তৈলাক্ত ত্বকে যা করবেন না ও দূর করুন চুলের রুক্ষতা

0
24

তৈলাক্ত ত্বকে যা করবেন না

ত্বক সাধারণত তিন ধরনের হয়। এগুলো হলো : তৈলাক্ত, শুষ্ক ও স্বাভাবিক। তৈলাক্ত ত্বককে স্পর্শকাতরই বলা চলে। একটু অযত্ন করলেই এই ধরনের ত্বকে ব্রণ, ব্লেক হেড, হোয়াইট হেডের মতো সমস্যা তৈরি হয়। কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো তৈলাক্ত ত্বকে সমস্যা তৈরি করে। তাই এ ধরনের ত্বক ভালো রাখতে এ কাজগুলো না করাই ভালো।
তৈলাক্ত ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কিছু বিষয় –
মেকআপ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়া
বাইরে বের হতে হলে খানিকটা মেকআপ করতে হয়। তবে অনেকেই বাড়িতে ফিরে মেকআপ না ধুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এই অভ্যাসটি ত্বকের ক্ষতি করে। বিশেষ করে ত্বক যদি তৈলাক্ত হয়, তাহলে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এতে লোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে ব্ল্যাক হেড, হোয়াইট হেডের মতো সমস্যা হতে পারে।
ভারি মেকআপ ব্যবহার করা
কখনোই তৈলাক্ত ত্বকে ভারি মেকআপ ব্যবহার ঠিক নয়। আর মেকআপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তেলহীন মেকআপ ব্যবহার করাই ভালো।
ক্ষারযুক্ত ক্লিনজার
ক্লিনজার মুখের ময়লা ও তেল দূর করতে কাজ করে। ত্বক বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন অন্তত দুবেলা মুখ ধোয়ার কথা বলেন। তবে তৈলাক্ত ত্বক হলে দিনে তিন থেকে চারবার মুখ ধুতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ক্ষারহীন ক্লিনজার অবশ্যই ব্যবহার করুন।
ভুল ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার
ত্বকের যতেœ ময়েশ্চারাইজার খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে ময়েশ্চারাইজার নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখুন। তৈলাক্ত ত্বকে ব্যবহার করুন ওয়াটার বেজ ময়েশ্চারাইজার, আর শুষ্ক ত্বকের জন্য ব্যবহার করুন ওয়েল বেজ ময়েশ্চারাইজার।

দূর করুন চুলের রুক্ষতা

প্রত্যেকটি চুলের তিনটি লেয়ার থাকে। ভেতরে অংশকে বলে মেডিওলা, মধ্য ভাগকে বলে করটেক্স, আর বাইরের অংশকে বলা হয় কিউটিকল। এই কিউটিকল চুলকে সুরক্ষা দেয়।
কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুল শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে পড়ে এবং চুলের উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়। অতিরিক্ত সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসা, ক্লোরিনযুক্ত পানিতে সাঁতার কাটা, চুলে বিভিন্ন স্টাইল করা, ব্লো ডাই করা ইত্যাদি কিউটিকলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
চুল রুক্ষ হয়ে পড়লে, এটি দূর করতে কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে দেখতে পারেন। চুলের রুক্ষতা দূর করার কিছু উপায় –
নারকেল তেল
নারকেল তেল চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এটি চুলের রুক্ষতা কমাতে কাজ করে। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন চুলে নারকেল তেল মাখুন। তবে তেলটি চুলে মাখার আগে হালকা গরম করে নেবেন।
তিন টেবিল চামচ হালকা গরম নারকেল তেলের সঙ্গে আধা কাপ মধু মেশান। একে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে চুলে মাখুন। ২০ থেকে ৩০ মিনিট পরে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
ডিম
ডিম রুক্ষ চুলকে মসৃণ করতে উপকারী। ডিমের কুসুমের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, মিনারেলস ও অ্যাসেনসিয়াল ফ্যাটি এসিড। এগুলো চুলে পুষ্টি জোগায়।
একটি ডিম ভেঙে চুলে মাখুন। এবার মাথায় শাওয়ার ক্যাপ পরুন। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। দুটি ডিমের মধ্যে আধা কাপ দই মেশান। এর মধ্যে এক বা আধা টেবিল চামচ কাঠবাদামের তেল মেশাতে থাকুন যতক্ষণ না পর্যন্ত ক্রিমভাব আসে। এবার মিশ্রণটি চুলে মাখুন। একটি তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে নিন। ৩০ মিনিট পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধোন। দুই সপ্তাহ পরপর এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

জেসমিন জাহান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here