জুয়াড়ি বৌয়ের দেনায় সর্বস্বান্ত স্বামী

0
114

ব্রিটেনের নাগরিক ক্রিস্টোফার ফোর্টি ২০১০ সালে একটি আইটি ফার্মে চাকরি করার সময় সেই প্রতিষ্ঠানের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর ফোর্টি সেই প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করলেও জুলিয়া পোসম্যানের সঙ্গে সম্পর্ক থেকেই যায়। এক সময় প্রেমের পরিণতি ২০১৪ সালে গড়ায় বিয়েতে! কিন্তু সেটাই ছিল ফোর্টির কপাল পোড়ার শুরু! বিয়ের পরই স্ত্রীর আসল সমস্যার কথা বুঝতে থাকেন ফোর্টি। তবে সেটি যে কি ভয়াবহ, তা পুরোপুরি জানতে চলে যায় ৩ বছর। ততোদিনে অবশ্য সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে মোটা বেতনে চাকরি করা ওই ব্রিটিশ নাগরিক পুরোপুরি সর্বস্বান্ত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেট্রো সোমবার এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রায় ৩৫ লাখ ইউরো অর্থাৎ ৩৬ কোটি টাকার দেনা মাথায় নিয়ে নিজেকে সর্বস্বান্ত ঘোষণা করেছেন ফোর্টি। যার মূলেই রয়েছে তার প্রিয়তমা স্ত্রী। প্রতিবেদনে বলা হয়, জন্মসুত্রে ইন্দোনেশিয়ার রূপবতী বৌয়ের অন্য কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু ছিল গোপনে জুয়া খেলার নেশা। এজন্যে বিয়ের পর নিজের উপার্জন তো দেখাতেনই না, উল্টো স্বামীর কাছে প্রায়ই মোটা অংকের অর্থ দাবি করতেন। যদিও বিয়ের আগে জুলিয়া জানিয়েছিলেন, ইংল্যান্ডে আসার পর তিনি লন্ডনের গ্রোসভেনর হোটেলে কাজ করার সময় দুই ব্যবসায়ীর সঙ্গে পরিচিত হন। তাদের সঙ্গে জার্মানির স্টক এক্সচেঞ্জের পরিবর্তন নিয়ে জুয়া খেলে প্রচুর টাকা আয় করেন। যা নাকি তখনও চলছিল। কিন্তু তাতে জুলিয়া কত টাকা ইনকাম করেছে সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দিত না। তবে প্রায়ই বলতো যে, প্রতিদিন তার অন্তত ৫শ’ ইউরো আয় হয়। তবে মাঝে মাঝে ২শ’ ইউরো হেরেছে বলেও জানাতো। এই টোপ ফেলে সে ফোর্টির স্থায়ী অস্থায়ী সবই আদায় করতে থাকে। এক পর্যায়ে বিশাল অংকের জুয়া খেলার কথা বলে প্রায়ই স্বামীর কাছে অর্থ দাবি করতো। অর্থ না পেলে নানাভাবে স্বামীকে তিরস্কার করতো জুলিয়া। এই কারণে নিজের সব অর্থ শেষ হলে পরিবারের অভিভাবকদের কাজ থেকেও অর্থ জোগাড় করে স্ত্রীর হাতে তুলে দিত ফোর্টি। এভাবে বাবা-মা, দাদা-দাদীর জমানো অর্থও পরিশোধের কথা বলে জুলিয়াকে দিয়েছে ফোর্টি। সেসবও ফুরিয়ে যাওয়ার পর অর্থ সংগ্রহে নতুন পথ ধরে ফোর্টির প্রিয়তমা স্ত্রী। তাকে এবং তার পরিবারকে সহায় সম্পত্তি বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এতে ফোর্টি আপত্তি জানালে সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলারও ভয় দেখায় জুলিয়া।

এমন অবস্থায় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে স্ত্রীর হাতে তা তুলে দেন ফোর্টি। কিন্তু তাতেও অর্থের ক্ষুধা মেটেনি জুলিয়ার। গত বছরের এপ্রিলে ফোর্টি জানতে পারেন, তাকে এবং তার স্বজনদের না জানিয়েই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে স্ত্রী। লোনের কিস্তি পরিশোধ না করায় ব্যাংক থেকে নোটিশ আসার পর ঘটনাটি প্রকাশ পায়। সব হারিয়ে চোখ খোলে ফোর্টির। সেই বছরের আগস্টেই কোর্টে যান তিনি। আদালতে মামলা চলাকালে দোষের কথা স্বীকারও করেন জুলিয়া। স্বামীর কাছ থেকে মিথ্যে বলে নেয়া অর্থের মধ্যে ১৭ কোটি টাকা ফিরিয়ে দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া সর্বস্বান্ত ফোর্টির স্বজনদের মাসে ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা দেবে বলেও জানান। কিন্তু সেটা আদালতেই মুখে বলেছিল জুলিয়া। এরপর প্রতিশ্রুত অর্থের একটি পয়সাও সে দেয়নি বলেই অভিযোগ ফোর্টির। জুয়া খেলা কি ভয়ঙ্কর নেশা তা শুধু বাইরেই শুনেছিলেন ফোর্টি। এখন সব হারিয়ে তার বোঝা হয়ে গেছে। আফসোস শুধু নিজের হাতে যদি সেসব অর্থ তিনি নষ্ট করতেন, তবুও হয়তো সান্ত্বনা পাওয়া যেত। বর্তমানে এক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয়ে আছেন ক্রিস্টোফার ফোর্টি। আর জুলিয়া? সে নাকি সাসেক্সের পশ্চিমে হোভের কাছের এক সৈকতের ধারে বিলাসবহুল কটেজে দিন কাটাচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here