কু‌ড়িগ্রাম কেন দা‌রি‌দ্র্যের শী‌র্ষে? নাহিদ বাবু

0
116

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃ‌ষ্টি আকর্ষনের জন্য জা‌তিয় প্রেসক্লা‌বের সাম‌নে মানববন্ধন করে  কুড়িগ্রাম বা‌সি । ৭১% দা‌রিদ্র ও উন্নয়ন বৈষম্য থে‌কে প‌রিত্রান পে‌তে এ মানববন্ধনকরা হয় বলে জানা যায়  । পশ্চাদপদ জেলাগুলোর মধ্যে উত্তর বঙ্গের কুড়িগ্রাম অন্যতম ,তার পরেও দরিদ্রে মানুষের বাস এ অঙ্চলে । একটি জনপদ উন্নয়নের জন্য যা অত্যন্ত জরুরি শিক্ষার ব্যবস্থা ,উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ,কর্ম-সংস্থান ইত্যাদি ,কিন্তু কাঁচামাল ও শ্রমশক্তির সহজলভ্যতার কারণে এ অঙ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠার কথা ছিল !কিন্তু তা হয় ‍নি !বরং প্রতি বছর বন্যা হয়। দুই
মাস পানিতে ডোবে থাকে অধিকাংশ এলাকা, ত্রাণের উপর তাদের জীবন চলে। বন্যায় যা ক্ষতি হয়ে যায় তা সারিয়ে নিতেই আবার পরের বছর বন্যা আসে। আবার তারা কলাগাছের ভেলায় ভেসে বন্যা পার করে। ত্রাণের মুড়ি কুড়মুড় করে চিবিয়ে পানি নেমে যাবার স্বপ্ন দেখে। আমাদের উন্নয়ন সহযোগী প্রতিবেশী দেশ খরার সময় পানিতে বাঁধ দিয়ে রাখে।  পানি নিজেদের নদীতে নিয়ে যায়। আর এদিকে উত্তর জনপদের বানভাসী মানুষ, যাদের প্রধান জীবীকাই ছিল মাছ ধরা, তারা  পানি শূন্য নদীতে শামুক আর মরা মাছ  খুঁজে । সে তো দুঃস্বপ্ন। আবার সেই বন্ধুদেশ বন্য হলেই পানি ছেড়ে দেয়। পানির প্রবল স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় এই অসহায়
মানুষগুলোকে। একবার, দুইবার, চারবার, বারবার  চক্রাকারে এই খেলা চলতে থাকে। তারা যেন জন্মপাপী। এই এলাকায় জন্মেই তারা পাপ করেছে। ভীষণ পাপ! কামারজানি নামে একটি জমজমাট হাট ছিল গাইবান্ধায়। দুর দুরান্ত থেকে লোক আসত বাজার ঘাট করার জন্য। ব্যবসা বাণিজ্যের তীর্থস্থান ছিল। সেই কামারজানিতে এখন যান। কয়েকটা দোকান ছাড়া আর কিচ্ছু নেই। খরার সময় পানি বিহনে নৌপথে আর মালামাল আসে না। আবার বন্যার সময় এই দোকানগুলোই
পানির নিচে হাবুডুবু খায়। চিলমারী, উলিপুর আগে কত উন্নত ছিল। কত ছিল তাদের নামডাক। একটা গানই তো আছে, ওকি গাড়িয়াল ভাই, হাঁকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে। সেই চিলমারী এখন মরে গেছে। তার আগের নামডাক নেই। কোলাহল নেই। নদীতে পানিই নেই। কি করে নৌকা আসবে? কি করে ব্যবসা হবে? বাণিজ্য হবে। দেশের সবচেয়ে উন্নত জনপদ আরো উন্নত হয়। যা কিছু উন্নয়ন ঘটে সব সেই সব অঞ্চলে। এক্সপ্রেসওয়ে বলুন, ট্রেনের জন্য ডাবল লাইন বলুন। নতুন কোচ বলুন। সব সেই সকল অঞ্চলে। মাত্র ২ টা ট্রেন দিয়ে ৪ টা জেলার মানুষ চলে।
নতুন ট্রেনের দাবী উঠলে দেওয়া হয় নানা অজুহাত। এই অঞ্চল যেন দেশ মাতৃকার সতীনের ঘরের সন্তান। সব কিছুই পরে পরে। অগ্রগামী কিছুই নাই। কোন কলকারখানা নাই। আছে কয়েকটা কোল্ড স্টোরেজ, আর কয়েকটা বিড়ি বিড়ি বানানোর কারখানা। এই হল কুড়িগ্রামের  ইন্ডাস্ট্রি! ব্যবসায়ীরাও কারখানা বানালে বানান গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নারায়নগঞ্জ বা চট্টগ্রাম। কুড়িগ্রামের হাজার হাজার জনগন কাজ বিহনে খাঁ খাঁ করে। অথচ কত সম্ভাবনাময় এই অঞ্চল। মেধাবীরা পেটের দায়ে চলে যায় গার্মেন্টসে। বেতন পায় পাঁচ থেকে সাত হাজার। তা দিয়ে বাড়ি ভাড়াই দেবে নাকি সংসার চালাবে? ,  ব্রাজিল তাদের দেশের মধ্যাঞ্চল এর উন্নয়নের জন্য রাজধানী নিয়ে গেছে ব্রাসিলিয়ায়। অস্ট্রেলিয়া তাদের রাজধানি নিয়ে গেছে ক্যানবেরায়। পাশের দেশ
মায়ানমার ইয়াঙ্গুন থেকে রাজধানী নিয়ে গেছে নেপিইডো তে। ইউটিউবে গিয়ে দেখুন মায়ানমার কেমনআধুনিক করে বানিয়েছে নেপিউডো। আপনার মাথা খারাপ হয়ে যাবে। আমরা রাজধানী সরাতে না পারি। কিন্তু এলাকার বিকেন্দ্রীকরণ তো করতেই পারি। সব কিছুই ঢাকা ভিত্তিক কেন করতে হবে? আজ যাকেই জিজ্ঞেস করি ভাই কোথায়  থাকেন? বলে ঢাকা! ঢাকাই ঢেকে রেখেছে বাংলাদেশ। অথচ ঢাকা মানেই বাংলাদেশ নয়। সব দেশ উন্নত হয়। সকল জাতি এগিয়ে যায়। আমরা সকল উন্নয়ন একটা অঞ্চলেই আবদ্ধ রাখি। একটি বিশাল এলাকার মানুষ সব
দিক দিয়ে পিছিয়ে যায়। কারো কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। এভাবেই চলছে। চলুক না ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here