জৈতুন পর্বতে বিশ্বাস ঘাতকতা

0
50

অ্যানেট বেল

প্রভু যীশু যিহুদা কর্তৃক বিশ্বাসঘাতকতার ফল ভোগ করেছিলেন জৈতুন পর্বতে। এমনকি তার নিজস্ব পূর্ব পুরুষ দায়ুদও একই অবস্থার সম্মুখীন হন এই পর্বতে। যদি আপনি জৈতুন পর্বতের স্থানটি নির্ণিয় না করতে পারেন, তা হলো জেরুশালেম মন্দিরের পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত। বেশ কয়েকবার এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানের উল্লেখ আছে বাইবেলে [যিহেস্কেল ১১ : ২৩] হয় এই নামে নতুবা অন্য নামে উল্লেখ আছে। এই জৈতুন পর্বত থেকে যীশু স্বর্গে আহরণ করেছেন। আবার তিনি এই পর্বতেই নেমে আসবেন। [সখেরিয় ১৪ : ৪]

রাজা দায়ুদ

জৈতুন পর্বতের প্রথম উল্লেখ দেখতে পাই রাজা দায়ুদের ইসরাইলে রাজত্বকালে। তার ছেলে সোলায়মান নবী ঈশ্রাইলিওদের হৃদয় চুরি করে ন্যায্যতার নামে রাজা দায়ুদের বিদ্রোহ করেছিলেন [ ২য় সামুয়েল ১৫ : ১-৬]। অতঃপর অবশালোম হেব্রনে নিজেকে রাজা বলে ঘোষণা করলেন। [২য় সমু ১৫ : ১০] এবং তিনি রাজা দায়ুদের পরামর্শকদের অহিথিপলকে ডেকে পাঠান [২য় সমু ১৫ : ১২], ১ম বংশাবলি ২৭ : ৩৩। যখন দায়ুদ অবশালোমের ওই বিশ্বাসঘাতকতার কথা শুনলেন। তিনি বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। তিনি তার অনুগত রাজ পরিবারের সবাইকে নিয়ে জেরুশালেমের পূর্ব দিকে পালিয়ে গেলেন [২য় সমু; ১৫ : ২৩] দেশের সকলেই তখন উচ্চ স্বরে কেঁদেছিল এবং সকলেই নদী পার হয়ে রাজার সাথে মিলিত হয়েছিল। রাজাও নিজে কিদ্রেন নদী পার হয়ে মিলিত হলেন, পার হয়ে প্রান্তরের দিকে চলে গেলেন।

