শুরু হলো রেলপথ-সেতু সংস্কার কাজ

0
34

অবশেষে রোদ-বৃষ্টি-ঝড় উপেক্ষা করে মধ্যরাতেও রেলপথ-সেতু সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। নাটবল্টু, হুক-ক্লিপ, ফিশপ্লেটসহ রেলওয়ে সরঞ্জাম চুরি রোধে নেয়া হয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ। যাতে সহজেই কেউ এগুলো খুলে ফেলতে না পারে। পাশাপাশি রেলওয়ে সরঞ্জাম চুরি করে যারা ক্রয়-বিক্রয় করছে, তাদের পুলিশে সোপর্দ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন জানান, রেলপথ ও সেতু সংস্কার করতে মাঠ পর্যায়ে পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। লাইন ও সেতু নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসা সংবাদের পর আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ইতিমধ্যে রেললাইন ও সেতুগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে এমন লাইন ও সেতুতে রোদ-বৃষ্টি-ঝড় উপেক্ষা করে মধ্যরাতেও মেরামতের কাজ চলছে। লাইন ও সেতু সংস্কারে আমরা এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। নাটবল্টু, ক্লিপ-হুক, ফিশপ্লেটবিহীন যে স্থানগুলো রেললাইন ও সেতুতে রয়েছে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেরামত করা হচ্ছে।
রেললাইন ও সেতু ত্রুটির জন্য যারা দায়ী সেসব কর্মচারী-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, সেতু কিংবা লাইনে বাঁশ লাগানো নিয়ে সংবাদমাধ্যমে যে রিপোর্ট এসেছে তাও আমরা খতিয়ে দেখছি। আমি জানতে পেরেছি বাঁশ লাগানো হয়েছিল শুধু স্লিপার যেন না নড়ে। এমন যুক্তি আমি মেনে নেইনি। এখন থেকে লাইন-সেতুতে কোনো অবস্থাতেই বাঁশ লাগানো হবে না। যেসব স্থানে বাঁশ লাগানো আছে, তা তুলে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। লাইন-সেতুর যেখানেই ত্রুটি থাকবে, তা যত দ্রুত সম্ভব মেরামত করার নির্দেশ দেয়া রয়েছে। এ নির্দেশ অমান্য হলেই দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রেলওয়ে মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. শাসছুজ্জামান জানান, রেলপথমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে কোথাও রেললাইন-সেতুতে ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার। কারও অবহেলা কিংবা দায়িত্বহীনতার কারণে ট্রেন ঝুঁকি নিয়ে চলতে পারে না।
ইতিমধ্যে আখাউড়া-সিলেট রেললাইন-সেতুতে কোন ধরনের ত্রুটি রয়েছে, সেগুলোর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফাকে প্রধান করে গঠিত কমিটি দু-একদিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে।
রেলওয়ে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রণালয় ও রেল বিভাগ থেকে কঠোর নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্টরা মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক হারে কাজ শুরু করেছে। রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আনোয়ারুল হক জানান, ত্রুটিযুক্ত সেতু চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিছু একেবারেই নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। কিছু সংস্কার করতে হবে।
তিনি আরো জানান, মাঠ পর্যায়ে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। লাইন ও সেতুর ওপর বিশেষ নজর সব সময়ই থাকে। কিন্তু সম্প্রতি ট্রেন দুর্ঘটনার পর লাইন-সেতুর অবস্থা দেখে আমরা উদ্বিগ্ন। এসব স্থানগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করছি। লাইন-সেতুর কারণেই যে, সব সময় দুর্ঘটনা ঘটে তা নয়, মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন-বগিও যথাযথ সংস্কার করা হবে। সবকিছুই যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করা হবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট, সিলেট-চট্টগ্রাম, লাকসাম-চাঁদপুর, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ, ঢাকা-ময়মনসিংহ, জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী, জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী-খুলনা, বঙ্গবন্ধু সেতু-রংপুর-পার্বতীপুর-পঞ্চগড়, রংপুর-লালমনিরহাট, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথে নাটবল্টু, ক্লিপ, হুক, ফিশপ্লেট প্রায় সময়ই খোলা থাকে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, নতুন করে এসব সরঞ্জাম লাগিয়েও রাখতে পারছে না। এসব মূল্যবান সরঞ্জাম প্রতিনিয়তই চুরি হচ্ছে। নির্জন স্থানগুলোতেই সবচেয়ে বেশি চুরি হয়। এ ক্ষেত্রে ব্রিজগুলোতে থাকা সরঞ্জাম বেশি চুরি হয়। কারণ ব্রিজগুলো খাল-বিল এলাকায় বেশি থাকে।
প্রায় ৩ হাজার ৩৩৫ কিলোমিটার রেলপথের অধিকাংশ ব্রিজই জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করে সচল রাখার চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যমান রেলপথ ও রেলসেতু সংস্কারে চেয়ে উচ্চ ব্যয়ে রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণেই বেশি উৎসাহী তারা। গত প্রায় সাড়ে ৯ বছরে ৪২টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩শ’ নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। এসব উন্নয়নের সুফল দেখা যাচ্ছে না। লাইন-সেতু ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা লেগেই আছে। এতে বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে প্রাণহানি ঘটছে। যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, রেলপথ-সেতু মেরামত, সংস্কারে বরাদ্দ থাকে নামমাত্র। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নতুন প্রকল্প গ্রহণ বাস্তবায়নেই ব্যস্ত থাকেন।

বিবর্তন ডেস্ক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here