন রকম সালাদ

ফলের সালাদ
উপকরণ
তরমুজ আধা কাপ, পাকা পেঁপে আধা কাপ, পাকা কলা আধা কাপ, কমলা ১টি, কিশমিশ ১ টেবিল চামচ, বাদাম গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, আনার ২ টেবিল চামচ, মধু ২ টেবিল চামচ, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ, বাঙ্গি ১ কাপ, গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ ও বিট লবণ স্বাদমতো। পছন্দমতো যেকোনো পাকা মিষ্টি ফল দিতে পারেন।
প্রণালি
ওপরের সব উপকরণ টুকরা করে একসঙ্গে মিশিয়ে ঢেকে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।

দই ও সবজি সালাদ
উপকরণ
ঠান্ডা টকদই (পানি ঝরানো) ২ কাপ, পাকা টমেটো কুচি ১ কাপ, সেদ্ধ গাজর কুচি ২ টেবিল চামচ, শসা কুচি ১ কাপ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ (সিরকায় ভেজানো), কাঁচা মরিচ কুচি ২টি, পুদিনাপাতা কুচি ১ চা-চামচ, চিনি ও লবণ স্বাদমতো, সেদ্ধ আলু ১টি (মাঝারি), সেদ্ধ ডিম ১টি (ইচ্ছা হলে) ও লেবুর রস ১ টেবিল চামচ।
প্রণালি
শসা, টমেটো, গাজর, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও পুদিনাপাতাÑসব উপকরণ পরিষ্কার করে ধুয়ে ছোট করে কেটে নিন। এরপর ঠান্ডা করুন ফ্রিজে রেখে। দই, আলু, ডিম, চিনি, লেবুর রস ও পরিমাণমতো লবণ দিয়ে সব উপকরণ মেখে পরিবেশন করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here