কিদ্রেন উপত্যকা

কিদ্রেন উপত্যকা থেকে তাকালে জেরুশালেমের পূর্ব দিকের গেট চোখে পড়বে। কিদ্রোন উপত্যকা মরিয়া পর্বতকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। এই মরিয়া পবর্তেই জেরুশালেম নির্মিত হয়েছিল। [২য় সমু ১৫ : ৩০-৩১]
তাই রাজা দায়ুদ যেখান থেকে জৈতুন পর্বত ওপরে উঠেছে সেখান থেকে পূর্ব দিকে চলে গেলেন, তিনি যাচ্ছিলেন আর কাঁদছিলেন। তার মাথা মোড়ানো ছিল কিন্তু পা ছিল খালি। তার সাথিরাও একইভাবে চলছিলেন। তখন কেউ একজন রাজা দায়ুদকে বললেন, ‘‘অবশালোমের সাথে একজন ষড়যন্ত্রকারী হচ্ছেন অহিথিপল” রাজা দায়ুদ বললেন, ‘‘হে প্রভু আমি প্রার্থনা করি তুমি অহিথিপেলের সমস্ত পরার্মশ মূর্খতায় পরিণত কর ”
শুধু মাত্র দায়ুদের ছেলে তার বিপক্ষে যাননি তার পরামর্শদাতা অহিথিপোলও গিয়েছিলেন। অহিথিপেলের পরামর্শটা সেসময় এমন ছিল যে মানুষকে তিনি বুঝিয়েছেন তার পরার্মশ এসেেছ ঈশ্বর থেকে তাই অহিথিপলের সমস্ত পরামর্শ দায়ুদ ও ঈশ্বরের পক্ষ থেকে বলে ধরে নিয়েছিলেন।
দায়ুদ সম্ভবত অহিথিপোলের বিশ্বাসঘাতকতা ব্যথা দূর হয়ে গেলে গীতসংহিতা ৫৫ : ৯ লিখেছিলেন। বিশেষ করে অহিথিপলের বিষয়ে শোনার পর তিনি যা বলেছিলেন [দ্বি; সমুয়েল ১৫ : ৩১]
গীত ৫৫ : ৯, দায়ুদ বলেছিলেন প্রভু উহাদিগকে ধ্বংস কর ওদের জিহ্বা সমূহ বিভাগ করে। কেননা আমি শহরে মাত্র ধ্বংস ও দুর্দশা দেখেছি।
এটা আমাদের শত্রুদের কাছ থেকে আসেনি, হলে তা সহ্য করতে পারতাম। এটা এসেছে এমন এক লোকের কাছ থেকে যে আমার সাক্ষাতে ঘৃণ্য কাজ করে ও নিজেকে আমার সাক্ষাতে উচ্চীকিত করে। তাহলে আমি নিজেকে তার কাছ থেকে লুকাতে পারতাম। কিন্তু সে লোক আমার সমকক্ষ ও আমার পরিচিত বন্ধু, আমরা একই সাথে সুমধুর উপদেশ গ্রহণ করতাম এবং কাঁটা যুক্ত পথে আমরা হেঁটে ঈশ্বরের গ্রহে প্রবেশ করতাম। [গীত ৫৫ : ১২-১৪]
আমার প্রিয়তম বন্ধু আমার সঙ্গে খেয়েছে। আমিও ওকে বিশ্বাস করতাম। কিন্তু এখন সেও আমার বিরুদ্ধে গিয়েছে। [গীত ৪১ : ৯]
দায়ুদ অহিথিপলের সাথে রুটি বিভাগ করে খেয়েছেন, যেমনি যীশু ও ইস্কোরতীয় যিহুদার সঙ্গে খেয়েছেন। তাঁরা যখন খাচ্ছেন সেই সময় যীশু বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তোমাদের মধ্যে একজন আমাকে শত্রুর হাতে তুলে দেবে।’ এতে শিষ্যরা খুবই দুঃখ পেয়ে এক একজন করে যীশুকে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন, ‘প্রভু, সে কি আমি?’ তখন যীশু বললেন, ‘যে আমার সঙ্গে বাটিতে হাত ডোবালো, সেই আমাকে শত্রুর হাতে সঁপে দেবে। মানবপুত্রের বিষয়ে শাস্ত্রে যেমন লেখা আছে, সেইভাবেই তাঁকে যেতে হবে। কিন্তু ধিক্ সেই লোক, যে মানবপুত্রকে ধরিয়ে দেবে। সেই লোকের জন্ম না হওযাই তার পক্ষে ভালো ছিল। যে যীশুকে শত্রুর হাতে ধরিয়ে দিতে যাচ্ছিল, সেই যিহূদা বলল, ‘গুরু সে নিশ্চয়ই আমি নই?’ যীশু তাকে বললেন, ‘তুমি নিজেই তো একথা বলছ।’ [মথি ২৬ : ২১-২৫]
এই কথা বলার পর যীশু খুবই উদ্বিগ্ন হলেন, আর খোলাখুলিই বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তোমাদের মধ্যে একজন আমাকে ধরিয়ে দেবে।’ শিষ্যরা পরস্পরের দিকে তাকাতে লাগলেন, আদৌ বুঝতে পারলেন না কার বিষয়ে তিনি বলছেন। যীশুর শিষ্যদের মধ্যে একজন ছিলেন যাকে যীশু খুবই ভালবাসতেন, তিনি যীশুর গায়ের ওপর হেলান দিয়ে ছিলেন। শিমোন পিতর এই শিষ্যকে ইশারা করলেন এবং যীশুকে জিজ্ঞেস করতে বললেন যে উনি কার সম্পর্কে বলছেন। তখন তিনি যীশুর বুকের ওপর ঝুঁকে পড়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘প্রভু, সে কে?’ যীশু বললেন, ‘আমি রুটির টুকরোটি বাটিতে ডুবিয়ে যাকে দেব সে-ই সেই লোক।’ এরপর তিনি রুটির টুকরো ডুবিয়ে শিমোন ইস্কোরয়োতের ছেলে যিহূদাকে দিলেন। যিহূদা রুটির টুকরোটি নেওযার পর শয়তান তার মধ্যে প্রবেশ করল। এরপর যীশু তাকে বললেন, ‘তুমি যা করতে যাচ্ছ তা তাড়াতাড়ি করো যাও।’ কিন্তু যাঁরা তাঁর সঙ্গে খাবার টেবিলে খেতে বসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কেউই বুঝতে পারলেন না তিনি কেন তাকে একথা বললেন। কেউ কেউ মনে করলেন, যিহূদার কাছে টাকার থলি আছে, তাই হয়তো যীশু তাকে বললেন, পর্বের জন্য যা যা প্রযোজন তা কিনে আনতে যাও; অথবা হয়তো গরীবদের ওর থেকে কিছু দান করতে বলছেন। যিহূদা রুটির টুকরোটি গ্রহণ করে সঙ্গে সঙ্গে বাইরে চলে গেল। তখন রাত হয়ে গেছে। [যোহন ১৩ : ২১-৩০] যীশু যিহুদা যেভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন, তিনি পূর্ব থেকে তা জানতেন। জীবনে সত্য বহন করেছিলেন, কেননা এসব ঘটনার তিনি মানস চক্ষে দেখেছেন।

