ঈদ নাকি ইদ :লাজ্বাতুল কাওনাইন

0
159

আমরা একটা জিনিস পেলে তা নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে ফেলি! যেমন, ২০১৭ সালের ইদে দুইটা বিষয় খেয়াল করেছিলাম! সেটা নিয়েই শুরু করি।
এক. কেক্কাপা… (বাংলাদেশি একটা চ্যানেলে রান্নার অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকাকে নিয়ে)
দুই. ঈদ বানানটা নিয়ে!
সবাই বলেই যাচ্ছে তো বলেই যাচ্ছে! কিন্তু আরো কিছু ঘটনা দুর্ঘটনাও ছিলো কিন্তু পুরোটা রমজান জুড়ে! কিন্তু তার কোনোই খবর নেই। যাই হোক, আমরা সেই জাতি, যারা আলোচনা বা ভাইরাল খবর করতে অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে বাছাই করতেই পছন্দ করি। অবলীলাতে সময়কে জলে ছুঁড়ে ফেলে, পা নাচাতে বসি। ভালো কিছু পড়তে বলেন, আমরা বলবো আয় হায় সময় কোথায়? ভালো কিছু করতে বলেন, বলবো টাকা কোথায়?
ফালতু জিনিস নিয়ে খোঁচাখুঁচি এরপর আলোচনা শুরু করবেন, গভীর ঘুম থেকে জেগে চোখ ছানাবড়া করে তাতে প্রচুর মনোযোগের সাথে অংশ নিবে।
যাক রোজা ইদ আমাদের জীবনে অনেক অনেক বড়ো বিষয়। সেদিন বেশ সকালে বাসে যাচ্ছিলাম! একটু পর পর ই দেখি বাক্স পেটরা নিয়ে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, বাসের ভিতরে বাড়ি যাবে বলে। আহা দেশ, বাড়ি, ইদ! আমার বাবা যখন ঢাকা শহরে স্থায়ী নিবাস গড়েননি, তখন আমরা এই মানুষগুলোর মতো সৌভাগ্যবান ছিলাম। দাঁড়ানো ঘর্মাক্ত মানুষগুলো কিন্তু চোখে মুখে আনন্দ উত্তেজনা। খুব এটাই মনে হচ্ছিল, সেই আনন্দ আমার কোথায় হারালো! কি সেই উত্তেজনা আমার জন্মস্থান দাদা, নানার বাড়ি পাবনাতে ইদ করব! সে কি কষ্ট করে আবার ফিরব! আহা সেই মানুষগুলোর মতোই আমিও এক সময় চিকচিক করতাম! ওদের শহরে বাসা না থেকে খুব ক্ষতি কি হয়েছে! বরং শহরে স্থায়ী নিবাস না থাকাটাই ওদের জন্য আশীর্বাদ। থাকুক না সবাই খুব নিরাপদে!
এখন বড়ো হয়েছি। ইদ বানানটাত মতো প্রেক্ষাপট ও পরিবর্তন হয়েছে! সংসার, ছেলেমেয়ে, আত্মীয়স্বজন, কেনাকাটা, রান্না, আপ্যায়ন ফিতরা এইসব নিয়ে চিন্তা! খুশি উবে গিয়েছে বলব না। পরিবর্তন মেনে নিয়েছি!
তবে আমরা ইদানীং বেশ দেখি! বিশাল টাকা-পয়সাওয়ালা লোকজন, লোক দেখানো দান খয়রাতে খুব ব্যস্ত! তাদের বলি, সম্মানিত ভাইয়েরা আর বোনেরা সেই টাকা দিয়েই তো ফুটানি করছেন। তো সেটাই একটু লুকিয়ে আর স্বার্থকভাবেই করুন না দয়া করে। এতো লোক দেখানো বড়ো হয়ে কি লাভ! আমি নিশ্চিত আল্লাহ আপনাকে দেখছেন। এই বিশ্বাসটুকুই কি যথেষ্ট নয়!
আমরা মধ্যবিত্ত মানুষেরা কিছু বিপদে পড়ি! কারণ এরা লজ্জায় রুমাল ব্যবহার না করে, মুখে কাঁঠালের আঠা মেখে বসে থাকেন। হিসাবের পয়সাতে সব ঠিকঠাক চালিয়ে নিতে চান! কিন্তু অফিসের কর্মচারীদের সেই ফান্ড, সেই আত্মীয় তাদের কাঁধে চড়ে বলে, টাকা দাও! লজ্জায় পড়ে বেচারারা হয়ত পঞ্চাশ একশ টাকা দেন। এটা দিতেও মধ্যবিত্তের কষ্ট, এটা হয়ত তাঁর দুদিনের বাস ভাড়া। কিন্তু যাকে দিলেন সাহায্য, তার কালোমুখ দেখে বেচারারা আরো দ্রুত কেটে পড়েন! তাই বলি কি! একটু সাধ্যমত সঠিক কাজগুলোই করেন! নিজেকে কষ্ট দিয়ে না আবার আপনার কাছে প্রাপ্য যার তাকেও কষ্ট দিয়ে না। আর আমার মতে একটু হিসাবি হওয়া উচিত কেনাকাটাতে! এতো মূল্যবান এ জিনিস এতোটা অস্থির হয়ে কেনাকাটা করতে দেখলে আমার মনে হয় এটা তাদের জীবনে শেষ ইদ! আল্লাহ মাফ করুন! হিসাবী হওয়া বাজে কিছু না। কাউকে কিছু নাই বা দিলেন। তবু এটা উপকারী অভ্যাস।
ইদের খুশি অনেক কিছুতে ছড়িয়ে আছে। খুঁজে নিন ইদ বানান হেরফেরে কিছুই হয়নি! বাংলা একাডেমি এর আগে অনেক বানান পরিবর্তন করেছে! ‘ ী’ কার ‘ ূ’ কার অনেক শব্দ থেকে বাদ পড়েছে! তো কি হয়েছে! তারা এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। আমি, আপনি কি খুব ভাষা নিয়ে ভাবি? সঠিক চর্চা করি? আমার মতে একাডেমির মানুষগুলো কঠিন গবেষণা করে কঠোর ভাবনার মাধ্যমে এবং প্রয়োজনের তাগিদেই এই পরিবর্তন এনেছেন। যা আমাদের ঘুনে ধরা মগজে ধরা পড়বে না।
ইদ ঠিক আগের মতোই আছে! বিজ্ঞজনেরা থাকুন তাদের মতো, আর আমরা, আম জনতা থাকি আমাদের মতো। খুব ছোট একটা জীবন তার অনেকটাই চলে গিয়েছে! আর কটা বা ইদ আমরা পাব? অথবা আপনজনদের নিয়ে কাটাতে পারব? এখনও বিশুদ্ধতা আনতে পারিনি জীবনে। বিরাট সব ঘাটতিও রয়ে গিয়েছে! এইসব নিয়ে ভাবি আসুন! আর মন থেকে খুব আনন্দিত হয়ে সবাইকে বলি…. ইদ মোবারক!!!
লাজ্বাতুল কাওনাইন : শিক্ষক, লেখক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here