নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি রোধে সরকারকেই নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদী কার্যকরী পদক্ষেপ

0
134

নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে। সা¤প্রতিক সময়ে চাল, ডাল, তরি-তরকারীসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীনভাবে মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। সীমিত আয়ের মানুষের পক্ষে জীবনযাপন করা এখন অসম্ভব হয়ে উঠছে।
সমাজের নিপীড়িত, নিয়তদারিদ্র্যর সঙ্গে সংগ্রামরত মানুষগুলো তাদের নির্ধারিত আয়ে যখন পরিবার চালাতে পারছে না, বাধ্য হয়ে দ্রব্যমূল্যর বৃদ্ধির কারণে কখনো কখনো বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করে, কিন্তু তাদের ন্যায্য দাবির কোন মূল্যায়ণে তেমন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
অর্থনীতির দৃষ্টিতে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির পিছনে প্রধান করণ, চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্যহীনতা। দেশের জনসংখ্যার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সে অনুযায়ী দ্রব্যের যোগান সম্ভব হচ্ছে না। আবার যে পরিমাণ দ্রব্য বা পণ্য দেশে উৎপাদিত হয় তা অনেক অসৎ ব্যবসায়ী অধিক লাভ করার আশায় আগে থেকেই গুদামে মজুদ করে কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করে। এতে করে দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির জন্য সমাজের সীমিত আয়ের মানুষেরা যখন অল্প আয়ে তাদের নিত্যপণ্য সামগ্রী কিনতে পারে না বা তাদের আয় দিয়ে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পরে, তখন তারা নানাভাবে পরিবারের ব্যয় মিটানোর জন্য অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করার চেষ্টা করে। আর এ জন্যই সমাজে দুর্নীতি, ঘুষসহ নানা অপকর্ম দিন দিন বেড়ে চলছে।
সমাজে যারা দিন আনে দিন খায়, যারা শুধু চিন্তা করে যে, পরিবার নিয়ে তারা যে আয় করে তা দিয়ে যেন দু-বেলা দু-মুঠো ভাত খেতে পারে। সে সকল সাধারণ মানুষসহ দেশের সকল মানুষগুলোর কথা বিবেচনা করে, তাদের যে আয় রোজগার তা দিয়ে যেন ¯^চ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারে, এ জন্য এখনই চাল, ডাল, তরি-তরকারীসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য সরকারকেই যথাযথ কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।
সরকার বিভিন্নভাবে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে, নদী-ভাঙন, হাওর ও চরাঞ্চল এলাকাতে যারা বসবাস করে সেখানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলোতে ভতুর্কি দিয়ে দ্রব্যমূল্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে পারে। এদেশ কৃষি প্রধান দেশ, কৃষকেরা কঠোর পরিশ্রম করে ফসল ফলান, তবে তাদের প্রায় অধিকাংশই মানবতের জীবনযাপন করছে, তাদেরকে সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা করে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে। কৃষি সংক্রান্ত সকল পণ্যদ্রব্য ¯^ল্পমূল্যে প্রকৃত কৃষকের মাঝে মাঝে বিতরণ, বিশেষ করে ব্যাংক থেকে ¯^ল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সরকার যদিও নানাভাবে চেষ্টা করছে তবে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
দেশের কৃষি পণ্যের আমদানি-রপ্তানি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ¯^াভাবিক হওয়ার আশা করা যায় না। এছাড়া কালো বাজারি বন্ধ করতে হবে কঠোরভাবে, যে মজুদদারীরা পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি যে সব নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্য সেগুলোর উপর সরকারের শুল্ক কমানো হবে। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোতে দ্রব্যমূল্যের সবচেয়ে বেশি বিশৃক্সখলা দেখা যায়, এ জন্য প্রশাসনকে সঠিকভাবে প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করতে হবে। তাহলেই দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসতে পারে এবং ¯^ল্প আয়ের মানুষসহ সবাই তাদের নির্দিষ্ট আয় দ্বারা পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোভাবে খেয়ে পড়ে জীবন নির্বাহ করতে পারবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here