জৈতুন পর্বতে দুঃখ ভোগ
এই প্রার্থনার পর যীশু তাঁর শিষ্যদের নিয়ে কিদ্রোন উপত্যকার ওপারে চলে গেলেন। সেখানে একটি বাগান ছিল। যীশু তাঁর শিষ্যদের নিয়ে সেই বাগানের মধ্যে ঢুকলেন। যীশু তাঁর শিষ্যদের নিয়ে প্রায়ই সেখানে আসতেন। এইজন্য যিহূদা সেই স্থানটি জানত। এই যিহূদা যীশুর সঙ্গে প্রতারণা করেছিল। [যোহন ১৮ : ১-২] গেৎসিমানি বাগানটা ছিল জৈতুন পর্বতের পাদদেশে, ছবিতে অনেট চার্চকে স্পষ্ট দেখাযায় যা জেরুশালেমের বাইরে থেকে তোলা এবং চারিদিকে জীৎ বৃক্ষর মেলা।
লূক ও মথির বিবরণে এ বিষয়ে বিষাদভাবে লেখা হয়েছে। তাই আমি উভয় পুস্তক থেকেই উল্লেখ করছি।
এরপর তিনি তাঁর নিয়ম অনুসারে জৈতুন পর্বতমালায় চলে গেলেন। শিষ্যরা তাঁর পেছন পেছনে চললেন। সেই জায়গায় পৌঁছে তিনি তাঁদের বললেন, ‘প্রার্থনা কর যেন তোমরা প্রলোভনে না পড়।’ পরে তিনি শিষ্যদের থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করতে লাগলেন। তিনি বললেন, পিতা যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে এই পানপাত্র আমার কাছ থেকে সরিয়ে নাও। হ্যাঁ, তবুও আমার ইচ্ছা নয়, তোমার ইচ্ছাই পূর্ণ হোক!’ এরপর স্বর্গ থেকে একজন স্বর্গদূত এসে তাঁকে শক্তি জোগালেন। নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণার সঙ্গে যীশু আরও আকুলভাবে প্রার্থনা করতে লাগলেন। সেই সময় তাঁর গা দিয়ে রক্তের বড়ো বড়ো ফোঁটার মতো ঘাম ঝরে পড়ছিল। প্রার্থনা থেকে উঠে তিনি শিষ্যদের কাছে এসে দেখলেন, মনের দুঃখে অবসন্ন হয়ে তারা সকলে ঘুমিয়ে পড়েছেন। তিনি তাঁদের বললেন, ‘তোমরা ঘুমাচ্ছ কেন? ওঠ, প্রার্থনা কর যেন প্রলোভনে না পড়।’ [ লুক ২২ : ৩৯-৪৬]

গেৎসিমানি বাগান

যীশুর দুঃখভোগ ও কষ্টের বিবরণ অধ্যয়ন করা কষ্ট সাধ্য। কারণ যখন আমি ভাবি, আমারই পাপের জন্য যীশুর এ দশা হয়েছে। এরপর যীশু তাঁদের সঙ্গে গেত্শিমানী নামে একটা জায়গায় গিয়ে তাঁর শিষ্যদের বললেন, ‘আমি ওখানে গিয়ে যতক্ষণ প্রার্থনা করি, তোমরা এখানে বসে থাক।’ এরপর তিনি পিতর ও সিবদিয়ের দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে চলতে থাকলেন। যেতে যেতে তাঁর মন উদ্বেগ ও ব্যথায় ভরে গেল, তিনি অভিভূত হয়ে পড়লেন। তখন তিনি তাদের বললেন, ‘দুঃখে আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। তোমরা এখানে থাক আর আমার সঙ্গে জেগে থাকো।’ পরে তিনি কিছু দূরে গিয়ে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে প্রার্থনা করে বললেন, ‘আমার পিতা, যদি সম্ভব হয় তবে এই কষ্টের পানপাত্র আমার কাছ থেকে দূরে যাক; তবু আমার ইচ্ছামতো নয়, কিন্তু তোমারই ইচ্ছা পূর্ণ হোক।’ এরপর তিনি শিষ্যদের কাছে ফিরে গিয়ে দেখলেন, তাঁরা ঘুমাচ্ছেন। তিনি পিতরকে বললেন, ‘একি! তোমরা আমার সঙ্গে এক ঘণ্টাও জেগে থাকতে পারলে না? জেগে থাক ও প্রার্থনা কর যেন প্রলোভনে না পড়। তোমাদের আত্মা ইচ্ছুক বটে, কিন্তু দেহ দুর্বল।’ তিনি গিয়ে আর একবার প্রার্থনা করলেন, ‘হে আমার পিতা, এই দুঃখের পানপাত্র থেকে আমি পান না করলে যদি তা দূর হওযা সম্ভব না হয় তবে তোমারই ইচ্ছা পূর্ণ হোক।’ পরে তিনি ফিরে এসে দেখলেন, শিষ্যরা আবার ঘুমিয়ে পড়েছেন, কারণ তাদের চোখ ভারী হয়ে গিয়েছিল। তখন তিনি তাঁদের ছেড়ে চলে গেলেন ও তৃতীয় বার প্রার্থনা করলেন। তিনি আগের মতো সেই একই কথা বলে প্রার্থনা করলেন। পরে তিনি শিষ্যদের কাছে এসে বললেন, ‘তোমরা এখনও ঘুমিয়ে রয়েছ ও বিশ্রাম করছ? শোন, সময় ঘনিয়ে এল, মানবপুত্রকে পাপীদের হতে তুলে দেওযা হবে। ওঠ, চল আমরা যাই! ঐ দেখ! যে লোক আমায় ধরিয়ে দেবে, সে এসে গেছে।’ [মথি ২৬ : ৩৬-৪৬]
যীশু একইভাবে আমাদেরকে তার দুঃখ ভোগের বিবরণ দিয়ে গেছেন। তার দুঃখভোগের বিবরণ নিজের কষ্টটাকে উপলব্ধি করে নয়। বরং তার শিষ্যদের সেবার উদ্দেশ্য তা দেখিয়ে ছিলেন। তিনি বারবার এ প্রার্থনা করেছিলেন। প্রার্থনা কর যেন পরীক্ষায় না পড় [লুক ২২ : ৪৫] বলা আছে দুঃখের কাতরতায় শিষ্যরা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।
সাধু পৌলও একই উদাহরণ দিয়েছেন, সাধু পৌল তার সমস্ত কঠিন অবস্থার মধ্যে সে বিষয়গুলো চিন্তা করেছিলেন, লিখে রেখেছিলেন ও ম-লীর সাথে সহভাগিতা করেছিলেন। এবং দেখিয়ে ছিলেন যে এ রকম ত্যাগ শুধু ঈশ্বরের ক্ষমতায়ই করা সম্ভব। শিষ্যরা প্রার্থনা করার জন্য জেগে থাকতে পারেনি। কিন্তু আমি যা লিখছি, তা লিখছি কারণ কেবল মাত্র প্রার্থনার মাধ্যমে প্রলোভনকে জয় করা সম্ভব।

যীশু খ্রীষ্ট বন্দি হন
এরপর যীশু তাঁদের সঙ্গে গেত্শিমানী নামে একটা জায়গায় গিয়ে তাঁর শিষ্যদের বললেন, ‘আমি ওখানে গিয়ে যতক্ষণ প্রার্থনা করি, তোমরা এখানে বসে থাক।’ এরপর তিনি পিতর ও সিবদিয়ের দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে চলতে থাকলেন। যেতে যেতে তাঁর মন উদ্বেগ ও ব্যথায় ভরে গেল, তিনি অভিভূত হয়ে পড়লেন। তখন তিনি তাদের বললেন, ‘দুঃখে আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। তোমরা এখানে থাক আর আমার সঙ্গে জেগে থাকো।’ পরে তিনি কিছু দূরে গিয়ে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে প্রার্থনা করে বললেন, ‘আমার পিতা, যদি সম্ভব হয় তবে এই কষ্টের পানপাত্র আমার কাছ থেকে দূরে যাক; তবু আমার ইচ্ছামতো নয়, কিন্তু তোমারই ইচ্ছা পূর্ণ হোক।’ এরপর তিনি শিষ্যদের কাছে ফিরে গিয়ে দেখলেন, তাঁরা ঘুমাচ্ছেন। তিনি পিতরকে বললেন, ‘একি! তোমরা আমার সঙ্গে এক ঘন্টাও জেগে থাকতে পারলে না? জেগে থাক ও প্রার্থনা কর যেন প্রলোভনে না পড়। তোমাদের আত্মা ইচ্ছুক বটে, কিন্তু দেহ দুর্বল।’ তিনি গিয়ে আর একবার প্রার্থনা করলেন, ‘হে আমার পিতা, এই দুঃখের পানপাত্র থেকে আমি পান না করলে যদি তা দূর হওযা সম্ভব না হয় তবে তোমার ইচ্ছাই পূর্ণ হোক।’ পরে তিনি ফিরে এসে দেখলেন, শিষ্যরা আবার ঘুমিয়ে পড়েছেন, কারণ তাদের চোখ ভারী হয়ে গিয়েছিল। তখন তিনি তাঁদের ছেড়ে চলে গেলেন ও তৃতীয় বার প্রার্থনা করলেন। তিনি আগের মতো সেই একই কথা বলে প্রার্থনা করলেন। পরে তিনি শিষ্যদের কাছে এসে বললেন, ‘তোমরা এখনও ঘুমিয়ে রয়েছ ও বিশ্রাম করছ? শোন, সময় ঘনিয়ে এল, মানবপুত্রকে পাপীদের হতে তুলে দেওযা হবে। ওঠ, চল আমরা যাই! ঐ দেখ! যে লোক আমায় ধরিয়ে দেবে, সে এসে গেছে। ’ [যোহন ১৮ : ১-১১]
সাধু যোহনের সুসমাচারেও সেই বিখ্যাত ঘটনার কথা লেখা আছে।” যখন যীশু বললেন আমিই সেই, তখন সৈন্যরা ভূমিতে পড়ে গেল। এ বর্ণনা আমার কাছে খুবেই ভালো লাগে।
তিনি তখনও কথা বলছেন, এমন সময় সেই বারোজন শিষ্যের মধ্যে একজন, যিহূদা সেখানে এসে হাজির হল, তার সঙ্গে বহুলোক ছোরা ও লাঠি নিয়ে এল। প্রধান যাজকরা ও সমাজপতিরা এদের পাঠিয়েছিলেন। যে তাঁকে ধরিয়ে দিচ্ছিল, সে ঐ লোকদের একটা সাঙ্কেতিক চিহ্ন দিয়ে বলেছিল, ‘আমি যাকে চুমু দেব, সে ঐ লোক, তাকে তোমরা ধরবে।’ এরপর যিহূদা যীশুর কাছে এগিয়ে এসে বলল, ‘গুরু, নমস্কার,’ এই বলে সে তাঁকে চুমু দিল। [মথি ২৬ : ৪৭-৪৯]
কিন্তু আমার শত্রুরা ঈশ্বরকে ভয় করে না বা তাঁকে শ্রদ্ধাও করে না। তারা তাদের হৃদয় এবং জীবন বদলাবে না। ওরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এবং নিজের বন্ধুদের আক্রমণ করে। [ গীত ৫৫ : ২০-২১]
যীশু তাকে বললেন, ‘যিহূদা তুমি কি চুমু দিয়ে মানবপুত্রকে ধরিয়ে দেবে? [লুক ২২ : ৪৮]
যীশুর চারপাশে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা তখন বুঝতে পারলেন কী ঘটতে চলেছে। তাঁরা বললেন, ‘প্রভু, আমরা কি তলোযার নিয়ে ওদের আক্রমণ করব?’ তাঁদের মধ্যে একজন মহাযাজকের চাকরের ডান কান কেটে ফেললেন। এই দেখে যীশু বললেন, ‘থামো! খুব হয়েছে।’ আর তিনি সেই চাকরের কান স্পর্শ করে তাকে সুস্থ করলেন। এরপর যীশু, যাঁরা তাঁকে ধরতে এসেছিল, সেই প্রধান যাজক, মন্দির রক্ষী বাহিনীর পদস্থ কর্মচারীদের ও ইহুদী সমাজপতিদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘ডাকাত ধরতে লোকে যেমন বের হয় তোমরাও কি সেরকম ছোরা ও লাঠি নিয়ে আমাকে ধরতে এসেছ? প্রত্যেক দিনই তো আমি তোমাদের হাতে মন্দিরেই ছিলাম, তখন তো তোমরা আমায় স্পর্শ করনি, কিন্তু এই তোমাদের সময়, অন্ধকারের রাজত্বের এই তো সময়।’ [ লুক ২২ : ৪৯- ৫৩]
দৃঢ় অবস্থায় যীশু সাহসের সঙ্গে যে উত্তর দিয়েছিলেন, তা বিষেশভাবে প্রণিধানযোগ্য এমনকি, মালাকার্সের কাটা কান তিনি ভালো করে দিয়েছিলেন তার ব্যক্তিগত, যন্ত্রণার ঊর্ধ্বে। অন্যকে সেবা করার ঔদার্য্যতা তিনিই দেখাতে পারেন।

দুঃখের সাথে পরিচয়
যীশুর মহান কাজের মধ্যে একটি বিশেষ বিবরণ আমরা দেখতে পাই যিশাইয় ৫৩ অধ্যায়, লোকে তাকে ঘৃণা করেছিল, তার বন্ধুরা তাকে ত্যাগ করেছিল। তার প্রচুর দুঃখ ছিল। অসুস্থতার বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা ছিল। লোকরা তার কাছ থেকে লুকিয়ে থাকত। আমরা তাকে ঘৃণা করতাম। আমরা তার কথা চিন্তাও করিনি। কিন্তু সে আমাদের অসুখগুলোকে বয়ে বেড়িয়েছিল। সে আমাদের যন্ত্রণা ভোগ করেছিল। এবং আমরা মনে করেছিলাম ঈশ্বর তাকে শাস্তি দিচ্ছেন। তার কোনো কৃতকর্মের জন্য ঈশ্বর তাকে শাস্তি দিচ্ছেন বলে আমরা মনে করেছিলাম। কিন্তু আমাদেরই ভুল কাজের জন্য তাকে আহত হতে হয়েছিল। আমাদের পাপের জন্য সে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল। আমাদের কাক্সিক্ষত শাস্তি সে পেয়েছিল। তার আঘাতের জন্য আমাদের আঘাত সেরে উঠেছিল। আমরা সবাই হারিযে যাওয়া মেষের মতো ঘুরে বেড়িয়েছিলাম। আমরা সবাই আমাদের নিজেদের পথে গিয়েছিলাম যখন প্রভু আমাদের সব শাস্তি তাকে দিয়ে ভোগ করাচ্ছিলেন। [যিশাইয়া ৫৩ : ৩-৬ ]
কথাটা খ্রীষ্টের বেলায়ও প্রযোজ্য। খ্রীষ্ট মহাযাজক হয়ে গৌরব দেবার জন্য নিজেকে মনোনীত করেননি। কিন্তু ঈশ্বরই খ্রীষ্টকে মনোনীত করেছেন। ঈশ্বর খ্রীষ্টকে বলেছিলেন,‘তুমি আমার পুত্র, আজ আমি তোমার পিতা হলাম।’ গীতসংহিতা ২:৭ ৬ আর অন্য গীতে ঈশ্বর বললেন, ‘তুমি মল্কীষেদকের মতো চিরকালের জন্য মহাযাজক হলে।’ গীতসংহিতা ১১০ : ৪ খ্রীষ্ট যখন এ জগতে ছিলেন তখন সাহায্যের জন্য তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। ঈশ্বরই তাঁকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে সমর্থ আর যীশু ঈশ্বরের নিকট প্রবল আর্তনাদ ও অশ্রুজলের সঙ্গে প্রার্থনা করেছিলেন। ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি তাঁর নম্রতা ও বাধ্যতার জন্য ঈশ্বর যীশুর প্রার্থনার উত্তর দিয়েছিলেন। যীশু ঈশ্বরের পুত্র হওয়া সত্ত্বেও দুঃখভোগ করেছিলেন ও দুঃখভোগের মধ্য দিয়ে বাধ্যতা শিখেছিলেন। এইভাবে যীশু মহাযাজকরূপে পূর্ণতা লাভ করলেন; আর তাই তাঁর বাধ্য সকলের জন্য তিনি হলেন চিরকালের পরিত্রাণের পথ। ঈশ্বর এইজন্যে তাঁকে মল্কীষেদকের মতো মহাযাজক বলে ঘোষণা করলেন। পরের উদ্ধারের জন্য যীশুকে যে দুঃখ ভোগ স্বীকার করতে হয়েছিলেন তা আমাদের বোধগম্যের জন্যও দেওয়া হয়েছিল।
[ ইব্রীয় ৫ : ৫-১০], যীশু পাপীদের পাপে কষ্ট ভোগ করেছিলেন, যেন আমরা আমাদের পাপ থেকে মুক্তি পেয়ে পবিত্র ঈশ্বরের সাথে যুক্ত হতে পারি। আপনি এ পর্যন্ত পড়ার পর আপনার পাপ ক্ষমা হয়েছে কিনা সন্দিহান হলে, আমি আপনাকে আমার লেখা বিশ্বস্ততা পৃষ্ঠাটি একবার পড়তে অনুরোধ জানাব। সাথে পরিত্রণের বিষয়টিও পড়েন ও সেই সাথে ধ্যানের সাথে প্রার্থনা করুন। আপনি যদি জেনে থাকেন যে, আপনি একজন খ্রীষ্টের বিশ্বসী নন তথাপি আমি এই বিষয়গুলো একান্ত পবিত্র মনে করে একটি উচ্চ মার্গিয় বিষয় বর্ণনা করলাম যেন আপনি জানতে পারেন যীশু কেন পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং মারা গিয়েছিলেন।

উৎসাহ
যখন আমরা যীশুর ত্যাগ স্বীকারের মধ্যে দিয়ে তার মৃত্যুর বিষয় পালন করি, আমি চাই আপনারাও পবিত্র বাইবেল থেকে এ বিষয়ে উৎসাহ পান। যদিও আপনার কোনো বন্ধু আপনার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করে, মনে রাখবেন আপনাদের জন্য যীশু এক বন্ধু আছে।
গীত সংহীতায় সাধু দায়ুদ কীভাবে তার বন্ধুর জন্য তার প্রাণ এভাবেই বিগলিত করেছেন তার উল্লেখ পাই, যারা তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল সাহায্যের জন্য আমি ঈশ্বরকে ডাকব, প্রভু অবশ্যই আমাকে উদ্ধার করবেন। সন্ধ্যায়, সকালে, দুপুরে আমি ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলি। আমি তাঁকে বলব, কোন বিষয় আমাকে ক্লেশগ্রস্ত করে এবং তিনি আমার কথা শোনেন। আমি অনেক যুদ্ধ করেছি। সর্বদাই ঈশ্বর আমায় উদ্ধার করেছেন এবং নিরাপদে ফিরিয়ে এনেছেন। [গীত ৫৫ : ১৬-১৮] আমার শত্রুরা খুব মসৃণভাবে কথা বলে, শান্তির কথা বললেও ওরা যুদ্ধের পরিকল্পনা করে। ওদের কথা মাখনের মতো মসৃণ, কিন্তু ঐসব কথা ছুরির মতোই কাটে। [গীত ৫৫ : ২২]
যীশু শারীরিক কষ্ট ভোগ এখন শেষ হয়েছে। এখন তিনি পিতার দক্ষিণে বসে আমাদের জন্য নিবেদন করছেন। আমাদের মহাযাজক যীশু আমাদের দুর্বলতার কথা জানেন। যীশু এই পৃথিবীতে সবরকমভাবে প্রলোভিত হয়েছিলেন। আমরা যেভাবে পরীক্ষিত হই যীশু সেইভাবেই পরীক্ষিত হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কখনও পাপ করেননি। সেইজন্যে বিশ্বাসে ভর করে করুণা সিংহাসনের সামনে এসে উদ্ধার পেতে এবং প্রয়োজনে আমরা দয়া ও অনুগ্রহ পেতে পারি। [ইব্রীয় ৪ : ১৫-১৬]
আপনি জানেন যে আমি মানসিকভাবে প্রচ- বিপর্যস্ত। আমি যে কত কেঁদেছি তাও আপনি জানেন। আপনি নিশ্চয় আমার চোখের জলের হিসেব রেখেছেন। [গীত ৫৬ : ৮]
এছাড়াও যীশু দেখেন যে আমারা মন্দতার দ্বারা তাড়িত হই তখন তিনি পবিত্র আত্মার মাধ্যমে শক্তিমান করেন। কারণ তিনি বিচারকও বটে। একদিন পাপীদের সমস্ত মন্দতাকে মৃত্যুতে অথবা ২য় মৃত্যুতে সমর্পণ করবেন। এবং আমাদের চোখের জল মুছে দিবেন। [রোমীয় ২১ : ৪] আমেন।

বিশ্বাসঘাতকদের মৃত্যু

দায়ুদ রাজা অহিথিপলের জন্য যে প্রার্থনা করেছিলেন তা যিহুদার জন্য প্রযোজ্য, যেন অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে মৃত্যু এসে আমার শত্রুদের গ্রাস করে! পৃথিবী ফাঁক হয়ে যাক এবং ওদের জীবন্ত গিলে ফেলুক! কেন? কারণ ওরা সবাই মিলে ভয়ঙ্কর সব কু-পরিকল্পনা করে, [গীত ৫৫ : ১৫]
তোমার যোদ্ধাদের প্রভুর কাছে সমর্পণ কর তিনি তোমাদের যত্ন নেবেন। ঈশ্বর ভালো লোকদের পরাজিত হতে দেবেন না। [গীত ৫৫ : ২৩ ]
আমি যখন এসমস্ত বিষয় লিখছি তখন আমি অবাক দৃষ্টিতে খেয়াল করলাম যে, দায়ুদ ও যীশুর বিশ্বাস ঘাতকদের একইভাবে মৃত্যু হয়েছে [অহিথিপল ও যিহুদা ] তারা উভয়েই গাছে ঝুলে আত্মহত্যা করেছিল। আমরা স্পষ্ট ভাবে দেখতে পাই যে, অহিথিপল ছিল যিহুদার পথপ্রদর্শক।
হয়ত বা মনে আছে, দায়ুদ প্রার্থনা করেছিলেন যেন অহিথিপেলের সমস্ত বুদ্ধি মূর্খতায় পরিণত হয় সেই মতো সোলায়মান ও হোসাইয়ার পরামর্শ মতো কাজ করেনি।
সবচেয়ে যে ছোট তার নাম দায়ূদ। ওঁর তিন দাদা শৌলের সৈন্যদলে যোগ দিয়েছিল। [২য় শামু ১৭ : ১৪]
তারপর ওদের সঙ্গে দেখা করে দায়ুদ একথা বলতে লাগলেন। তারপর গাতের সেরা যোদ্ধা গলিয়াত্ তাঁবু থেকে বেরিয়ে এলো এবং যথারীতি ইস্রায়েলীয়দের বিরুদ্ধে গর্জাতে লাগল। তার কথাগুলো দায়ূদ সবই শুনলেন। [২য় শামু ১৭ : ২৩], যীশুকে শত্রুদের হাতে যে ধরিয়ে দিয়েছিল, সেই যিহূদা যখন দেখল যীশুকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তখন তার মনে খুব ক্ষোভ হলো। সে তখন যাজকদের ও সমাজপতিদের কাছে গিয়ে সেই ত্রিশটা রুপোর টাকা ফিরিয়ে দিয়ে বলল, ‘একজন নিরপরাধ লোককে হত্যা করার জন্য আপনাদের হাতে তুলে দিয়ে তাঁর প্রতি আমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি, আমি মহাপাপ করেছি। ইহুদী নেতারা বলল, ‘তাতে আমাদের কি? তুমি বোঝগে যাও।’ তখন যিহূদা সেই টাকা মন্দিরের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলে দিল, পরে বাইরে গিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে মরল। প্রধান যাজকরা সেই রুপোর টাকাগুলি কুড়িয়ে নিয়ে বললেন, ‘মন্দিরের তহবিলে এই টাকা জমা করা আমাদের বিধি-ব্যবস্থা বিরুদ্ধ কাজ, কারণ এটা খুনের টাকা।’ তাই তারা পরামর্শ করে ঐ টাকায় কুমোরদের একটা জমি কিনলেন। যেন জেরুশালেমে যেসব বিদেশী মারা যাবে, তাদের সেখানে কবর দেওযা যেতে পারে। সেই জন্য ঐ কবরখানাকে আজও লোকে ‘রক্তক্ষেত্র’ বলে। এর ফলে ভাববাদী যিরমিয়র ভাববাণী পূর্ণ হলো: ‘তারা সেই ত্রিশটা রুপোর টাকা নিল, এটাই হলো তাঁর মূল্য, ইশ্রায়েলের জনগণই তাঁর মূল্য নির্ধারণ করেছিল। আর প্রভুর নির্দেশ অনুসারেই সেই টাকা দিয়ে তারা কুমোরের জমি কিনেছিল।’। [মথি ২৭ : ৩-১০]
এই লোক তার এই অন্যায় কাজের দ্বারা অর্থ রোজগার করে তাই দিয়ে এক টুকরো জমি কিনেছিল; কিন্তু সে মাথাটা নিচু করে মাটিতে পড়ল, আর তার পেট ফেটে ভেতরের নাড়ী-ভুঁড়ি সব বেরিয়ে পড়ল। যাঁরা জেরুশালেমে বাস করে, তারা সকলেই একথা জানে। তাই সেই জমিটিকে তাদের ভাষায় বলে হকলদামা যার অর্থ, ‘রক্তের ভূমি।’ [প্রেরিত ১ : ১৮-১৯]

রাজা দায়ুদের দুঃখ-কষ্টের ভবিষ্যতবাণী যীশু খ্রীষ্টের দুঃখ-কষ্টের মাধ্যমে পূর্ণ হলো। ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞার কত যে সুন্দর ছবি আমাদের সামনে দৃশ্যমান যা রোমীয় ৮ : ২৮ পদে দেখা যায়।
আর আমরা জানি, যারা ঈশ্বরকে প্রেম করে, যারা তাঁর সঙ্কল্প অনুসারে আহূত, তাদের পক্ষে সকলেই মঙ্গলার্থে একসঙ্গে কাজ করছে। রোমীয় ৮ : ২৮
[overcomingthetribulation.com ওয়েব সাইট থেকে সংগৃহিত Betrayal on the Mount of Olives লেখার বাংলা অনুবাদ।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here